ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির কান্নায় আবেগে ভাসল ফুটবল বিশ্ব

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০৬:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২২৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। লক্ষ্য ছিল শিরোপা ধরে রাখা, আর ব্যক্তিগতভাবে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অনন্য উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করা। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ে। শিরোপা হারানোর বেদনায় শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে মাঠে হারলেও কোটি ভক্তের হৃদয়ে আরও একবার জয়ী হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। ছোট ছোট পাস, দ্রুত গতি এবং ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শেষদিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার জন্য সমতায় ফেরার সুযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর গলায় রানার্সআপের পদক ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। কয়েক মুহূর্ত পরই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের জল ফেলেন তিনি। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা মেসির প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসার বার্তা দিতে থাকেন।

একজন আর্জেন্টাইন সমর্থক লিখেছেন, **“তোমার কান্না আমাদেরও কান্না। তুমি আমাদের অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিয়েছ। শেষ পর্যন্ত লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ, লিও। আমরা সবসময় তোমার পাশে আছি।”**

আরেকজনের মন্তব্য, **“শিরোপা হারানো একজন খেলোয়াড়কে নয়, নিজের দেশের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা একজন কিংবদন্তিকে আমরা দেখেছি।”**

ফাইনালে গোল করতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ছিলেন মেসি। আটটি গোলের পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুটি অ্যাসিস্ট ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত।

এই ফাইনাল খেলেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়লেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি বিরল এক অর্জন, যা তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তবে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকের ধারণা, এটিই হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে তার বয়স হবে ৪৩ বছর। যদিও ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সিতেও তাকে আরও কিছুদিন দেখতে চান সমর্থকেরা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শিরোপা না জিতলেও এই বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও প্রভাব আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। বয়স কেবল একটি সংখ্যা—এই বার্তাই যেন আরও একবার দিয়েছেন তিনি।

রোববারের রাতটি তাই মেসির জন্য ছিল বেদনার, কিন্তু তার ফুটবল-ঐতিহ্যের জন্য নয়। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে না তুলতে পারলেও কোটি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর আবেগে তিনি আবারও হয়ে উঠেছেন বিজয়ী। ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম লেখা থাকবে শুধু ট্রফির জন্য নয়, অসাধারণ প্রতিভা, নেতৃত্ব, নিষ্ঠা এবং কোটি মানুষের হৃদয় জয়ের জন্যও।

মেসির কান্নায় আবেগে ভাসল ফুটবল বিশ্ব

প্রকাশ : ০৬:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। লক্ষ্য ছিল শিরোপা ধরে রাখা, আর ব্যক্তিগতভাবে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অনন্য উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করা। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ে। শিরোপা হারানোর বেদনায় শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে মাঠে হারলেও কোটি ভক্তের হৃদয়ে আরও একবার জয়ী হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্পেন। ছোট ছোট পাস, দ্রুত গতি এবং ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শেষদিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার জন্য সমতায় ফেরার সুযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।

ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর গলায় রানার্সআপের পদক ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। কয়েক মুহূর্ত পরই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের জল ফেলেন তিনি। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা মেসির প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসার বার্তা দিতে থাকেন।

একজন আর্জেন্টাইন সমর্থক লিখেছেন, **“তোমার কান্না আমাদেরও কান্না। তুমি আমাদের অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিয়েছ। শেষ পর্যন্ত লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ, লিও। আমরা সবসময় তোমার পাশে আছি।”**

আরেকজনের মন্তব্য, **“শিরোপা হারানো একজন খেলোয়াড়কে নয়, নিজের দেশের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা একজন কিংবদন্তিকে আমরা দেখেছি।”**

ফাইনালে গোল করতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ছিলেন মেসি। আটটি গোলের পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুটি অ্যাসিস্ট ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত।

এই ফাইনাল খেলেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়লেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি বিরল এক অর্জন, যা তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তবে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আর্জেন্টিনার। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকের ধারণা, এটিই হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে তার বয়স হবে ৪৩ বছর। যদিও ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সিতেও তাকে আরও কিছুদিন দেখতে চান সমর্থকেরা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, শিরোপা না জিতলেও এই বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও প্রভাব আবারও প্রমাণ করেছে কেন তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলা হয়। বয়স কেবল একটি সংখ্যা—এই বার্তাই যেন আরও একবার দিয়েছেন তিনি।

রোববারের রাতটি তাই মেসির জন্য ছিল বেদনার, কিন্তু তার ফুটবল-ঐতিহ্যের জন্য নয়। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে না তুলতে পারলেও কোটি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর আবেগে তিনি আবারও হয়ে উঠেছেন বিজয়ী। ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসির নাম লেখা থাকবে শুধু ট্রফির জন্য নয়, অসাধারণ প্রতিভা, নেতৃত্ব, নিষ্ঠা এবং কোটি মানুষের হৃদয় জয়ের জন্যও।