গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় সোয়া তিন বছর পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া হয়। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করেন। পরে সেই পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তার দায়িত্ব পালনের কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসকেরা তার শরীরে Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত করেছেন। এই রোগের কারণে মাঝে মাঝে তিনি সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা আগের মতো না থাকায় দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাকে অপসারণের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে ওঠে। বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচিও পালিত হয়। যদিও সে সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন আনা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফর এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
দেশ প্রতিবেদক 









