ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আ. লীগ নিষিদ্ধ ও নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারসহ ১২ দফা দাবি

এক যুগ পর ঢাকায় হেফাজতের বড় সমাবেশ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫
  • ৬৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নারী সংস্কার কমিশন বাতিল, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাসহ অন্তর্র্বর্তী সরকারের কাছে ১২ দফা ঘোষণাপত্র দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশের পর শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাধাহীন বৃহৎ সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। এই সমাবেশে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক।
এছাড়া নতুন দুটি কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই বৃহৎ সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হচ্ছে- নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন এবং আগামী ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা আদায়ে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি।
এদিন সকাল ৯টার দিকে চার দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশ শুরু হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবু নগরীর মোনাজাতের মাধ্যমে মহাসমাবেশ শেষ হয়। মহাসমাবেশকে ঘিরে ভোর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মীদের ভিড়ে ভোর থেকে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে আসে।
ঘোষণাপত্রের প্রথম দফাতে নারী সংস্কার কমিশন ও প্রতিবেদন বাতিলের পাশাপাশি আলেম ও নারী প্রতিনিধি নিয়ে নতুন কমিশন গঠনের দাবি করা হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা বলা হয়।
দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে-সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন ও বহুত্ববাদ বাদ দিতে হবে। শাপলা ও জুলাই গণহত্যার বিচারে ট্রাইব্যুনালের গতি আনতে হবে এবং নির্বাচনের আগে বিচার করতে হবে। চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদের হাতে নিহত সাইফুলের হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে দায়ের করা সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও যারা গুম-খুন করেছে তাদের বিচার করতে হবে। গাজায় হামলা নিয়ে সরকারের অবস্থান ও ভূমিকা রাখতে হবে। প্রাইমারি থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলে ভিনদেশিদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।
সাজিদুর রহমান বলেন, ‘এসব দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, প্রয়োজনে জেহাদ করব।’
সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক ১২ দফাসংবলিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এতে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল ও আলেমদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন, বিভিন্ন শব্দের আড়ালে ধর্মবিরোধী গোষ্ঠীর স্বীকৃতি বন্ধ, জুলাই, শাপলা ও সব গণহত্যার বিচারে গতি আনতে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানো, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতসহ সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করা হয়।
নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সব নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন পবিত্র কোরআন ও ইসলামকে কটাক্ষ করেছে। তারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শাস্তি বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
মানবিক করিডরের নামে যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা লুণ্ঠনের পাঁয়তারা করা হয়, তাহলে দেশপ্রেমিক জনতা ছাড় দেবে না, বলেন মামুনুল হক।
সমাবেশে ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় নেতা জৌনপুরের সাইয়্যেদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ‘অসংখ্য আলেম-ওলামাকে জঙ্গি তকমা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। যদি বাবর সাহেব (লুৎফুজ্জামান বাবর) মুক্তি পায়, আলেম সমাজ কেন মুক্তি পাবে না। তাদের মুক্তির আগে সংস্কার নয়, নির্বাচনও হতে দেওয়া হবে না।’
বিতর্কিত নারী কমিশন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হচ্ছে বলেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবিক করিডরের নামে বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবেন না।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমার ভাই আবরার, আবু সাঈদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আসবে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে সবচেয়ে বড় সংস্কার। এখানে যদি, কিন্তু, আচ্ছা, দেখি নেই। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতেই হবে।’
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কার রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে যদি নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, নারীদের সম্মান নিশ্চিত হয়, সেগুলো করুন।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মারা গেছে এবং দিল্লিতে তাদের জানাজা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্ট রেড কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। সেদিনই আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’
হাসনাত আরও বলেন, (গণ-অভ্যুত্থানের) আট মাস পরে এসে অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ বারবার মনে করিয়ে দেয়, আওয়ামী লীগ নাকি রাজনৈতিক দল। দলটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নাকি তাদের নেই। অধ্যাপক ইউনূস কয়েক দিন আগে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিবে কি না, এ সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের। অধ্যাপক ইউনূস ভুলে যাবেন না আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। স্বাধীনতার পর বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিবুর গণতন্ত্রকে হত্যা করেন। সে সময়ে জাসদের ৩০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল এই দল। এই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সংগঠন। তাদের নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কার দেখতে চাই।’
হেফাজতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আজকে এখান থেকে আপনারা শহীদদের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করুন।’
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদ বিন হোসাইন বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা পবিত্র কোরআনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রুখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত। আজকের সমাবেশ তারই প্রমাণ। অবিলম্বে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিল করতে হবে।

জনপ্রিয়

আ. লীগ নিষিদ্ধ ও নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারসহ ১২ দফা দাবি

