ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কী পেলেন আসিফ-কিসলুরা, তারেক রহমানের দৃষ্টি পড়বে কি?

“না মেহেদী, ওভার অল রিপোর্টিং সময়োপযোগী হচ্ছে না। ঢাকা টাইমস টিমে তো খবরের নেশা দেখেছি। জুলাই বিপ্লর দেশের প্রেক্ষাপট বদলে দেয়ার পর আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে যারা অকারনে মামলা হামলা, নির্যাতন হয়রানির শিকার, অধিকারবঞ্চিত- তাদের দুঃখগাথা লিখতে তখন চাপের অজুহাত ছিলো, কিন্তু এখন কেনো হচ্ছে না।

নতুন বাংলাদেশ কী দিয়েছে আসিফ-কিহলুদের’, এই টাইপের কোন স্টোরি চোখে তো পড়লো না! তাহলে আমরা কি লিখছি?’

‘দেখবেন স্টোরিটা ধরা খাবেন। কারণ, তারেক রহমান এখন অভিজ্ঞ দলনেতার স্বাক্ষর রাখছেন প্রতি পদক্ষেপে। ধারণা করছি- তার চোখ এড়াবে না এ বঞ্চিতব্যাথা।

একটা দায়িত্ব বা পদ দিলে রিপোর্টটি ডেড হবে।  দরিপোর্টিং লাগবে না, কলাম স্টাইলে লিখে আমাকে পাঠিয়েছে, ছেপে দিলে মানুষ বার্তাটি পাবে।’

কদিন আগে টিএসসিতে মধ্যরাতে দেখা, আলোচনার এক অংশে তিনি রিপোর্ট প্রকাশ করে বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে বলেন।

আর ফিলিস্তিনে চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে বলেন জোরালো।

সাবেক অফিস ঢাকা টাইমস এর চিফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে চার বার নির্বাচিত, সাংবাদিক নেতা রুদ্র রাসেল ভাই আমাকে বললেন এসব কথা।

সত্যিই তো হাসিনার ১৫ বছরে আসিফ আকবর এবং তার অতি ঘনিষ্ঠ আহমেদ কিসলুসহ ভিন্নমতের বা সরকারবিরোধী মতের একটি সুনির্দিষ্ট বলয়কে অকারণে নাজেহাল করা হয়।

কেন রুদ্র ভাইয়ের মতো এভাবে চিন্তা করিনি? কেন লিখছি না?

আসিফ মেধাবী স্বচ্ছ মেগা স্টার, দেশের সম্পদ। জাতির গর্ব । এই খ্যাতনামা আর্টিস্টের বাসায় পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢুকিয়ে মধ্যরাতে পুলিশ থানায় টেনে হ্যাচরে নিয়ে যায়। কারণ তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানঘনিষ্ঠ, তার মতাদর্শী কট্টর অনুসারী অকুতোভয় কন্ঠস্বর। এটাই ‘অপরাধ’!

তবে ক্ষমতা গ্রহনের আট মাসে আসিফদের এ ত্যাগ নতুন সরকারের কোন বৈঠকেই আলোচনা ওঠেনি।
সত্যিই তো – কি পেলেন আসিফ আকবররা, এ প্রশ্ন ওঠাই যৌক্তিক ছিলো।

তারেক রহমানের কট্টর অনুসারী আসিফরা নির্যাতনের গুমের নানান হুমকি হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে পেলেও পরোয়া করেননি। জুলাই আন্দোলনেও আসিফ তার অনুসারীদের নিয়ে শক্ত অবস্থানে ছিলেন।

শিল্পীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ বিরোধী কেউ কেউ বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিশেষ সুবিধা নিয়ে মুখ বন্ধ করেন। মাঠের আন্দোলনে নীরব ছিল বদলে যাওয়া বলয়টি।

কিন্তু আসিফ বিক্রি হননি, হুমকিতে থামেননি। এ কারণে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির অনুষ্ঠানে তাদের ডাক পড়েনি। এমনকি কনসার্ট বা বিশেষ অনুষ্ঠানেও গাইতে দেওয়া হয়নি সেই ১৫ বছর। আসিফ যেন এক ধরনের নিষিদ্ধ ছিলেন।

সেই আসিফ আকবরদের নতুন সরকার কি মূল্যায়ন করল? তারা কি বিটিভি শিল্পকলা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন? না। তাহলে এসব তুলে ধরে সরকারকে চোখে আঙুল দিয়ে এ বৈষম্যগুলো আমরা বা আমিও কেনো দেখিয়ে দিচ্ছি না?

রুদ্র ভাই আমার সাংবাদিকতা জীবনের প্রথম চিফ রিপোর্টার। ভাই বন্ধু শিক্ষক পরিবার- সব ধরনের মায়াই আছে তার ভালোবাসায়। শেখন দারুন। সহজে তোলপাড় করা স্টোরি হয়ে যায়, ভীষন আইডিয়াবাজ। মিস করি সেই মেধাবী আলোচনা।

ট্রদীর্ঘ ১৫ বছর হাসেননি আসিফরা। নতুন বাংলাদেশ, নতুন কিংবা তারেক রহমান- উপযুক্ত প্রাপ্য দিয়ে আসিফ-কিসলুদের বঞ্চিতব্যথা, দীর্ঘ অভিমান উড়িয়ে দিন, ১৫ বছর পর আবার মনখুলে হেসে উঠুন তারা।

লেখক : স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।
লেখা সম্পাদনা: রুদ্র রাসেল

Tag :
জনপ্রিয়

কী পেলেন আসিফ-কিসলুরা, তারেক রহমানের দৃষ্টি পড়বে কি?

