ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাখ টাকার বান্ডেল হাজার টাকায় বিক্রি!

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • ৭৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ঈদ সামনে রেখে জাল টাকার রমরমা বাণিজ্য চলছে। ১ লাখ টাকার একটি বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে এমন ২০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনজন জালনোটের কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ইতোমধ্যে দুই দিনের রিমান্ডে আছেন। পুলিশ বলছে, তারা জালনোট তৈরি চক্রের সদস্য।
শনিবার মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি হলেন- সুমন (৩৮), সুলতানা (২৮) ও হানিফ গাজী (৪৮)। তাদের কাছ থেকে ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার সমমূল্যের জালনোটও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল আংশিক প্রিন্ট করা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ৃহস্পতিবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচর থানা-পুলিশ জানতে পারে, রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকা থেকে কয়েকজন জাল টাকার ব্যবসায়ী বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে জালনোটসহ মাদবর বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদবর বাজারের বুড়িগঙ্গা গণপাঠাগার সমাজকল্যাণ সংস্থার সামনে বেড়িবাঁধে চেকপোস্ট পরিচালনা করে কামরাঙ্গীরচর থানার একটি টিম। এরপর বেলা দেড়টার দিকে অটোরিকশায় করে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা সেখানে পৌঁছান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় সুমন, সুলতানা ও হানিফ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৪ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী গ্যাসলাইন নামের এলাকায় সুমনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১৬ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে আংশিক প্রিন্ট করা জাল নোটগুলোও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জালনোট তৈরি করে রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করছিলেন। তারা ঈদ সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরি করে সেগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে পুলিশ।

Tag :
জনপ্রিয়

লাখ টাকার বান্ডেল হাজার টাকায় বিক্রি!

প্রকাশ : ০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

ঈদ সামনে রেখে জাল টাকার রমরমা বাণিজ্য চলছে। ১ লাখ টাকার একটি বান্ডেল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায়। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে এমন ২০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনজন জালনোটের কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ইতোমধ্যে দুই দিনের রিমান্ডে আছেন। পুলিশ বলছে, তারা জালনোট তৈরি চক্রের সদস্য।
শনিবার মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি হলেন- সুমন (৩৮), সুলতানা (২৮) ও হানিফ গাজী (৪৮)। তাদের কাছ থেকে ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার সমমূল্যের জালনোটও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছিল আংশিক প্রিন্ট করা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ৃহস্পতিবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচর থানা-পুলিশ জানতে পারে, রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকা থেকে কয়েকজন জাল টাকার ব্যবসায়ী বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে জালনোটসহ মাদবর বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদবর বাজারের বুড়িগঙ্গা গণপাঠাগার সমাজকল্যাণ সংস্থার সামনে বেড়িবাঁধে চেকপোস্ট পরিচালনা করে কামরাঙ্গীরচর থানার একটি টিম। এরপর বেলা দেড়টার দিকে অটোরিকশায় করে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা সেখানে পৌঁছান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় সুমন, সুলতানা ও হানিফ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৪ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী গ্যাসলাইন নামের এলাকায় সুমনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১৬ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে আংশিক প্রিন্ট করা জাল নোটগুলোও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জালনোট তৈরি করে রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করছিলেন। তারা ঈদ সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরি করে সেগুলো নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে পুলিশ।