ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ, দ্রুত বিচারে আল্টিমেটাম

প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০১:৫৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ৮৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুর চিকিৎসা চলছে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। তার ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তীব্র প্রতিবাদ।
এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকাসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তারা ধর্ষণ এবং নারী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার মধ্যরাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। গঠিত হয় ‘ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ’। ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার এবং শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন।

ক্রমাগত ধর্ষণের বিচারের দাবিতে এদিন মধ্যরাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় এই অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে ২টায় বিভিন্ন হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসে প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ করে রাখেন তারা।

ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
রোববার দুপুরে কলাভবনের সামনে থেকে মিছিল বের করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিভাগের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং দেশব্যাপী যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারা। এ সময় বিভাগটির শিক্ষকরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং মিছিলে অংশ নেন। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ভূতত্ত্ব বিভাগসহ একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় ঢামেকের নারী শিক্ষার্থীদের।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢামেকের অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, যারা ধর্ষণ করে এবং যারা এদের মদদ দেয় তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা হয়েছে। ধর্ষককে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাহী ক্ষমতা যারা ছিল তারা তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। ভোট না দেওয়া কারণে উলঙ্গ করে ভিডিও বানিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।

মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্য থেকে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ ঘোষণা করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এই প্লাটফর্ম থেকে তারা দুই দফা দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো- বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিগত সময়ের সব ধর্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং মাগুরায় আছিয়াকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের ফাঁসি কার্যকর করা। এই দুটি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মঞ্চ থেকে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
শনিবার রাত ১২টা নাগাদ ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ধর্ষকের বিচার দাবি করেন এবং ‘তুমি কে, আমি কে, আছিয়া, আছিয়া’ স্লোগান দেন। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের নারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। পরে তাদের সঙ্গে অন্যান্য হলের নারী শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। নারীদের সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরাও জড়ো হন।

মাগুরার ধর্ষণের শিকার শিশুর আসামিদের ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। ২৪ ঘণ্টার ভিতর ধর্ষকদের ফাঁসি আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে নড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা মাগুরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে অবস্থান নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অতীতে ধর্ষকরা পার পেয়ে গেছে বলেই এখন এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ভিতর দোষীদের ফাঁসি দিতে হবে অন্যথায় আমরা এখান থেকে যাব না।

ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তারা মিছিল নিয়ে কয়েকটি সড়ক ঘুরে, ছাত্রীদের হলের সামনে দিয়ে প্যারিস রোড হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের মহাসড়কে যান। এ সময় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ধর্ষণে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটক-সংলগ্ন খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এক ঘণ্টা অবস্থান করার পর তারা অবরোধ তুলে নেন। এ সময় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তারা।

মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে, বিক্ষোভ করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর নতুনবাজার এলাকায় কুড়িল-বাড্ডা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা। এতে ইউআইটিএস, ডিআইইউসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের পদত্যাগ নয়, পদচ্যুতির দাবি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব এ দাবি করেন। এদিন বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই প্রতিবাদ সমাবেশে’ থেকে এই দাবি করা হয়। সমাবেশে ঢাবি শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই বলবো না, আমরা বলবো ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। সেটা ফাঁসি হবে নাকি জনসমক্ষে অন্যকিছু করা হবে সেটি পরে সিদ্ধান্ত হবে। আর তাসনিম সিরাজ বলে, আমাদের দুইজন নারী উপদেষ্টা আছেন। তারা কি আদৌ আছেন? দেশে কি হচ্ছে সেই ব্যাপারে উনারা কি সচেতন? ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আমরাও সেটি মানতে চাই যদি এই দেশে আইনের শাসন থাকে। আপনারা আমাদের বাধ্য করলে আমরা কী করব? আমাদের পিঠ তো দেয়ালের ঠেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ধর্ষককে কোনো ছাড় না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি। পোস্টে তিনি লিখেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুততম সময়ে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার ফাঁকফোকর বন্ধ করা জরুরি।

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এর উপকারিতা তুলে ধরে এই দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ইসলাম ধর্ষণের সবচেয়ে কঠিন শাস্তির বিধান রেখেছে। সমাজকে এ ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত করতে ইসলামি দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

Tag :
জনপ্রিয়

ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ, দ্রুত বিচারে আল্টিমেটাম

প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ

প্রকাশ : ০১:৫৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশুর চিকিৎসা চলছে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। তার ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তীব্র প্রতিবাদ।
এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ঢাকাসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তারা ধর্ষণ এবং নারী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার মধ্যরাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। গঠিত হয় ‘ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ’। ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার এবং শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন।

ক্রমাগত ধর্ষণের বিচারের দাবিতে এদিন মধ্যরাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় এই অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে ২টায় বিভিন্ন হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসে প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ করে রাখেন তারা।

ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
রোববার দুপুরে কলাভবনের সামনে থেকে মিছিল বের করেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিভাগের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের ঘটনায় ধর্ষকদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং দেশব্যাপী যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তারা। এ সময় বিভাগটির শিক্ষকরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং মিছিলে অংশ নেন। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ভূতত্ত্ব বিভাগসহ একাধিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষকদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে মুখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় ঢামেকের নারী শিক্ষার্থীদের।

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢামেকের অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, যারা ধর্ষণ করে এবং যারা এদের মদদ দেয় তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা হয়েছে। ধর্ষককে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাহী ক্ষমতা যারা ছিল তারা তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। ভোট না দেওয়া কারণে উলঙ্গ করে ভিডিও বানিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।

মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্য থেকে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চ ঘোষণা করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এই প্লাটফর্ম থেকে তারা দুই দফা দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো- বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিগত সময়ের সব ধর্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং মাগুরায় আছিয়াকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের ফাঁসি কার্যকর করা। এই দুটি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মঞ্চ থেকে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
শনিবার রাত ১২টা নাগাদ ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ধর্ষকের বিচার দাবি করেন এবং ‘তুমি কে, আমি কে, আছিয়া, আছিয়া’ স্লোগান দেন। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের নারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। পরে তাদের সঙ্গে অন্যান্য হলের নারী শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। নারীদের সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরাও জড়ো হন।

মাগুরার ধর্ষণের শিকার শিশুর আসামিদের ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। ২৪ ঘণ্টার ভিতর ধর্ষকদের ফাঁসি আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে নড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা মাগুরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে অবস্থান নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অতীতে ধর্ষকরা পার পেয়ে গেছে বলেই এখন এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ভিতর দোষীদের ফাঁসি দিতে হবে অন্যথায় আমরা এখান থেকে যাব না।

ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। তারা মিছিল নিয়ে কয়েকটি সড়ক ঘুরে, ছাত্রীদের হলের সামনে দিয়ে প্যারিস রোড হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের মহাসড়কে যান। এ সময় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ধর্ষণে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটক-সংলগ্ন খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এক ঘণ্টা অবস্থান করার পর তারা অবরোধ তুলে নেন। এ সময় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্রদান করেন তারা।

মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে, বিক্ষোভ করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর নতুনবাজার এলাকায় কুড়িল-বাড্ডা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা। এতে ইউআইটিএস, ডিআইইউসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের পদত্যাগ নয়, পদচ্যুতির দাবি করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব এ দাবি করেন। এদিন বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই প্রতিবাদ সমাবেশে’ থেকে এই দাবি করা হয়। সমাবেশে ঢাবি শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, ধর্ষকদের ফাঁসি চাই বলবো না, আমরা বলবো ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। সেটা ফাঁসি হবে নাকি জনসমক্ষে অন্যকিছু করা হবে সেটি পরে সিদ্ধান্ত হবে। আর তাসনিম সিরাজ বলে, আমাদের দুইজন নারী উপদেষ্টা আছেন। তারা কি আদৌ আছেন? দেশে কি হচ্ছে সেই ব্যাপারে উনারা কি সচেতন? ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আমরাও সেটি মানতে চাই যদি এই দেশে আইনের শাসন থাকে। আপনারা আমাদের বাধ্য করলে আমরা কী করব? আমাদের পিঠ তো দেয়ালের ঠেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ধর্ষককে কোনো ছাড় না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি। পোস্টে তিনি লিখেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুততম সময়ে বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তুমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীর পার পেয়ে যাওয়ার ফাঁকফোকর বন্ধ করা জরুরি।

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এর উপকারিতা তুলে ধরে এই দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ইসলাম ধর্ষণের সবচেয়ে কঠিন শাস্তির বিধান রেখেছে। সমাজকে এ ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত করতে ইসলামি দণ্ডবিধি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।