এক যুগ পর ঢাকায় হেফাজতের বড় সমাবেশ

প্রকাশ : ০২:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

নারী সংস্কার কমিশন বাতিল, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাসহ অন্তর্র্বর্তী সরকারের কাছে ১২ দফা ঘোষণাপত্র দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশের পর শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাধাহীন বৃহৎ সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। এই সমাবেশে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক।
এছাড়া নতুন দুটি কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই বৃহৎ সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। নতুন কর্মসূচিগুলো হচ্ছে- নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন এবং আগামী ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা আদায়ে বিক্ষোভ মিছিল করবে সংগঠনটি।
এদিন সকাল ৯টার দিকে চার দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশ শুরু হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে হেফাজতের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবু নগরীর মোনাজাতের মাধ্যমে মহাসমাবেশ শেষ হয়। মহাসমাবেশকে ঘিরে ভোর থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে অংশ নিতে আসা নেতা-কর্মীদের ভিড়ে ভোর থেকে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে আসে।
ঘোষণাপত্রের প্রথম দফাতে নারী সংস্কার কমিশন ও প্রতিবেদন বাতিলের পাশাপাশি আলেম ও নারী প্রতিনিধি নিয়ে নতুন কমিশন গঠনের দাবি করা হয়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা বলা হয়।
দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে-সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন ও বহুত্ববাদ বাদ দিতে হবে। শাপলা ও জুলাই গণহত্যার বিচারে ট্রাইব্যুনালের গতি আনতে হবে এবং নির্বাচনের আগে বিচার করতে হবে। চট্টগ্রামে উগ্র হিন্দুত্ববাদের হাতে নিহত সাইফুলের হত্যাকারীদের বিচার করতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে দায়ের করা সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও যারা গুম-খুন করেছে তাদের বিচার করতে হবে। গাজায় হামলা নিয়ে সরকারের অবস্থান ও ভূমিকা রাখতে হবে। প্রাইমারি থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পার্বত্যাঞ্চলে ভিনদেশিদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।
সাজিদুর রহমান বলেন, ‘এসব দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, প্রয়োজনে জেহাদ করব।’
সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হক ১২ দফাসংবলিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এতে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল ও আলেমদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন, বিভিন্ন শব্দের আড়ালে ধর্মবিরোধী গোষ্ঠীর স্বীকৃতি বন্ধ, জুলাই, শাপলা ও সব গণহত্যার বিচারে গতি আনতে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বাড়ানো, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতসহ সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করা হয়।
নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সব নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন পবিত্র কোরআন ও ইসলামকে কটাক্ষ করেছে। তারা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের শাস্তি বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
মানবিক করিডরের নামে যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা লুণ্ঠনের পাঁয়তারা করা হয়, তাহলে দেশপ্রেমিক জনতা ছাড় দেবে না, বলেন মামুনুল হক।
সমাবেশে ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মীয় নেতা জৌনপুরের সাইয়্যেদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ‘অসংখ্য আলেম-ওলামাকে জঙ্গি তকমা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। যদি বাবর সাহেব (লুৎফুজ্জামান বাবর) মুক্তি পায়, আলেম সমাজ কেন মুক্তি পাবে না। তাদের মুক্তির আগে সংস্কার নয়, নির্বাচনও হতে দেওয়া হবে না।’
বিতর্কিত নারী কমিশন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হচ্ছে বলেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানবিক করিডরের নামে বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবেন না।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমার ভাই আবরার, আবু সাঈদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আসবে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে সবচেয়ে বড় সংস্কার। এখানে যদি, কিন্তু, আচ্ছা, দেখি নেই। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতেই হবে।’
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কার রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে যদি নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, নারীদের সম্মান নিশ্চিত হয়, সেগুলো করুন।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মারা গেছে এবং দিল্লিতে তাদের জানাজা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্ট রেড কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। সেদিনই আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’
হাসনাত আরও বলেন, (গণ-অভ্যুত্থানের) আট মাস পরে এসে অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ বারবার মনে করিয়ে দেয়, আওয়ামী লীগ নাকি রাজনৈতিক দল। দলটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নাকি তাদের নেই। অধ্যাপক ইউনূস কয়েক দিন আগে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিবে কি না, এ সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের। অধ্যাপক ইউনূস ভুলে যাবেন না আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। স্বাধীনতার পর বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিবুর গণতন্ত্রকে হত্যা করেন। সে সময়ে জাসদের ৩০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল এই দল। এই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সংগঠন। তাদের নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কার দেখতে চাই।’
হেফাজতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আজকে এখান থেকে আপনারা শহীদদের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করুন।’
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদ বিন হোসাইন বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা পবিত্র কোরআনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড রুখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত। আজকের সমাবেশ তারই প্রমাণ। অবিলম্বে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিল করতে হবে।