প্রকাশ : ০২:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

“না মেহেদী, ওভার অল রিপোর্টিং সময়োপযোগী হচ্ছে না। ঢাকা টাইমস টিমে তো খবরের নেশা দেখেছি। জুলাই বিপ্লর দেশের প্রেক্ষাপট বদলে দেয়ার পর আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে যারা অকারনে মামলা হামলা, নির্যাতন হয়রানির শিকার, অধিকারবঞ্চিত- তাদের দুঃখগাথা লিখতে তখন চাপের অজুহাত ছিলো, কিন্তু এখন কেনো হচ্ছে না।

নতুন বাংলাদেশ কী দিয়েছে আসিফ-কিহলুদের’, এই টাইপের কোন স্টোরি চোখে তো পড়লো না! তাহলে আমরা কি লিখছি?’

‘দেখবেন স্টোরিটা ধরা খাবেন। কারণ, তারেক রহমান এখন অভিজ্ঞ দলনেতার স্বাক্ষর রাখছেন প্রতি পদক্ষেপে। ধারণা করছি- তার চোখ এড়াবে না এ বঞ্চিতব্যাথা।

একটা দায়িত্ব বা পদ দিলে রিপোর্টটি ডেড হবে।  দরিপোর্টিং লাগবে না, কলাম স্টাইলে লিখে আমাকে পাঠিয়েছে, ছেপে দিলে মানুষ বার্তাটি পাবে।’

কদিন আগে টিএসসিতে মধ্যরাতে দেখা, আলোচনার এক অংশে তিনি রিপোর্ট প্রকাশ করে বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে বলেন।

আর ফিলিস্তিনে চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে বলেন জোরালো।

সাবেক অফিস ঢাকা টাইমস এর চিফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে চার বার নির্বাচিত, সাংবাদিক নেতা রুদ্র রাসেল ভাই আমাকে বললেন এসব কথা।

সত্যিই তো হাসিনার ১৫ বছরে আসিফ আকবর এবং তার অতি ঘনিষ্ঠ আহমেদ কিসলুসহ ভিন্নমতের বা সরকারবিরোধী মতের একটি সুনির্দিষ্ট বলয়কে অকারণে নাজেহাল করা হয়।

কেন রুদ্র ভাইয়ের মতো এভাবে চিন্তা করিনি? কেন লিখছি না?

আসিফ মেধাবী স্বচ্ছ মেগা স্টার, দেশের সম্পদ। জাতির গর্ব । এই খ্যাতনামা আর্টিস্টের বাসায় পরিকল্পিতভাবে মাদক ঢুকিয়ে মধ্যরাতে পুলিশ থানায় টেনে হ্যাচরে নিয়ে যায়। কারণ তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানঘনিষ্ঠ, তার মতাদর্শী কট্টর অনুসারী অকুতোভয় কন্ঠস্বর। এটাই ‘অপরাধ’!

তবে ক্ষমতা গ্রহনের আট মাসে আসিফদের এ ত্যাগ নতুন সরকারের কোন বৈঠকেই আলোচনা ওঠেনি।
সত্যিই তো – কি পেলেন আসিফ আকবররা, এ প্রশ্ন ওঠাই যৌক্তিক ছিলো।

তারেক রহমানের কট্টর অনুসারী আসিফরা নির্যাতনের গুমের নানান হুমকি হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে পেলেও পরোয়া করেননি। জুলাই আন্দোলনেও আসিফ তার অনুসারীদের নিয়ে শক্ত অবস্থানে ছিলেন।

শিল্পীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ বিরোধী কেউ কেউ বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার ভয়ে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিশেষ সুবিধা নিয়ে মুখ বন্ধ করেন। মাঠের আন্দোলনে নীরব ছিল বদলে যাওয়া বলয়টি।

কিন্তু আসিফ বিক্রি হননি, হুমকিতে থামেননি। এ কারণে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির অনুষ্ঠানে তাদের ডাক পড়েনি। এমনকি কনসার্ট বা বিশেষ অনুষ্ঠানেও গাইতে দেওয়া হয়নি সেই ১৫ বছর। আসিফ যেন এক ধরনের নিষিদ্ধ ছিলেন।

সেই আসিফ আকবরদের নতুন সরকার কি মূল্যায়ন করল? তারা কি বিটিভি শিল্পকলা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি নিয়োগ পেয়েছেন? না। তাহলে এসব তুলে ধরে সরকারকে চোখে আঙুল দিয়ে এ বৈষম্যগুলো আমরা বা আমিও কেনো দেখিয়ে দিচ্ছি না?

রুদ্র ভাই আমার সাংবাদিকতা জীবনের প্রথম চিফ রিপোর্টার। ভাই বন্ধু শিক্ষক পরিবার- সব ধরনের মায়াই আছে তার ভালোবাসায়। শেখন দারুন। সহজে তোলপাড় করা স্টোরি হয়ে যায়, ভীষন আইডিয়াবাজ। মিস করি সেই মেধাবী আলোচনা।

ট্রদীর্ঘ ১৫ বছর হাসেননি আসিফরা। নতুন বাংলাদেশ, নতুন কিংবা তারেক রহমান- উপযুক্ত প্রাপ্য দিয়ে আসিফ-কিসলুদের বঞ্চিতব্যথা, দীর্ঘ অভিমান উড়িয়ে দিন, ১৫ বছর পর আবার মনখুলে হেসে উঠুন তারা।

লেখক : স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।
লেখা সম্পাদনা: রুদ্র রাসেল