ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তিন-চার কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন পাস

শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরাতে আইসিসিতে যাচ্ছে সরকার

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৩৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিসি) যাওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এছাড়া আগামী তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন পাস করা হবে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এটি অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

এদিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত সোমবার শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়। আর রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড। এদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও কামাল ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থান করছেন।
রায়ের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আবারও আহ্বান জানায়। তবে এবার শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আভাস দিলেন আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল- ওনাদের প্রত্যর্পণের জন্য আমরা চিঠি দিচ্ছি। পাশাপাশি ওনাদের প্রত্যর্পণ করার জন্য, যেহেতু ওনারা এখন দোষী সাব্যস্ত, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত, কাজেই আমরা মনে করি ভারতের এখন বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে তাদের ফেরত দেওয়ার।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বিচারের আকাঙ্ক্ষা, সেটা পূরণ করার জন্য এই দায়িত্ব পালনে ভারত যেন আমাদের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তার বাধ্যবাধকতা পালন করে, সেজন্য সেটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক যে অপরাধ আদালত রয়েছে, সেখানে কোনোভাবে যেতে পারি কিনা, সেটা বিচার-বিবেচনা করার জন্য আমরা অচিরেই বসে সিদ্ধান্ত নেব।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনারা কতটুকু আশাবাদী? উপদেষ্টা জবাব দেন, ‘আপনার প্রশ্নের মধ্যে যতটুক আশাবাদ আছে, ততটুকুই আশাবাদী আমরা।’
সোমবারের রায়ের পর থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বুধবার এ নিয়ে কথা বলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ ঢাকা করেছে, নয়াদিল্লি তা গ্রহণ করবে বলে তিনি মনে করেন না।’
গণভোটে আইন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার: সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা বলেন, একটি ঐতিহাসিক রায় হয়েছে। দীর্ঘদিন সংগ্রাম করার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পাওয়া গিয়েছিল। এটি ভোটের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কয়েকটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখা গিয়েছিল। ¶মতাসীন দল পরাজিত হতো। এটা স্বাভাবিক মনে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে রায় দিয়ে এটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর এর সুযোগ নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটিকে বাতিল করে।
আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমে পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়েছে মাস দু-এক আগে এক রায়ে। আর আজকে (গতকাল) সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ বলে যে রায় দিয়েছিলেন, সেটা বাতিল হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এ মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলতে পারি। কিন্তু এটা কার্যকর হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে। কারণ, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়। এখন সংসদের অস্তিত্ব নেই। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আগামীতে যে সংসদ গঠিত হবে, সেই সংসদ যখন ভেঙে যাবে, তারপর ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে।
গণভোট করার জন্য আইন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোট আইন আমরা খুব দ্রুত করতে যাচ্ছি। এই উইকে (এ সপ্তাহে) করে ফেলবে। ধরেন আগামী তিন বা চার কার্যদিবসের মধ্যে হয়ে যাবে।’

তিন-চার কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন পাস

শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরাতে আইসিসিতে যাচ্ছে সরকার

প্রকাশ : ০২:৩৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিসি) যাওয়ার কথা ভাবছে সরকার। এছাড়া আগামী তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে গণভোট আইন পাস করা হবে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এটি অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

এদিন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত সোমবার শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামন খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়। আর রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের হয় পাঁচ বছর কারাদণ্ড। এদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও কামাল ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থান করছেন।
রায়ের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আবারও আহ্বান জানায়। তবে এবার শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার আভাস দিলেন আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল- ওনাদের প্রত্যর্পণের জন্য আমরা চিঠি দিচ্ছি। পাশাপাশি ওনাদের প্রত্যর্পণ করার জন্য, যেহেতু ওনারা এখন দোষী সাব্যস্ত, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত, কাজেই আমরা মনে করি ভারতের এখন বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে তাদের ফেরত দেওয়ার।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বিচারের আকাঙ্ক্ষা, সেটা পূরণ করার জন্য এই দায়িত্ব পালনে ভারত যেন আমাদের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তার বাধ্যবাধকতা পালন করে, সেজন্য সেটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক যে অপরাধ আদালত রয়েছে, সেখানে কোনোভাবে যেতে পারি কিনা, সেটা বিচার-বিবেচনা করার জন্য আমরা অচিরেই বসে সিদ্ধান্ত নেব।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনারা কতটুকু আশাবাদী? উপদেষ্টা জবাব দেন, ‘আপনার প্রশ্নের মধ্যে যতটুক আশাবাদ আছে, ততটুকুই আশাবাদী আমরা।’
সোমবারের রায়ের পর থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বুধবার এ নিয়ে কথা বলেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ ঢাকা করেছে, নয়াদিল্লি তা গ্রহণ করবে বলে তিনি মনে করেন না।’
গণভোটে আইন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার: সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা বলেন, একটি ঐতিহাসিক রায় হয়েছে। দীর্ঘদিন সংগ্রাম করার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পাওয়া গিয়েছিল। এটি ভোটের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কয়েকটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখা গিয়েছিল। ¶মতাসীন দল পরাজিত হতো। এটা স্বাভাবিক মনে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে রায় দিয়ে এটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর এর সুযোগ নিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটিকে বাতিল করে।
আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমে পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হয়েছে মাস দু-এক আগে এক রায়ে। আর আজকে (গতকাল) সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ বলে যে রায় দিয়েছিলেন, সেটা বাতিল হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, এ মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলতে পারি। কিন্তু এটা কার্যকর হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে। কারণ, সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়। এখন সংসদের অস্তিত্ব নেই। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আগামীতে যে সংসদ গঠিত হবে, সেই সংসদ যখন ভেঙে যাবে, তারপর ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে।
গণভোট করার জন্য আইন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোট আইন আমরা খুব দ্রুত করতে যাচ্ছি। এই উইকে (এ সপ্তাহে) করে ফেলবে। ধরেন আগামী তিন বা চার কার্যদিবসের মধ্যে হয়ে যাবে।’