ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্র ততই তীব্র হচ্ছে

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০১:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫
  • ৭৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রও ততই তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুলিশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই বাস্তবতা মনে রেখেই পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করবে, তাই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশ বদলাতে হলে একক নির্দেশে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এক একটি টিম হয়ে কাজ করতে হবে এবং ‘বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম হলো পুলিশ।’
তিনি বলেন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা ইতোমধ্যে সাত মাস পার করেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কী কী সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে। আপনারাও সংস্কারের কথা বলেছেন। কারও জন্য অপেক্ষা করে কোনো ফায়দা হবে না। কাজটা করতে হবে এবং সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যা কিছুই করতে চায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত দিয়েই করতে হয়। তারা সব করে দেয় না, তারা পরিবেশটা সৃষ্টি করে। যে পরিবেশটা না থাকলে কোনো কাজই আর হয় না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পুলিশকে অবহেলা করে কিংবা পাশ কাটিয়ে গিয়ে দেশ গড়তে পারব না। তারাই সম্মুখ সারির মানুষ। তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেই তারপর বাকি জিনিসগুলো হয়, তারপর বীজ লাগানো যায়, চারা লাগানো যায়, সবকিছু হয়। আইন না থাকলে, শৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাক না কেন কোনো কাজে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে পুলিশ খারাপ মানুষের প্রভাবের শিকার হয়েছে, কিন্তু এখন আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বও তাদের কাঁধে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, কনস্টিটিউশন (সংবিধান) অনুসারে যত অধিকার দেওয়া আছে, সবগুলো নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পুলিশের মাধ্যমে আমাদের এক্সিকিউট করতে হয়। কাজেই পুলিশ হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং যেকোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা, অসহায় গরিব মানুষের নিরাপত্তা, শক্তিশালী মানুষের হাত থেকে তাকে বাঁচানো সেটা নিশ্চিত করা। এগুলো যেন আমরা করতে পারি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল সম্ভাবনার দেশ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আমরা এখনো বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের সামনে বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার করি-আমরা তো বললাম আমরা কাজ করবো, নতুন বাংলাদেশ গড়বো এবং খুব দ্রুত আমরা এগোতে পারবো। সবগুলো ঠিক আছে, এগুলোর কোনোটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এগুলো নিশ্চিত একটা বিষয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটা পরিষ্কার মাথার ভেতরে রাখি, আমরা একটা যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। আমরা ৮ আগস্টের পর ভুলে গেছি যে, আর যুদ্ধ নেই। যুদ্ধ শেষ। কথাটা ঠিক না। আমরা একটা কন্টিনিয়াস যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। এটা যেন মনে থাকে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ফারজানা ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Tag :
জনপ্রিয়

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্র ততই তীব্র হচ্ছে

প্রকাশ : ০১:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রও ততই তীব্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুলিশকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই বাস্তবতা মনে রেখেই পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা এই সুযোগে শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করবে, তাই পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেশ বদলাতে হলে একক নির্দেশে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এক একটি টিম হয়ে কাজ করতে হবে এবং ‘বাংলাদেশে যত টিম আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিম হলো পুলিশ।’
তিনি বলেন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই। আমরা ইতোমধ্যে সাত মাস পার করেছি। আমরা বলছি, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। কাজেই কী কী সংস্কার করতে চাই করে ফেলতে হবে। আপনারাও সংস্কারের কথা বলেছেন। কারও জন্য অপেক্ষা করে কোনো ফায়দা হবে না। কাজটা করতে হবে এবং সেটা আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যা কিছুই করতে চায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত দিয়েই করতে হয়। তারা সব করে দেয় না, তারা পরিবেশটা সৃষ্টি করে। যে পরিবেশটা না থাকলে কোনো কাজই আর হয় না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পুলিশকে অবহেলা করে কিংবা পাশ কাটিয়ে গিয়ে দেশ গড়তে পারব না। তারাই সম্মুখ সারির মানুষ। তারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করলেই তারপর বাকি জিনিসগুলো হয়, তারপর বীজ লাগানো যায়, চারা লাগানো যায়, সবকিছু হয়। আইন না থাকলে, শৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাক না কেন কোনো কাজে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে পুলিশ খারাপ মানুষের প্রভাবের শিকার হয়েছে, কিন্তু এখন আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্বও তাদের কাঁধে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, কনস্টিটিউশন (সংবিধান) অনুসারে যত অধিকার দেওয়া আছে, সবগুলো নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পুলিশের মাধ্যমে আমাদের এক্সিকিউট করতে হয়। কাজেই পুলিশ হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং যেকোনো ব্যক্তির নিরাপত্তা, অসহায় গরিব মানুষের নিরাপত্তা, শক্তিশালী মানুষের হাত থেকে তাকে বাঁচানো সেটা নিশ্চিত করা। এগুলো যেন আমরা করতে পারি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এক বিশাল সম্ভাবনার দেশ। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আমরা এখনো বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের সামনে বিশ্ব নেতৃত্বের পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার করি-আমরা তো বললাম আমরা কাজ করবো, নতুন বাংলাদেশ গড়বো এবং খুব দ্রুত আমরা এগোতে পারবো। সবগুলো ঠিক আছে, এগুলোর কোনোটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এগুলো নিশ্চিত একটা বিষয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটা পরিষ্কার মাথার ভেতরে রাখি, আমরা একটা যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। আমরা ৮ আগস্টের পর ভুলে গেছি যে, আর যুদ্ধ নেই। যুদ্ধ শেষ। কথাটা ঠিক না। আমরা একটা কন্টিনিয়াস যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। এটা যেন মনে থাকে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ফারজানা ইসলাম বক্তব্য রাখেন।