ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিদের হতাশ করে স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১০:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

অবশেষে শেষ হলো প্রতীক্ষার মহারণ। টানটান উত্তেজনা, একের পর এক আক্রমণ, গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য আর নাটকীয় মুহূর্তে ভরা ফাইনালের শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠল স্পেনের হাতে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনো বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অপেক্ষা করছিল পাল্টা আক্রমণের সুযোগে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা:

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়েছিল স্পেন। ৯৬ মিনিটে মিকেল মেরিনোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে বল পাঠালেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে ওতামেন্দির ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।

এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ১০৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত ক্রস থেকে মিকেল মেরিনো প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বল অসাধারণ দক্ষতায় মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় থাকা ফেররান তোরেস সুযোগটি নষ্ট করেননি। শক্তিশালী ডান পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। সেই গোলেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

মার্টিনেজের দুর্দান্ত লড়াইও যথেষ্ট হয়নি: গোল হজমের আগে পর্যন্ত ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে একের পর এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ম্যাচের প্রথম ৯৪ মিনিটেই তাঁর সেভের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১০-এ।

তবে সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক সমর্থন না পাওয়ায় তাঁর সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত শিরোপা এনে দিতে পারেনি।

এনজোর লাল কার্ডে আরও কঠিন হয় লড়াই: ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ।

মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলারের বিদায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় সমতায় ফেরার সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়।

স্পেনের নতুন স্বর্ণযুগ: পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন ফাইনালেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং ফুটবল এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা।

লামিন ইয়ামালের সৃজনশীলতা, নিকো উইলিয়ামসের গতি এবং ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করল তারা।

অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট খেলেও ফাইনালের শেষ বাধা পেরোতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

স্পেনের জন্য এটি শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আরেকটি শক্ত বার্তা। আর আর্জেন্টিনার জন্য এটি হয়ে থাকল অল্পের জন্য হাতছাড়া হওয়া আরেকটি স্বপ্নের গল্প।

Tag :
জনপ্রিয়

মেসিদের হতাশ করে স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ

প্রকাশ : ১০:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

অবশেষে শেষ হলো প্রতীক্ষার মহারণ। টানটান উত্তেজনা, একের পর এক আক্রমণ, গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য আর নাটকীয় মুহূর্তে ভরা ফাইনালের শেষে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠল স্পেনের হাতে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনো বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অপেক্ষা করছিল পাল্টা আক্রমণের সুযোগে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা:

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই গোলের দেখা পেয়েছিল স্পেন। ৯৬ মিনিটে মিকেল মেরিনোর প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে বল পাঠালেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে ওতামেন্দির ওপর ফাউল হয়েছিল। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।

এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ১০৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত ক্রস থেকে মিকেল মেরিনো প্রায় নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বল অসাধারণ দক্ষতায় মাঠের ভেতরে রাখেন নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় থাকা ফেররান তোরেস সুযোগটি নষ্ট করেননি। শক্তিশালী ডান পায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। সেই গোলেই ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।

মার্টিনেজের দুর্দান্ত লড়াইও যথেষ্ট হয়নি: গোল হজমের আগে পর্যন্ত ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে একের পর এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ম্যাচের প্রথম ৯৪ মিনিটেই তাঁর সেভের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১০-এ।

তবে সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক সমর্থন না পাওয়ায় তাঁর সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত শিরোপা এনে দিতে পারেনি।

এনজোর লাল কার্ডে আরও কঠিন হয় লড়াই: ম্যাচের শেষদিকে আর্জেন্টিনার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ।

মাঝমাঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফুটবলারের বিদায়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে একজন কম নিয়ে খেলতে হওয়ায় সমতায় ফেরার সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়।

স্পেনের নতুন স্বর্ণযুগ: পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন ফাইনালেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং ফুটবল এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা।

লামিন ইয়ামালের সৃজনশীলতা, নিকো উইলিয়ামসের গতি এবং ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করল তারা।

অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট খেলেও ফাইনালের শেষ বাধা পেরোতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

স্পেনের জন্য এটি শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আরেকটি শক্ত বার্তা। আর আর্জেন্টিনার জন্য এটি হয়ে থাকল অল্পের জন্য হাতছাড়া হওয়া আরেকটি স্বপ্নের গল্প।