ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিহত -১০, আহত ছয় শতাধিক

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাপল ঢাকা, বিশেষজ্ঞরা বলছেন মহা বিপদ সংকেত

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পের সশয় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে চারদিকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে। এটি বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই অনুভূত হয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সারাদেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে পাঁচজন এবং ঢাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক।
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের লম্বা সারি দেখা গেছে। কারও ভেঙেছে হাত-পা, কারও মেরুদণ্ডের হাড়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে, মাথা ঘুরে পড়ে ও ভারী বস্তু চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। আহতদের চিকিৎসায় লম্বা সারি পড়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতালে)।
ভূমিকম্পের সময় ভবন ধস, দেয়াল চাপাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢামেক হাসপাতালে অনেক রোগী নিয়ে আসা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হয়। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। এ সময় লোকজনকে ঘর থেকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
রাজধানীর বাসিন্দারা বলেন, হঠাৎ করে আমি খাট থেকে পড়ে গেছি। আমার টেবিলের বই সব পড়ে গেছে, দৌড়ে নিচে চলে গেলাম। বাসার পাশের সবাই নিচে নেমে এসেছেন। মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী। ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাব কোনো ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ভূমিকম্পটি ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত। ঢাকার জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ নগর কাঠামো, অপরিকল্পিত নির্মাণ পদ্ধতি এবং দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে রাজধানী যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণÑ তা আবারো সামনে এনে দিয়েছেন প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষকরা। তাদের মতে, এখনই কঠোরভাবে ভবন পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় মেরামত এবং নাগরিকদের নিয়মিত মহড়াÑ এসব ছাড়া ভয়াবহ প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধস ঠেকানো সম্ভব হবে না। ওই ভূ-কম্পন শুধু ফাটল ধরানো নয়, আমাদের প্রস্তুতির দুর্বলতাকেও উন্মোচন করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা তাই জোর দিয়ে বলছেনÑ ঢাকার ২১ লাখেরও বেশি ভবন পরীক্ষা, কোড অনুযায়ী মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন এখন আর বিলম্বের অবকাশ রাখে না।

নিহত -১০, আহত ছয় শতাধিক

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাপল ঢাকা, বিশেষজ্ঞরা বলছেন মহা বিপদ সংকেত

প্রকাশ : ০৩:০০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পের সশয় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে চারদিকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির বলেন রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে। এটি বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই অনুভূত হয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে সারাদেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে পাঁচজন এবং ঢাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক।
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের লম্বা সারি দেখা গেছে। কারও ভেঙেছে হাত-পা, কারও মেরুদণ্ডের হাড়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে, মাথা ঘুরে পড়ে ও ভারী বস্তু চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। আহতদের চিকিৎসায় লম্বা সারি পড়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতালে)।
ভূমিকম্পের সময় ভবন ধস, দেয়াল চাপাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢামেক হাসপাতালে অনেক রোগী নিয়ে আসা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি তৈরি হয়। প্রায় ২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। এ সময় লোকজনকে ঘর থেকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
রাজধানীর বাসিন্দারা বলেন, হঠাৎ করে আমি খাট থেকে পড়ে গেছি। আমার টেবিলের বই সব পড়ে গেছে, দৌড়ে নিচে চলে গেলাম। বাসার পাশের সবাই নিচে নেমে এসেছেন। মানুষ খুবই উদ্বিগ্ন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী। ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাব কোনো ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহত সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের চোখে এই ভূমিকম্পটি ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের একটি স্পষ্ট সতর্কসংকেত। ঢাকার জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ নগর কাঠামো, অপরিকল্পিত নির্মাণ পদ্ধতি এবং দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে রাজধানী যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণÑ তা আবারো সামনে এনে দিয়েছেন প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষকরা। তাদের মতে, এখনই কঠোরভাবে ভবন পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় মেরামত এবং নাগরিকদের নিয়মিত মহড়াÑ এসব ছাড়া ভয়াবহ প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধস ঠেকানো সম্ভব হবে না। ওই ভূ-কম্পন শুধু ফাটল ধরানো নয়, আমাদের প্রস্তুতির দুর্বলতাকেও উন্মোচন করে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা তাই জোর দিয়ে বলছেনÑ ঢাকার ২১ লাখেরও বেশি ভবন পরীক্ষা, কোড অনুযায়ী মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেশন এখন আর বিলম্বের অবকাশ রাখে না।