ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডলারের বিনিময়হার নমনীয় করতে সম্মত বাংলাদেশ

দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার দেবে আইএমএফ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • ৯১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ঋণের শর্ত পূরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর সমঝোতা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের আওতায় জুন মাসে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে যাচ্ছে আইএমএফ।
এ বিষয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই আইএমএফের সঙ্গে ঋণ ছাড়সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাই থেকে ভার্চুয়ালি ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কয়েক দফা এখানে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ বিভিন্ন স্টেকের সাথে তারা (আইএসএফ) কথা বলেছে। এক্ষেত্রে তাদের যে সব শর্ত ছিল, সেগুলো খোলাসা করেছে। এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর ধারণা করা হচ্ছে, আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অচলায়তন ছিল, তার অবসান হবে।’
ডলারের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় এতদিন ঋণের কিস্তি আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত আইএমএফ তা মেনে নিয়েছে। ফলে ঋণ প্যাকেজের তৃতীয় কিস্তি হিসেবে জুনে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঋণ ছাড় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থাও বাড়াবে।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে ২০২২ সালে আইএমএফের দ্বারস্থ হয় তৎকালীন সরকার। সে-সময় নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য তিন বছরের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করে। যার আওতায় এখন পর্যন্ত দুটি কিস্তি ছাড় হয়েছে।
অন্তর্র্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে যায় আইএমএফ মিশন। সে সময় ডলারের বাজার-ভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ না করা, ৬৩ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে না পারা আর ভর্তুকি কমানোর প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করে মিশন। শঙ্কা তৈরি হয় ঋণের বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে।
গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইএমএফের ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ যতগুলো শর্ত পূরণ করার কথা ছিল, প্রতিটিরই অগ্রগতি আছে, কিন্তু কোনো কোনো শর্ত আমরা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করতে পারিনি। এগুলোর সবই যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু তা নয়, কিছু কিছু রাষ্ট্রীয় ইস্যুও আছে।’
এর পর গত ২৯ এপ্রিল অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ এখন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ওপর নির্ভর করে না।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএমএফ যে শর্ত দিয়েছে, এর সবগুলো বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করবে না। আমাদের স্বার্থই আমরা দেখব। তারা অযৌক্তিকভাবে যদি ঋণ না দেয়, তাদের সমস্যা।’
আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির তিন কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন শর্তের কারণে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। ঋণ ছাড়ের আগে আইএমএফের শর্তের অগ্রগতি যাচাইয়ে গত মাসে একটি মিশন ঢাকা সফর করে। কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই তারা ঢাকা ছাড়ে। মূলত, বিনিময় হার নিয়েই দুই পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারেনি। যে কারণে আলোচনা গড়ায় ওয়াশিংটনে। গত মাসের শেষ দিকে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাইডলাইনে আলাদা বৈঠক হয়। সেখানেও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে গত ৫ ও ৬ এপ্রিল দুই পক্ষ ভার্চুয়াল বৈঠক করে। এসব বৈঠকের ভিত্তিতে অবশেষে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। সে আলোকে শিগগিরই স্টাফ লেভেল চুক্তি হতে পারে।

ডলারের বিনিময়হার নমনীয় করতে সম্মত বাংলাদেশ

দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার দেবে আইএমএফ

প্রকাশ : ০২:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

ঋণের শর্ত পূরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর সমঝোতা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের আওতায় জুন মাসে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে যাচ্ছে আইএমএফ।
এ বিষয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই আইএমএফের সঙ্গে ঋণ ছাড়সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দুবাই থেকে ভার্চুয়ালি ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কয়েক দফা এখানে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ বিভিন্ন স্টেকের সাথে তারা (আইএসএফ) কথা বলেছে। এক্ষেত্রে তাদের যে সব শর্ত ছিল, সেগুলো খোলাসা করেছে। এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর ধারণা করা হচ্ছে, আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অচলায়তন ছিল, তার অবসান হবে।’
ডলারের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় এতদিন ঋণের কিস্তি আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত আইএমএফ তা মেনে নিয়েছে। ফলে ঋণ প্যাকেজের তৃতীয় কিস্তি হিসেবে জুনে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঋণ ছাড় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের আস্থাও বাড়াবে।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে ২০২২ সালে আইএমএফের দ্বারস্থ হয় তৎকালীন সরকার। সে-সময় নানা শর্ত জুড়ে দিয়ে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য তিন বছরের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করে। যার আওতায় এখন পর্যন্ত দুটি কিস্তি ছাড় হয়েছে।
অন্তর্র্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে যায় আইএমএফ মিশন। সে সময় ডলারের বাজার-ভিত্তিক বিনিময় হার নির্ধারণ না করা, ৬৩ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায় করতে না পারা আর ভর্তুকি কমানোর প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করে মিশন। শঙ্কা তৈরি হয় ঋণের বাকি অর্থ ছাড় নিয়ে।
গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইএমএফের ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ যতগুলো শর্ত পূরণ করার কথা ছিল, প্রতিটিরই অগ্রগতি আছে, কিন্তু কোনো কোনো শর্ত আমরা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করতে পারিনি। এগুলোর সবই যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু তা নয়, কিছু কিছু রাষ্ট্রীয় ইস্যুও আছে।’
এর পর গত ২৯ এপ্রিল অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ এখন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ওপর নির্ভর করে না।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএমএফ যে শর্ত দিয়েছে, এর সবগুলো বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করবে না। আমাদের স্বার্থই আমরা দেখব। তারা অযৌক্তিকভাবে যদি ঋণ না দেয়, তাদের সমস্যা।’
আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ কর্মসূচির তিন কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন শর্তের কারণে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। ঋণ ছাড়ের আগে আইএমএফের শর্তের অগ্রগতি যাচাইয়ে গত মাসে একটি মিশন ঢাকা সফর করে। কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই তারা ঢাকা ছাড়ে। মূলত, বিনিময় হার নিয়েই দুই পক্ষ সমঝোতায় আসতে পারেনি। যে কারণে আলোচনা গড়ায় ওয়াশিংটনে। গত মাসের শেষ দিকে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সাইডলাইনে আলাদা বৈঠক হয়। সেখানেও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে গত ৫ ও ৬ এপ্রিল দুই পক্ষ ভার্চুয়াল বৈঠক করে। এসব বৈঠকের ভিত্তিতে অবশেষে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। সে আলোকে শিগগিরই স্টাফ লেভেল চুক্তি হতে পারে।