আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ছয় দশকের এক হতাশার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে ৬০ বছরের ‘অভিশাপ’ ভেঙেছে থ্রি লায়নরা। একই ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপের গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। সপ্তম মিনিটে গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় থমাস টুখেলের দল। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্তও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যেতে হয় ইংলিশদের।
তবে সংকটময় মুহূর্তে অধিনায়কসুলভ নেতৃত্ব দেন হ্যারি কেইন। ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান তিনি। এরপর ৮৬তম মিনিটে আবারও প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে প্রথমে গোল হজম করেও জয় পেল ইংল্যান্ড। প্রায় ৬০ বছর ধরে চলা মানসিক বাধা ভেঙে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাচ্ছে থ্রি লায়নরা।
শুধু দলকে জয় এনে দেওয়াই নয়, ব্যক্তিগত অর্জনেও অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। ফলে বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে।
এছাড়া চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল কেইনের পঞ্চম গোল। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
নাটকীয় এই জয়ের সুবাদে ইংল্যান্ড নকআউট পর্বে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থমাস টুখেলের দলের সামনে এখন অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো।
হ্যারি কেইনের রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স, ৬০ বছরের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এই রাত নিঃসন্দেহে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহু বছর।
দেশ ডেস্ক 









