ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট স্থলবন্দর নিষ্ক্রিয়, বন্ধ হচ্ছে অলাভজনক তিন বন্দর

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১১৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম না থাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের তিন স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বন্দরগুলো হচ্ছে-চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ। এই তিনটিসহ মোট আটটি স্থলবন্দরকে অলাভজনক ও নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
বাকিগুলোর মধ্যে ভারতীয় অংশে অবকাঠামো না থাকায় হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এছাড়া অলাভজনক ও নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করা বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে শেরপুরের নাকুগাঁও, ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া-কড়ইতলী, জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর এবং দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে সরকারিভাবে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এসব বন্দরের কার্যক্রম মনিটরিং ও পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জমা দেয়।

চলতি বছরের ২৮ জুলাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় পরিকল্পনা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জুন অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। ওই সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ স্থলবন্দরে বর্তমানে কোনো আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম নেই। এসব বন্দরে জমি বা অবকাঠামোও নেই। ভবিষ্যতেও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা না থাকায় অলাভজনক বিনিয়োগ এড়াতে এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য অলাভজনক স্থলবন্দরে যেন অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিলাহাটি স্থলবন্দর : স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই নীলফামারীর চিলাহাটি শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে। তবে বন্দরের জন্য কোনো জমি ক্রয় বা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি।

এই স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে হলদিবাড়ী এলসিএস রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত রেলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধাও আছে। কিন্তু ভারতীয় অংশে স্থলবন্দরসংক্রান্ত কোনো অবকাঠামো না থাকায় এখানে কোনো অনুমোদিত পদ বা জনবল নেই। এ কারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি চিলাহাটি স্থলবন্দর বন্ধের সুপারিশ করেছে।

দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর : চুয়াডাঙ্গার চ্যাংখালী সীমান্তের দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই শুল্কস্টেশন থেকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই স্থলবন্দরটির কোনো কার্যক্রম নেই। এমনকি নিজস্ব জমি বা অবকাঠামোও নেই বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই স্থলবন্দরটি বন্ধের সুপারিশ করেছে কমিটি।
তেগামুখ স্থলবন্দর : তেগামুখ স্থলবন্দরটি রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত। শুল্কস্টেশন থেকে ২০১৩ সালের ৩০ জুন তেগামুখ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বন্দরটির বিপরীতে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দেমাগ্রী এলাকা। এই স্থলবন্দরটির নিজস্ব জমি বা অবকাঠামো নেই। এ অংশে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও নেই। বর্তমানে কোনো আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম থাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধের সুপারিশ করেছে।

 

আট স্থলবন্দর নিষ্ক্রিয়, বন্ধ হচ্ছে অলাভজনক তিন বন্দর

প্রকাশ : ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম না থাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের তিন স্থলবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বন্দরগুলো হচ্ছে-চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ। এই তিনটিসহ মোট আটটি স্থলবন্দরকে অলাভজনক ও নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
বাকিগুলোর মধ্যে ভারতীয় অংশে অবকাঠামো না থাকায় হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এছাড়া অলাভজনক ও নিষ্ক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করা বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে শেরপুরের নাকুগাঁও, ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া-কড়ইতলী, জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর এবং দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে সরকারিভাবে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এসব বন্দরের কার্যক্রম মনিটরিং ও পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জমা দেয়।

চলতি বছরের ২৮ জুলাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় পরিকল্পনা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জুন অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধ ঘোষণা এবং বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। ওই সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ স্থলবন্দরে বর্তমানে কোনো আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম নেই। এসব বন্দরে জমি বা অবকাঠামোও নেই। ভবিষ্যতেও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা না থাকায় অলাভজনক বিনিয়োগ এড়াতে এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্যান্য অলাভজনক স্থলবন্দরে যেন অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিলাহাটি স্থলবন্দর : স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই নীলফামারীর চিলাহাটি শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে। তবে বন্দরের জন্য কোনো জমি ক্রয় বা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়নি।

এই স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে হলদিবাড়ী এলসিএস রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত রেলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধাও আছে। কিন্তু ভারতীয় অংশে স্থলবন্দরসংক্রান্ত কোনো অবকাঠামো না থাকায় এখানে কোনো অনুমোদিত পদ বা জনবল নেই। এ কারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি চিলাহাটি স্থলবন্দর বন্ধের সুপারিশ করেছে।

দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর : চুয়াডাঙ্গার চ্যাংখালী সীমান্তের দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই শুল্কস্টেশন থেকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এই স্থলবন্দরটির কোনো কার্যক্রম নেই। এমনকি নিজস্ব জমি বা অবকাঠামোও নেই বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই স্থলবন্দরটি বন্ধের সুপারিশ করেছে কমিটি।
তেগামুখ স্থলবন্দর : তেগামুখ স্থলবন্দরটি রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত। শুল্কস্টেশন থেকে ২০১৩ সালের ৩০ জুন তেগামুখ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই বন্দরটির বিপরীতে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের দেমাগ্রী এলাকা। এই স্থলবন্দরটির নিজস্ব জমি বা অবকাঠামো নেই। এ অংশে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক যোগাযোগও নেই। বর্তমানে কোনো আমদানি-রপ্তানি বা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম থাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তেগামুখ স্থলবন্দর বন্ধের সুপারিশ করেছে।