ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাবি আদায়ে জগন্নাথে শাটডাউন

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৮০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে লংমার্চে পুলিশের হামলার বিচার দাবি নতুন মাত্রা দিয়েছে এই আন্দোলনে। আন্দালনরত শিক্ষার্থীদের একাত্বতা ঘোষণা করে যোগ দিয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও। ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন এ শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাকরাইলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।
অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, সরকারকে বলব আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। দাবি মেনে নিলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই মিনিটে কাকরাইল ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে যাব। আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শি¶া-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় ভালো হবে না। আমার চোখের সামনে আমার কোনো শিক্ষার্থীকে কেউ আঘাত করতে পারবে না। দাবি মেনে নিলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই মিনিটে রাস্তা ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে যাব। যদি দাবি না মানা হয় তাহলে রাস্তা থেকে আমাদের কেউ সরিয়ে দিতে পারবে না। আমি আরও বলছি, আমাদের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রাস্তায়, তাই ক্যাম্পাস আর খোলার দরকার নেই। ওই ক্যাম্পাস বন্ধ থাকুক, শাটডাউন থাকুক।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করছেন। অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরেননি কেউ। আবার কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় ঘুমিয়ে আজ সকালেও অবস্থান করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী তিন দফা দাবি আদায়ে কাকরাইলে এসে আন্দোলন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শুধু অফিস খোলা রয়েছে। কোনো ক্লাস হচ্ছে না, কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না। এতেই বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। আমরা অফিসিয়ালি শাটডাউন ঘোষণা করতে পারি না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় আন-অফিসিয়ালি বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন রয়েছে। কেননা সব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রাস্তায়। এ অবস্থায় ক্লাস-পরীক্ষা কে নেবে?
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সরকার চাইলেই শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে পারে। সামনে বাজেট ঘোষণা করবে সরকার, সেখানে আমাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
যৌক্তিক দাবি গড়িমসি কেন, প্রশ্ন সারজিসের : তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের এ দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে সেগুলো মেনে নিতে সরকার কেন এত গড়িমসি করছেÑ এমন প্রশ্ন রেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে এত গড়িমসি কেন? তাদের আবার রাস্তায় নামতে হলো কেন?
তিনি লিখেছেন, বছরের পর বছর পুরো দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাষ করা হয়েছে। অথচ ঢাকার বুকে দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল নেই। মেয়েদের জন্য নামমাত্র একটি আবাসিক হল আছে। একাডেমিক স্পেসও চাহিদার তুলনায় নেই বললেই চলে।
সারজিস আরও লেখেন, অথচ যেই সদরঘাট এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত সেটি ঢাকার বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী একটি জায়গা। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কীভাবে থাকবে কিংবা থাকে এগুলো নিয়ে কি কারও মাথাব্যথা নেই? ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের অনেক জায়গা এবং ভবন এতদিন ধরে দখল করেছিল আওয়ামী লীগের দখলদাররা। কিন্তু এখনো কেন তারা তাদের জায়গা কিংবা ভবনগুলো ফিরে পাচ্ছে না? কেন তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে দ্রুতগতির সঙ্গে করা হচ্ছে না? কেন একনেকে এখনো সেই বিল পাস হচ্ছে না?’ এনসিপির এ নেতা আরও লেখেন, শিক্ষার্থীরা তো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিল। তাদের জন্য আলাদা করে কী হলো? কোন সংস্কারটা করা হলো? কোন সুযোগ সুবিধাটা বাড়ল?’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হোক। নামকাওয়াস্তে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে প্রতীয়মাণ হোক, যোগ করেন সারজিস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম নয়ন চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। তিনি বলেন, আমাদের ছোট ভাইরা মার খাচ্ছে। বাসায় বসে এটা মেনে নিতে পারছি না। রাতে এসেও দেখে গেছি। সাবেক বর্তমান আমাদের সবার দাবি একটাই।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান জানান, আমাদের দাবি আদায়ে বড় ভাইরাও এসেছেন। এ এলাকার আশপাশের বড় আপুরাও এসেছেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ঢাকায় আসা বড় ভাইয়েরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল হক এরফান বলেন, বুধবার দুপুরের দিকে যখন লাইভে দেখলাম আমার শিক্ষক, ভাইদের ওপর পুলিশ হামলা চালাচ্ছে তখন আর মনস্থির করতে পারলাম না। অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছি। ভোর ৪টায় এসে ঢাকায় নেমেছি। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যাব না।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করছেন। অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরেননি কেউ। কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় ঘুমিয়ে আজ সকালেও অবস্থান করছেন।

