ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের চরম সংকট

মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮৬, বিপর্যস্ত জনজীবন

  • দেশ ডেস্ক
  • প্রকাশ : ০২:৫২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৬৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। গত শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আরও অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির সামরিক সরকার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে; তারা এর আগে হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে হতাহত প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম দেখিয়েছিল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা মিয়ানমারে ভূমিকম্প ‘ইতোমধ্যে মারাত্মক হয়ে ওঠা একটি সংকটের’ সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটিজুড়ে মারাত্মক খাদ্য সংকট চলছিল আর অর্থনীতি পতনের পথে আছে, এখন মিয়ানমার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিজেকে বিধ্বস্ত হিসেবে দেখতে পাচ্ছে।
ভূমিকম্পটি মধ্যাঞ্চলীয় শহর সাগাইং শহরে আঘাত হানে, এরপর নিকটবর্তী মান্দালয় থেকে ব্যাপক ধ্বংসের খবর আসতে থাকে যা মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর; পাশাপাশি ২৪১ কিলোমিটার দক্ষিণে রাজধানী নেপিদো থেকেও ধ্বংসযজ্ঞের খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়জুড়ে সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমার দশকের পর দশক ধরে অস্থিরতায় ভুগছে। মারাত্মক ভূমিকম্পের পর এই দেশটিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাকে নজিরবিহীন দুর্যোগ বলছে বহু ত্রাণ সংস্থা।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। নতুন নতুন অনেক সরকারবিরোধী গোষ্ঠী জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। দুই পক্ষের সহিংস লড়াইয়ের কারণে দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা সারাক্ষণ শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকট চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, মান্দালয়সহ বিধ্বস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সহায়তা প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ‘নজিরবিহীন স্তরে’ পৌঁছে গেছে, দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের পক্ষেই খাবার কেনা অসাধ্য হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মান্দালয়ের একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয় ধসে অন্তত ৫০ শিশু ও ২ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। বহু হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিধ্বস্ত হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোনালি বৌদ্ধ মন্দিরের শহর মান্দালয় ‘সোনার শহর’ হিসেবে পরিচিত, কিন্তু মিয়ানমারের সাবেক এই রাজকীয় রাজধানী শহরটির বাতাসে এখন শুধু মৃতদেহের গন্ধ।
এতো মৃতদেহ স্তূপ হয়ে আছে যে সেগুলো ‘একসঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে’ বলে জানিয়েছেন মান্দালয়ের এক বাসিন্দা।
দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল শহরটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা রাতে ঘুমহীন অবস্থায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরমধ্যে খাবার ও পানির সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে ওঠায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা।

জনপ্রিয়

খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের চরম সংকট

মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮৬, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ : ০২:৫২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। গত শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আরও অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং গত মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির সামরিক সরকার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে; তারা এর আগে হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে হতাহত প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম দেখিয়েছিল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা মিয়ানমারে ভূমিকম্প ‘ইতোমধ্যে মারাত্মক হয়ে ওঠা একটি সংকটের’ সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটিজুড়ে মারাত্মক খাদ্য সংকট চলছিল আর অর্থনীতি পতনের পথে আছে, এখন মিয়ানমার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিজেকে বিধ্বস্ত হিসেবে দেখতে পাচ্ছে।
ভূমিকম্পটি মধ্যাঞ্চলীয় শহর সাগাইং শহরে আঘাত হানে, এরপর নিকটবর্তী মান্দালয় থেকে ব্যাপক ধ্বংসের খবর আসতে থাকে যা মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর; পাশাপাশি ২৪১ কিলোমিটার দক্ষিণে রাজধানী নেপিদো থেকেও ধ্বংসযজ্ঞের খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়জুড়ে সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমার দশকের পর দশক ধরে অস্থিরতায় ভুগছে। মারাত্মক ভূমিকম্পের পর এই দেশটিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাকে নজিরবিহীন দুর্যোগ বলছে বহু ত্রাণ সংস্থা।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। নতুন নতুন অনেক সরকারবিরোধী গোষ্ঠী জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। দুই পক্ষের সহিংস লড়াইয়ের কারণে দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা সারাক্ষণ শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভূমিকম্পের পর মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকট চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, মান্দালয়সহ বিধ্বস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সহায়তা প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ‘নজিরবিহীন স্তরে’ পৌঁছে গেছে, দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের পক্ষেই খাবার কেনা অসাধ্য হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মান্দালয়ের একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয় ধসে অন্তত ৫০ শিশু ও ২ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। বহু হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিধ্বস্ত হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোনালি বৌদ্ধ মন্দিরের শহর মান্দালয় ‘সোনার শহর’ হিসেবে পরিচিত, কিন্তু মিয়ানমারের সাবেক এই রাজকীয় রাজধানী শহরটির বাতাসে এখন শুধু মৃতদেহের গন্ধ।
এতো মৃতদেহ স্তূপ হয়ে আছে যে সেগুলো ‘একসঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে’ বলে জানিয়েছেন মান্দালয়ের এক বাসিন্দা।
দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল শহরটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা রাতে ঘুমহীন অবস্থায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরমধ্যে খাবার ও পানির সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে ওঠায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা।