ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাদশ নির্বাচনের ৩২ ডিসি বাধ্যতামূলক অবসরে 

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৫:০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসর কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী সব ধরনের অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধা ও প্রাপ্য ভাতা পাবেন।

২৫ বছর পূর্ণ হলেই কী বলে আইন?

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং এতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি যুক্ত থাকে না।

কেন আলোচনায় এই কর্মকর্তারা?

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদাধিকারবলে তাঁরাই নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নির্বাচন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নানা প্রশ্ন তোলে। ফলে সেই নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিষয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রশাসনে চলমান পুনর্বিন্যাসের অংশ?

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাস, পদায়ন ও বাধ্যতামূলক অবসরের ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওএসডি করা, বদলি এবং অবসরে পাঠানোর একাধিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রশাসনে জবাবদিহি, নিরপেক্ষতা ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির অংশ হিসেবেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিবেচিত হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ৩২ কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো।

একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসরজনিত সব ধরনের আর্থিক সুবিধা, পেনশন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী একদল কর্মকর্তার সরকারি চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। বিষয়টি প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

একাদশ নির্বাচনের ৩২ ডিসি বাধ্যতামূলক অবসরে 

প্রকাশ : ০৫:০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসর কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী সব ধরনের অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধা ও প্রাপ্য ভাতা পাবেন।

২৫ বছর পূর্ণ হলেই কী বলে আইন?

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং এতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি যুক্ত থাকে না।

কেন আলোচনায় এই কর্মকর্তারা?

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পদাধিকারবলে তাঁরাই নিজ নিজ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নির্বাচন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল নানা প্রশ্ন তোলে। ফলে সেই নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিষয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রশাসনে চলমান পুনর্বিন্যাসের অংশ?

জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাস, পদায়ন ও বাধ্যতামূলক অবসরের ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওএসডি করা, বদলি এবং অবসরে পাঠানোর একাধিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রশাসনে জবাবদিহি, নিরপেক্ষতা ও নতুন নেতৃত্ব তৈরির অংশ হিসেবেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিবেচিত হতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ৩২ কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাঁদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো।

একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসরজনিত সব ধরনের আর্থিক সুবিধা, পেনশন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী একদল কর্মকর্তার সরকারি চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। বিষয়টি প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।