জনপ্রিয়

দাবি আদায়ে জগন্নাথে শাটডাউন

প্রকাশ : ০২:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে লংমার্চে পুলিশের হামলার বিচার দাবি নতুন মাত্রা দিয়েছে এই আন্দোলনে। আন্দালনরত শিক্ষার্থীদের একাত্বতা ঘোষণা করে যোগ দিয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরাও। ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে। জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন এ শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাকরাইলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।
অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, সরকারকে বলব আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। দাবি মেনে নিলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই মিনিটে কাকরাইল ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে যাব। আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শি¶া-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় ভালো হবে না। আমার চোখের সামনে আমার কোনো শিক্ষার্থীকে কেউ আঘাত করতে পারবে না। দাবি মেনে নিলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই মিনিটে রাস্তা ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে যাব। যদি দাবি না মানা হয় তাহলে রাস্তা থেকে আমাদের কেউ সরিয়ে দিতে পারবে না। আমি আরও বলছি, আমাদের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রাস্তায়, তাই ক্যাম্পাস আর খোলার দরকার নেই। ওই ক্যাম্পাস বন্ধ থাকুক, শাটডাউন থাকুক।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করছেন। অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরেননি কেউ। আবার কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় ঘুমিয়ে আজ সকালেও অবস্থান করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী তিন দফা দাবি আদায়ে কাকরাইলে এসে আন্দোলন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শুধু অফিস খোলা রয়েছে। কোনো ক্লাস হচ্ছে না, কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না। এতেই বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। আমরা অফিসিয়ালি শাটডাউন ঘোষণা করতে পারি না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় আন-অফিসিয়ালি বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন রয়েছে। কেননা সব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রাস্তায়। এ অবস্থায় ক্লাস-পরীক্ষা কে নেবে?
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সরকার চাইলেই শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে পারে। সামনে বাজেট ঘোষণা করবে সরকার, সেখানে আমাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
যৌক্তিক দাবি গড়িমসি কেন, প্রশ্ন সারজিসের : তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের এ দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে সেগুলো মেনে নিতে সরকার কেন এত গড়িমসি করছেÑ এমন প্রশ্ন রেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে এত গড়িমসি কেন? তাদের আবার রাস্তায় নামতে হলো কেন?
তিনি লিখেছেন, বছরের পর বছর পুরো দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাষ করা হয়েছে। অথচ ঢাকার বুকে দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আবাসিক হল নেই। মেয়েদের জন্য নামমাত্র একটি আবাসিক হল আছে। একাডেমিক স্পেসও চাহিদার তুলনায় নেই বললেই চলে।
সারজিস আরও লেখেন, অথচ যেই সদরঘাট এলাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত সেটি ঢাকার বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী একটি জায়গা। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী কীভাবে থাকবে কিংবা থাকে এগুলো নিয়ে কি কারও মাথাব্যথা নেই? ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের অনেক জায়গা এবং ভবন এতদিন ধরে দখল করেছিল আওয়ামী লীগের দখলদাররা। কিন্তু এখনো কেন তারা তাদের জায়গা কিংবা ভবনগুলো ফিরে পাচ্ছে না? কেন তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে দ্রুতগতির সঙ্গে করা হচ্ছে না? কেন একনেকে এখনো সেই বিল পাস হচ্ছে না?’ এনসিপির এ নেতা আরও লেখেন, শিক্ষার্থীরা তো বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিল। তাদের জন্য আলাদা করে কী হলো? কোন সংস্কারটা করা হলো? কোন সুযোগ সুবিধাটা বাড়ল?’ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিক দাবিগুলো অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হোক। নামকাওয়াস্তে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে প্রতীয়মাণ হোক, যোগ করেন সারজিস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম নয়ন চাকরি করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। তিনি বলেন, আমাদের ছোট ভাইরা মার খাচ্ছে। বাসায় বসে এটা মেনে নিতে পারছি না। রাতে এসেও দেখে গেছি। সাবেক বর্তমান আমাদের সবার দাবি একটাই।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান জানান, আমাদের দাবি আদায়ে বড় ভাইরাও এসেছেন। এ এলাকার আশপাশের বড় আপুরাও এসেছেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ঢাকায় আসা বড় ভাইয়েরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল হক এরফান বলেন, বুধবার দুপুরের দিকে যখন লাইভে দেখলাম আমার শিক্ষক, ভাইদের ওপর পুলিশ হামলা চালাচ্ছে তখন আর মনস্থির করতে পারলাম না। অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছি। ভোর ৪টায় এসে ঢাকায় নেমেছি। আমাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যাব না।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাকরাইলে অবস্থান করছেন। অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লান্ত হলেও আন্দোলন থেকে সরেননি কেউ। কেউ কেউ রাতভর রাস্তায় ঘুমিয়ে আজ সকালেও অবস্থান করছেন।