কোনো প্রকার রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে আখ ও খেজুরের গুড়। মেশানো হয় কাপড়ে ব্যবহৃত টেক্সটাইল রং, ক্ষতিকর কেমিক্যাল, চুন, আটা ও চিনি। শীত মৌসুমের শুরুতেই এমন রমরমা ভেজাল গুড়ের বাণিজ্য জমে উঠেছে রাজশাহীতে। আর এসব ভোজাল গুড় যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। রাজশাহীর বেশ কিছু কারখানা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর এলাকার একাধিক গুড় তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, রসের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে চিনির সিরা। মেশানো হচ্ছে আটা, হাইডোজ, গ্যাস পাউডার, ফিটকিরি। আকর্ষণীয় রং করতে ব্যবহার করা হয় চুন ও টেক্সটাইল রং।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, এই গুড় তৈরিতে কোনো ধরনের রসের ব্যবহার নেই। শুধু চিনি দিয়ে আখ ও খেজুরের গুড় তৈরি করা হয়। ব্যবহার করা হয় কাপড়ের রং, আটা, হাইড্রোজ, গ্যাস পাউডার, চুন, চিনি। এরপর এগুলো রাজশাহী, নাটোর, পাবনার বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হয়।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী র্যাব-৫ এর সদস্যরা বিভিন্ন কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গুড় জব্দের পর তা ধ্বংস করা হয়।
র্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় ভেজাল গুড় তৈরির তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে এগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। এখানে যে গুড়গুলো রয়েছে সেখানে আখ বা খেজুরের রসের কোনো উপস্থিতি নেই। সব চিনি ও কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। কারখানাগুলোাতে প্রায় দুই টনের মতো গুড় রয়েছে। এগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।
র্যাব জানিয়েছে, চিনি ও রাসায়নিকে তৈরি এই ভেজাল গুড় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভেজাল এই গুড় রাজশাহী, নাটোর, পাবনার বিভিন্ন পাইকার কিনে ছড়িয়ে দেন সারা দেশে। ভোক্তা অধিদপ্তর চারটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যান একটি কারখানার মালিক। তার স্ত্রী জানান, তারা খেজুরের রস নয়, বরং ‘চিনি গুড়’ ব্যবহার করে এসব গুড় তৈরি করে নাটোরের গোপালপুর, লালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীতে বছরে অন্তত শত কোটি টাকার গুড়ের ব্যবসা হয়। চটকাদার বিজ্ঞাপন আর নানা প্রলোভনে অনলাইনে কথিত উদ্যোক্তারা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে এসব গুড় বিক্রি করে থাকেন।
বেশি লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। খাঁটি গুড় বিক্রি করে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এ ধরনের ভেজাল উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ওই এলাকায় পাঁচটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতিটি কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কারখানায় অভিযান চালানো হবে। আর্থিক জরিমানা এবং ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হবে। সব কারখানা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে অনলাইনের বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা গুড়।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশাদুজ্জামান বলেন, চিনি, হাইড্রোজ, সোডা, রংসহ বিভিন্ন ভেজাল মিশ্রিত গুড় খেলে কিডনি নষ্ট, লিভারের ক্ষতি এবং খাদ্যনালিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, রাসায়নিক দ্রব্যাদি কোনোভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকারক। এগুলো খাওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে, হতে পাড়ে ক্যান্সার। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি ক্ষতি হবে।
ব্রেকিং নিউজ
রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে গুড়!
-
রাজশাহী ব্যুরো - প্রকাশ : ০২:৪২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- ১৫৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয়










