ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিমানবন্দর থেকে ফেরত ২৬ বাংলাদেশি

পারমিটের অপব্যবহার, ৩০৬ বাংলাদেশি আটক

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০২:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ১০৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মালয়েশিয়ার বুকিত মের্তাজামের সিম্পাং আমপাটের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩০৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগে বুধবার তাদের আটক করা হয়।
এক বিবৃতিতে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, অভিযানে ৭৪৯ জনের কাগজপত্র তল্লাশি করে ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৬ জন বাংলাদেশি এবং একজন নেপালি।
তিনি বলেন, আটকদের অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমিট সেক্টরের অপব্যবহার, অননুমোদিত স্থানে কাজ করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পারমিট থাকা এবং বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা। এ ছাড়া পরিষ্কারকরণ সেক্টরে পারমিট থাকা সত্ত্বেও কারখানায় কাজ করার জন্য তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ ছাড়াও জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), সেবারাং পেরাই সিটি কাউন্সিল (এমবিএসপি) এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ (জেকেকেপি) সমন্বিত অভিযানে যোগ দেন।
জাকারিয়া বলেন, আটকদের আরও তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের নিকটবর্তী জাওয়ি ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হবে।
অভিযানের সময় একজন বাংলাদেশি নাগরিক বলেন, তিনি ২০২৩ সালে একজন এজেন্টের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার রিঙ্গিত বা প্রায় ৩ লাখ টাকা ফি দিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, তিনি জানতেন তার পারমিটটি পরিষ্কারকরণ সেক্টরের জন্য, তবে, এজেন্ট কর্তৃক জানানো হয়েছিল যে কারখানার কাজ পরিষ্কারকরণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবুও তিনি কারখানায় কাজ করেছেন।
ওই বাংলাদেশি বলেন, আমি জানি পারমিটটি ‘পরিষ্কারক’ কাজের জন্য। কিন্তু কারখানার শ্রমিকদের এজেন্টদেরও পরিষ্কারক কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআই-১ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ২৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)। দেশটির জাতীয় দৈনিক স্টারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে দুটি পৃথক ফ্লাইটে দলটি এসেছিল। ২৬ জনের দলটি তাদের কার্যক্রম দেখে সন্দেহ হলে, আন্তর্জাতিক আগমন গেটে নামার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের একেপিএস আটক করেন এবং তল্লাশির জন্য এজেন্সি অপারেশন অফিসে নিয়ে যান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোনো ভ্রমণ ভিসাধারী দেশে প্রবেশের জন্য যুক্তিসংগত প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাদের মালয়েশিয়াতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি সংস্থাটি। আটক ২৬ জনকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, এভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। তাই গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা সব সময় সজাগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআই-১ ও ২ এর মতো প্রধান প্রবেশ পথগুলোতে সংস্থাটির অভিযান ও পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মালয়েশিয়াতে ভ্রমণ ভিসার সুবিধা নিয়ে, কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়াতে আসছে বহু বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। তাই মালয়েশিয়ায় অনুপ্রবেশের বাস্তবতা মাথায় রেখে এয়ারপোর্ট ও স্থলবন্দরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয়

বিমানবন্দর থেকে ফেরত ২৬ বাংলাদেশি

পারমিটের অপব্যবহার, ৩০৬ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশ : ০২:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

মালয়েশিয়ার বুকিত মের্তাজামের সিম্পাং আমপাটের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩০৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগে বুধবার তাদের আটক করা হয়।
এক বিবৃতিতে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, অভিযানে ৭৪৯ জনের কাগজপত্র তল্লাশি করে ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০৬ জন বাংলাদেশি এবং একজন নেপালি।
তিনি বলেন, আটকদের অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমিট সেক্টরের অপব্যবহার, অননুমোদিত স্থানে কাজ করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পারমিট থাকা এবং বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা। এ ছাড়া পরিষ্কারকরণ সেক্টরে পারমিট থাকা সত্ত্বেও কারখানায় কাজ করার জন্য তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ ছাড়াও জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), সেবারাং পেরাই সিটি কাউন্সিল (এমবিএসপি) এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ (জেকেকেপি) সমন্বিত অভিযানে যোগ দেন।
জাকারিয়া বলেন, আটকদের আরও তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের নিকটবর্তী জাওয়ি ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হবে।
অভিযানের সময় একজন বাংলাদেশি নাগরিক বলেন, তিনি ২০২৩ সালে একজন এজেন্টের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার রিঙ্গিত বা প্রায় ৩ লাখ টাকা ফি দিয়ে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, তিনি জানতেন তার পারমিটটি পরিষ্কারকরণ সেক্টরের জন্য, তবে, এজেন্ট কর্তৃক জানানো হয়েছিল যে কারখানার কাজ পরিষ্কারকরণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবুও তিনি কারখানায় কাজ করেছেন।
ওই বাংলাদেশি বলেন, আমি জানি পারমিটটি ‘পরিষ্কারক’ কাজের জন্য। কিন্তু কারখানার শ্রমিকদের এজেন্টদেরও পরিষ্কারক কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআই-১ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ২৬ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস)। দেশটির জাতীয় দৈনিক স্টারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে দুটি পৃথক ফ্লাইটে দলটি এসেছিল। ২৬ জনের দলটি তাদের কার্যক্রম দেখে সন্দেহ হলে, আন্তর্জাতিক আগমন গেটে নামার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের একেপিএস আটক করেন এবং তল্লাশির জন্য এজেন্সি অপারেশন অফিসে নিয়ে যান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোনো ভ্রমণ ভিসাধারী দেশে প্রবেশের জন্য যুক্তিসংগত প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাদের মালয়েশিয়াতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি সংস্থাটি। আটক ২৬ জনকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, এভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। তাই গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা সব সময় সজাগ রয়েছে। মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেএলআই-১ ও ২ এর মতো প্রধান প্রবেশ পথগুলোতে সংস্থাটির অভিযান ও পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মালয়েশিয়াতে ভ্রমণ ভিসার সুবিধা নিয়ে, কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়াতে আসছে বহু বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। তাই মালয়েশিয়ায় অনুপ্রবেশের বাস্তবতা মাথায় রেখে এয়ারপোর্ট ও স্থলবন্দরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।