বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অন্য পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না। নতুন এমপিও নীতিমালায় আর্থিক লাভজনক পেশায় সম্পৃক্ততার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অন্য পেশায় যুক্ত থাকার প্রমান পেলে তার এমপিও বাতিল করা হবে। নেওয়া হবে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও।
রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, ওকালতি কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় বেশিরভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষকই আয়-বর্ধক এসব পেশায় যুক্ত ছিলেন। নতুন এমপিও নীতিমালা জারির পর তারা আর অন্য পেশায় থাকে পারবেন না।
নতুন এমপিও নীতিমালার ১১ নম্বর ধারার ১৭ উপধারার ‘ক’ ও ‘খ’ বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাধিক চাকরি বা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
১১.১৭ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকুকর্মচারী একাধিক পদের চাকরি বা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। তদন্তে এটি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার।
১১.১৭ (খ) ধারায় ‘আর্থিক লাভজনক পেশা’ বলতে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা এবং আইন পেশায় কর্মের বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা সম্মানী বোঝানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে সাংবাদিকতাকে আলাদা করে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। সরকারি চাকরিজীবীর মতোই এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরাও সরকারি অর্থ পান। তাদের বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন সুবিধা সরকার দেয়।
তিনি আরও বলেন, সেজন্যই আর্থিক লাভজনক পেশায় জড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কেউ নীতিমালা লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এখন থেকে শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, ওকালতি বা যেকোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না।
দেশ প্রতিবেদক 









