বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেন।
মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), জেল আপিল ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন। রায় ঘোষণার পর আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, রায়ে তারা আপাতত সন্তুষ্ট। তবে এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আবরার ফাহাদকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
আবরার ফাহাদ হত্যার রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ। যত দ্রুত সম্ভব রায় বাস্তবায়ন করে এটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
আবরার ফাহাদ হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আবরার ফাইয়াজ।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেকে পালিয়েছে। কিন্তু এমন একজন আসামি, যিনি আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ছয় মাস পরে কেন জানানো হলো, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ আরও বলেন, হাইকোর্ট থেকে এত বড় একটি রায় আসবে, গত এক বছর আগে এমনটি আমরা কল্পনা করতে পারিনি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রসঙ্গে আবরার ফাইয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো কথা বলতে পারবে। কিন্তু আমরা চাই, যে পরিণতি আবরার ফাহাদের হয়েছে, সেটা যেন অন্য কাউকে বরণ করতে না হয়। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও ছাত্রসংগঠনগুলোকে ভূমিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের নিজ বাড়ি থেকে আবরার ফাহাদ হত্যার রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার মা রোকেয়া খাতুন। দুপুরে তিনি বলেন, আমার মতো কোনো মায়ের যেন সন্তান হারাতে না হয়। আর কোনো ছেলেকে যেন অল্প বয়সে নির্মমভাবে জীবন দিতে না হয়। এ জন্য সবার কাছে চাই যে, রায়টা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হলে আর কেউ হয়তো এমন কাজ করতে সাহস পাবে না।
এ রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ রায় ছাত্ররাজনীতির জন্য একটি কঠোর বার্তা। একটি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার জন্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের প্রতি যে ধারণা, এই রায়ের মাধ্যমে সে ধারণা প্রতিষ্ঠিত হলো। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে এই বার্তা গেল যে, আপনি যত শক্তিশালী হন না কেন, আপনার পেছনে যত শক্তি থাকুক না কেন সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে। ন্যায়বিচার হবেই। আবরার ফাহাদের মৃত্যু এটাই প্রতিষ্ঠিত করে দিয়ে গেছে যে, ফ্যাসিজম যত শক্তিশালীই হোক, মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কখনো কখনো জেগে উঠে সব ফ্যাসিজমকে ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারে।
তবে রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আসামি পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় যে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল ট্রাইব্যুনালের রায় আগের মতোই বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট ডিভিশন। আজকে প্রদত্ত রায়ে আমি আইনজীবী হিসেবে সংক্ষুব্ধ এবং আমি মনে করি ন্যায়বিচার যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম, সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার পর আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা রাজধানীর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ব্রেকিং নিউজ
বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা
বিচারিক আদালতের রায় হাইকোর্টেও বহাল
-
দেশ প্রতিবেদক - প্রকাশ : ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
- ৭১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয়










