ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

বিধি উপেক্ষা করে নিয়োগ, একই পদে প্রেষণে দুজন

যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিধি উপেক্ষা করে প্রেষণে নিয়োগ ঘিরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। যদিও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে বোর্ডের চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কারিগরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি অনুসারে বোর্ডের জ্যেষ্ঠতম চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্য হতে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক কারিকুলাম ও পরিদর্শক পদে নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিধি উপেক্ষা করে প্রেষণে করে টিএসসি, পলিটেকনিক অধ্যক্ষদের মধ্য থেকে বোর্ডে পদায়ণ করা হয়েছে। যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগবিধি অনুসারে করা হয়নি।
একই পদে দুজনকে প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে উপ-সচিব (প্রঃ) ও উপ-সচিব (রেজিস্ট্রেশন) পদে নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মো. নূরুল ইসলাম ও জনাব মো. সামসুল আলম নামে দুজনকে প্রেষণে বোর্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা নজিরবিহীন ঘটনা বলে বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
টিএসসিতে অধ্যক্ষ স্বল্পতার পরেও প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পরিচালিত টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা দীর্ঘদিনের। তাদের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষক/অধ্যক্ষ না থাকায় বেশিরভাগ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই অপ্রতুল শিক্ষকের কারণে একদিকে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উপরন্ত দু-চারজন অধ্যক্ষ অদৃশ্য কারণে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে এসে কারিগরি শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
পলিটেকনিকে শিক্ষক স্বল্পতা থাকার পরও প্রেষণ : কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে মাত্র শতকরা ১৫%-২০% শিক্ষক কর্মরত আছে। এ অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানে থিউরিক্যাল ও প্রাকটিক্যাল করা যেখানে দুঃস্বাধ্য, সেখানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রেষণে কারিগরি বোর্ডে এনে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কারিগরি বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন-প্রমোশন না দিয়ে এই সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটিকে অচলের পাঁয়তারা করছে স্বার্থন্বেষী মহল।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে কারিগরি বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পদ না থাকা সত্বেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে বিভিন্ন পদে নিয়োগের দেওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে। এছাড়া পদ খালি না থাকার কারণে প্রেষণে নিয়োগকৃত শিক্ষককে অন্য কোনো পদ দিয়ে বোর্ডে পদায়ন করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন পদোন্নতির আশায় বোর্ডে নিয়োজিত কর্মকর্তার দীর্ঘশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
পদোন্নতি না দিয়ে প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত কর্মকর্তাগণ যেখানে পদোন্নতির আশার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের পদোন্নতির বিষয়টি সুরাহা না করে প্রতিনিয়ত শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগতে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে বোর্ডে প্রেষণে নিয়োগে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব (মাদ্রাসা ও কারিগরি) মো. নুরুল হাফিজ বলেন- নিয়োগ বিধি যাচাই করে এ বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

বিধি উপেক্ষা করে নিয়োগ, একই পদে প্রেষণে দুজন

প্রকাশ : ০১:৫৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিধি উপেক্ষা করে প্রেষণে নিয়োগ ঘিরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। যদিও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে বোর্ডের চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কারিগরি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি অনুসারে বোর্ডের জ্যেষ্ঠতম চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্য হতে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক কারিকুলাম ও পরিদর্শক পদে নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু বিধি উপেক্ষা করে প্রেষণে করে টিএসসি, পলিটেকনিক অধ্যক্ষদের মধ্য থেকে বোর্ডে পদায়ণ করা হয়েছে। যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়োগবিধি অনুসারে করা হয়নি।
একই পদে দুজনকে প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে উপ-সচিব (প্রঃ) ও উপ-সচিব (রেজিস্ট্রেশন) পদে নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মো. নূরুল ইসলাম ও জনাব মো. সামসুল আলম নামে দুজনকে প্রেষণে বোর্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা নজিরবিহীন ঘটনা বলে বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
টিএসসিতে অধ্যক্ষ স্বল্পতার পরেও প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পরিচালিত টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক স্বল্পতা দীর্ঘদিনের। তাদের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষক/অধ্যক্ষ না থাকায় বেশিরভাগ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই অপ্রতুল শিক্ষকের কারণে একদিকে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। উপরন্ত দু-চারজন অধ্যক্ষ অদৃশ্য কারণে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে এসে কারিগরি শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংসের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
পলিটেকনিকে শিক্ষক স্বল্পতা থাকার পরও প্রেষণ : কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সব টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে মাত্র শতকরা ১৫%-২০% শিক্ষক কর্মরত আছে। এ অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানে থিউরিক্যাল ও প্রাকটিক্যাল করা যেখানে দুঃস্বাধ্য, সেখানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রেষণে কারিগরি বোর্ডে এনে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। কারিগরি বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন-প্রমোশন না দিয়ে এই সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটিকে অচলের পাঁয়তারা করছে স্বার্থন্বেষী মহল।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে কারিগরি বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পদ না থাকা সত্বেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে বিভিন্ন পদে নিয়োগের দেওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে। এছাড়া পদ খালি না থাকার কারণে প্রেষণে নিয়োগকৃত শিক্ষককে অন্য কোনো পদ দিয়ে বোর্ডে পদায়ন করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন পদোন্নতির আশায় বোর্ডে নিয়োজিত কর্মকর্তার দীর্ঘশ্বাস আরও বেড়ে যায়।
পদোন্নতি না দিয়ে প্রেষণে নিয়োগ : কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কর্মরত কর্মকর্তাগণ যেখানে পদোন্নতির আশার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের পদোন্নতির বিষয়টি সুরাহা না করে প্রতিনিয়ত শিক্ষক স্বল্পতায় ভুগতে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে বোর্ডে প্রেষণে নিয়োগে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব (মাদ্রাসা ও কারিগরি) মো. নুরুল হাফিজ বলেন- নিয়োগ বিধি যাচাই করে এ বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।