ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গেজেট স্থগিত চেয়ে আপিল করবেন রিটকারী

রিট খারিজ, ইশরাকের শপথে বাধা নেই

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • ১০৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
হাইকোর্টের আদেশের পর বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না দিলে আদালত অবমাননা হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট ডিভিশন বলেছে এ মামলাটা এসেছে ট্রাইব্যুনাল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল) থেকে। কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন (ট্রাইব্যুনালে মামলার বিবাদী হিসেবে), তিনি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। ট্রাইব্যুনালের সেই রায় কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গেজেট করেছে। গেজেট অনুসারে শপথ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত অবজারভেশন দিয়ে রিট খারিজ করেছেন। ফলে ইশরাকের শপথ নিতে আর কোনো বাধা নেই। আগামী ২৬ মের মধ্যে শপথ দিতে হবে। একটা মহল শপথ নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেটা ব্যর্থ হয়েছে। যদি শপথ না দেওয়া হয়, সেটা আদালত অবমাননা হবে।’
আইনজীবী কায়সার কামাল বলেছেন, ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার মানে দাঁড়াল, ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আর কোনো বাধা থাকল না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি যে উপদেষ্টা আছেন, যিনি হয়তোবা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিষয়টি ঘোরাচ্ছিলেন, তিনিও এখন অন্তত আজকে রিট খারিজের পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।’
আদালতের রায়ের পর অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আলটিমেটাম দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলন স্থগিত করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। এদিন বিকালে কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে এসে তিনি এ ঘোষণা করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজ আদালতের রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে। তাই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হলো। অবিলম্বে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে আবারও যমুনা ঘেরাও দেবো।
তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) বর্তমান সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের যে দাবি জানিয়েছি, সেই দাবিতে আমরা অনড় থাকবো। আমরা সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবো। এর মধ্যে দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ না করলে আমরা আবারও মাঠে নামবো।’
আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে ইশরাক বলেন, ‘আমাদের এসব কর্মসূচির কারণে যে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তবে জনগণ একদিন বুঝবে, আমরা কেন এ আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।’
এদিকে রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রিটকারী মো. মামুনুর রশিদ নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। হাইকোর্টের আদেশ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গেজেট স্থগিত চেয়ে তারা আপিল বিভাগে আবেদন (সিএমপি) করবেন। এর মধ্যে আদেশের কপির জন্য আবেদন করেছেন। সুযোগ পেলে আজই ফাইল করবো, না হয় আগামীকাল (রোববার) করব। আশা করি আপিল বিভাগে আমরা ন্যায়বিচার পাব।
ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেট প্রকাশ নিয়ে গত ১৩ মে রিটটি করেন আইনজীবী মুসা। এ রিটের ওপর মঙ্গলবার দুই দফা শুনানি শেষে আদেশের জন্য বুধবার সাড়ে ১২টার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে আদালত বুধবার আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস।
নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক কমিটির সদস্য।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ইশরাকের করা নির্বাচনী মামলায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। রায়ে তাপসকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করা হয়। ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়।
আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে ইসি। মেয়র হিসেবে ইশরাকের শপথের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির পরও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ইশরাকের সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

জনপ্রিয়

গেজেট স্থগিত চেয়ে আপিল করবেন রিটকারী

রিট খারিজ, ইশরাকের শপথে বাধা নেই

প্রকাশ : ০২:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
হাইকোর্টের আদেশের পর বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না দিলে আদালত অবমাননা হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট ডিভিশন বলেছে এ মামলাটা এসেছে ট্রাইব্যুনাল (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল) থেকে। কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন (ট্রাইব্যুনালে মামলার বিবাদী হিসেবে), তিনি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন। ট্রাইব্যুনালের সেই রায় কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গেজেট করেছে। গেজেট অনুসারে শপথ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত অবজারভেশন দিয়ে রিট খারিজ করেছেন। ফলে ইশরাকের শপথ নিতে আর কোনো বাধা নেই। আগামী ২৬ মের মধ্যে শপথ দিতে হবে। একটা মহল শপথ নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেটা ব্যর্থ হয়েছে। যদি শপথ না দেওয়া হয়, সেটা আদালত অবমাননা হবে।’
আইনজীবী কায়সার কামাল বলেছেন, ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার মানে দাঁড়াল, ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আর কোনো বাধা থাকল না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি যে উপদেষ্টা আছেন, যিনি হয়তোবা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিষয়টি ঘোরাচ্ছিলেন, তিনিও এখন অন্তত আজকে রিট খারিজের পর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।’
আদালতের রায়ের পর অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আলটিমেটাম দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলন স্থগিত করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। এদিন বিকালে কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে এসে তিনি এ ঘোষণা করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজ আদালতের রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে। তাই আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হলো। অবিলম্বে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে আবারও যমুনা ঘেরাও দেবো।
তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) বর্তমান সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের যে দাবি জানিয়েছি, সেই দাবিতে আমরা অনড় থাকবো। আমরা সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করবো। এর মধ্যে দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ না করলে আমরা আবারও মাঠে নামবো।’
আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তির জন্য ক্ষমা চেয়ে ইশরাক বলেন, ‘আমাদের এসব কর্মসূচির কারণে যে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তবে জনগণ একদিন বুঝবে, আমরা কেন এ আন্দোলন করেছিলাম। আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।’
এদিকে রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রিটকারী মো. মামুনুর রশিদ নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। হাইকোর্টের আদেশ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গেজেট স্থগিত চেয়ে তারা আপিল বিভাগে আবেদন (সিএমপি) করবেন। এর মধ্যে আদেশের কপির জন্য আবেদন করেছেন। সুযোগ পেলে আজই ফাইল করবো, না হয় আগামীকাল (রোববার) করব। আশা করি আপিল বিভাগে আমরা ন্যায়বিচার পাব।
ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেট প্রকাশ নিয়ে গত ১৩ মে রিটটি করেন আইনজীবী মুসা। এ রিটের ওপর মঙ্গলবার দুই দফা শুনানি শেষে আদেশের জন্য বুধবার সাড়ে ১২টার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে আদালত বুধবার আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তাপস।
নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক কমিটির সদস্য।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ইশরাকের করা নির্বাচনী মামলায় চলতি বছরের ২৭ মার্চ রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। রায়ে তাপসকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করা হয়। ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়।
আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গত ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে ইসি। মেয়র হিসেবে ইশরাকের শপথের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির পরও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ইশরাকের সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।