ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙা আঙুল নিয়েই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০২:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই চাপ, উত্তেজনা আর ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। সেই মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভরসাগুলোর একজন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ জানালেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তিনি খেলছেন ডান হাতের ভাঙা আঙুলের ব্যথা নিয়ে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে প্রাধান্য দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
আজ রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। আর সেই মহারণের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্টিনেজ জানালেন, ব্যথা এখনো কমেনি, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি। এখনো প্রতিদিন ব্যথা অনুভব করি। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, অপারেশন ছাড়া খেলা সম্ভব হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছি। তাই অস্ত্রোপচার করাইনি।
চোট নিয়েও দলের ভরসা:
গত ২০ মে ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ওয়ার্ম-আপের সময় ডান হাতের অনামিকায় চোট পান মার্টিনেজ। সেই আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি স্বাভাবিক অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি।
দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনের বদলে আলাদা পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করতে হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে আক্ষেপও আছে এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকের।
তিনি বলেন,“গ্রুপ পর্বে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারিনি। এটা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমি সবসময় দলের সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে ভালোবাসি। তবে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি।
চোট সত্ত্বেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শারীরিক সমস্যার মধ্যেও টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে খেলেছেন মার্টিনেজ। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে দলের রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।
নকআউট পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর দৃঢ়তা আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তাই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবারও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন ‘দিবু’।
২০২২–এর নায়ক, এবারও শিরোপার স্বপ্ন : ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ে অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্টিনেজ। গুরুত্বপূর্ণ সেভ ও টাইব্রেকারে অসাধারণ উপস্থিতি তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের আসনে বসিয়েছে। এবারও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর লক্ষ্য তাঁর সামনে।
স্পেনকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না: ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন মার্টিনেজ। তাঁর মতে, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা প্রমাণ করেই এসেছে।
তিনি বলেন, স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের অনেক ফুটবলার প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলেন। লামিন ইয়ামালসহ তরুণদের পারফরম্যান্স দারুণ। তারা যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে। তবে আমরাও নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী।
সব চোখ এবার মার্টিনেজের দিকে: ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। একদিকে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ও গতিময় আক্রমণভাগ। এমন ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা হতে পারে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়ার উপাদান। ভাঙা আঙুলের ব্যথা হয়তো এখনো তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু দেশের জার্সি গায়ে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নে সেই ব্যথাকে উপেক্ষা করেই মাঠে নামতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনার এই তারকা গোলরক্ষক।

জনপ্রিয়

ভাঙা আঙুল নিয়েই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

প্রকাশ : ০২:১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই চাপ, উত্তেজনা আর ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। সেই মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভরসাগুলোর একজন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ জানালেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তিনি খেলছেন ডান হাতের ভাঙা আঙুলের ব্যথা নিয়ে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে প্রাধান্য দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
আজ রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। আর সেই মহারণের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্টিনেজ জানালেন, ব্যথা এখনো কমেনি, কিন্তু দেশের হয়ে খেলার সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাননি। এখনো প্রতিদিন ব্যথা অনুভব করি। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, অপারেশন ছাড়া খেলা সম্ভব হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছি। তাই অস্ত্রোপচার করাইনি।
চোট নিয়েও দলের ভরসা:
গত ২০ মে ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ওয়ার্ম-আপের সময় ডান হাতের অনামিকায় চোট পান মার্টিনেজ। সেই আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি স্বাভাবিক অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি।
দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনের বদলে আলাদা পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করতে হয়েছে তাঁকে। এ নিয়ে আক্ষেপও আছে এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকের।
তিনি বলেন,“গ্রুপ পর্বে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারিনি। এটা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমি সবসময় দলের সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে ভালোবাসি। তবে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি।
চোট সত্ত্বেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শারীরিক সমস্যার মধ্যেও টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচে খেলেছেন মার্টিনেজ। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে দলের রক্ষণভাগকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।
নকআউট পর্বেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর দৃঢ়তা আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তাই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আবারও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন ‘দিবু’।
২০২২–এর নায়ক, এবারও শিরোপার স্বপ্ন : ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ে অন্যতম নায়ক ছিলেন মার্টিনেজ। গুরুত্বপূর্ণ সেভ ও টাইব্রেকারে অসাধারণ উপস্থিতি তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের আসনে বসিয়েছে। এবারও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর লক্ষ্য তাঁর সামনে।
স্পেনকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না: ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন মার্টিনেজ। তাঁর মতে, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা প্রমাণ করেই এসেছে।
তিনি বলেন, স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের অনেক ফুটবলার প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলেন। লামিন ইয়ামালসহ তরুণদের পারফরম্যান্স দারুণ। তারা যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে। তবে আমরাও নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী।
সব চোখ এবার মার্টিনেজের দিকে: ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। একদিকে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ও গতিময় আক্রমণভাগ। এমন ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা হতে পারে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়ার উপাদান। ভাঙা আঙুলের ব্যথা হয়তো এখনো তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু দেশের জার্সি গায়ে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নে সেই ব্যথাকে উপেক্ষা করেই মাঠে নামতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনার এই তারকা গোলরক্ষক।