ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড, নয় মাসে বেড়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১০:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বেড়েছে। এ অবস্থায় আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আবার ঋণ খেলাপি হওয়ার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণেও দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যেসব ঋণ নবায়ন করা হয়, তার অনেকগুলো আদায় হচ্ছে না। অনিয়মের কারণে অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চে নন-পারফর্মিং ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এক বছর আগে গত বছরের জুনে এ হার ছিল মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি বছরের জুনের শেষে মোট ঋণ ও অগ্রিম দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখ না করলেও ত্রৈমাসিক হিসাব অনুযায়ী, বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশই খেলাপি।
গত বছরের জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
তাদের মতে, গত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, প্রতারণা ও দুর্বল নজরদারির ফলেই খেলাপি ঋণের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
১৯৯৯ সালে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল রেকর্ড ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর এই হার কমতে কমতে ২০১১ সালে নেমে আসে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। তারপর থেকে নন-পারফর্মিং ঋণ আবার বাড়তে শুরু করে।

 

খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড, নয় মাসে বেড়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১০:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের নতুন রেকর্ড। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বেড়েছে। এ অবস্থায় আর্থিক সুশাসন নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আবার ঋণ খেলাপি হওয়ার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণেও দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যেসব ঋণ নবায়ন করা হয়, তার অনেকগুলো আদায় হচ্ছে না। অনিয়মের কারণে অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চে নন-পারফর্মিং ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এক বছর আগে গত বছরের জুনে এ হার ছিল মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি বছরের জুনের শেষে মোট ঋণ ও অগ্রিম দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখ না করলেও ত্রৈমাসিক হিসাব অনুযায়ী, বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশই খেলাপি।
গত বছরের জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
তাদের মতে, গত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, প্রতারণা ও দুর্বল নজরদারির ফলেই খেলাপি ঋণের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
১৯৯৯ সালে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল রেকর্ড ৪১ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর এই হার কমতে কমতে ২০১১ সালে নেমে আসে ৬ দশমিক ১ শতাংশে। তারপর থেকে নন-পারফর্মিং ঋণ আবার বাড়তে শুরু করে।