ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে গাইবান্ধায় সর্বোচ্চ ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, নাটোরের সিংড়ায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে রাজধানীতেও বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি, সাদুল্লাপুরের আলী আকবর এবং আরও দুজন, যাদের একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা এলাকায় বৃষ্টির সময় বাড়ির বারান্দায় খেলারত অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাতে ফুয়াদ ও রাফি গুরুতর আহত হয়। তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সাদুল্লাপুরের কামারপাড়ায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ফুলছড়ির বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষকও বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। সাঘাটা উপজেলায় নম্বর আলী এবং ফুলছড়িতে আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরের দিকে নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় লাবণী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭) মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে লাবণী বজ্রাঘাতে নিহত হন। অপরদিকে জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইলিয়াস।

পঞ্চগড়:

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, হঠাৎ কালো মেঘ ও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে শ্রমিকরা আক্রান্ত হন। গুরুতর অবস্থায় সোহরাওয়ার্দীকে উদ্ধার করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল হামিদ (৫০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময়ে বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন হাসান আলী (২৪)। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকালে সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জমিতে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জামালপুর:

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার হাসমত আলী (৪৫) এবং মেলান্দহের মর্জিনা আক্তার (২১)। বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে হাসমত আলী বজ্রাঘাতে আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। অন্যদিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে মর্জিনার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শেফালী বেগম নামে এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাটোর:

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ধান কাটার কাজে সেখানে গিয়েছিলেন। রোববার বিকেলে চলনবিল এলাকায় কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীতে আহত শিক্ষার্থী:

এদিকে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা এলাকায় বজ্রপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী বলে জানা গেছে। রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘটনাটি ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দেশজুড়ে আকস্মিক বজ্রপাতের এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

বজ্রপাতে সারাদেশে ১৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ০৩:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে গাইবান্ধায় সর্বোচ্চ ৫ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, নাটোরের সিংড়ায় ১ জন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে রাজধানীতেও বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিশু ফুয়াদ ও তার চাচাতো ভাই রাফি, সাদুল্লাপুরের আলী আকবর এবং আরও দুজন, যাদের একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাংগা এলাকায় বৃষ্টির সময় বাড়ির বারান্দায় খেলারত অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাতে ফুয়াদ ও রাফি গুরুতর আহত হয়। তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সাদুল্লাপুরের কামারপাড়ায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ফুলছড়ির বুলবুলির চরে আলী আকবর নামে এক কৃষকও বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। সাঘাটা উপজেলায় নম্বর আলী এবং ফুলছড়িতে আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরের দিকে নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় লাবণী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭) মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে লাবণী বজ্রাঘাতে নিহত হন। অপরদিকে জমিতে ফসল দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইলিয়াস।

পঞ্চগড়:

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী (২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, হঠাৎ কালো মেঘ ও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে শ্রমিকরা আক্রান্ত হন। গুরুতর অবস্থায় সোহরাওয়ার্দীকে উদ্ধার করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় আব্দুল হামিদ (৫০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময়ে বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন হাসান আলী (২৪)। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকালে সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জমিতে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জামালপুর:

জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার হাসমত আলী (৪৫) এবং মেলান্দহের মর্জিনা আক্তার (২১)। বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে হাসমত আলী বজ্রাঘাতে আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। অন্যদিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে মর্জিনার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শেফালী বেগম নামে এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাটোর:

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ধান কাটার কাজে সেখানে গিয়েছিলেন। রোববার বিকেলে চলনবিল এলাকায় কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীতে আহত শিক্ষার্থী:

এদিকে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা এলাকায় বজ্রপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী বলে জানা গেছে। রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘটনাটি ঘটে। অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দেশজুড়ে আকস্মিক বজ্রপাতের এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।