ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে দলগুলোর ভিন্নমত

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • ১২১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ দল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবারের প্রস্তাব করেছে। তবে কয়েকটি দল দুইবারের পর একবার বিরতি দিয়ে আবার হতে পারবেন বলে মত দিয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দুদিন বিরতির পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একডেমিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার প্রথমার্ধে এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস বন্ধ করা ঠিক হবে না। আলাদা আলাদা আলোচনা করে সমাধানে আসা কঠিন। আমরা তো সংস্কার চাই। তবে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রের কোনো একটি বিভাগকে দুর্বল করে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে না। একজন স্বৈরাচার হয়েছিল সেটি চিন্তা করে যদি সংস্কার করে হাত পা বেঁধে দেওয়া হলে সেটি ঠিক হবে না। দুই মেয়াদ হোক বা ৫ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হোক বরং প্রধানমন্ত্রী কত বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন সেটা আলোচনা করা যেতে পারে।’

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, পারস্পরিক আলোচনা করে তিনটি দল ছাড়া আমরা সবাই একমতে এসেছি, বার বা টার্মের হিসাব বাদ দিয়ে একজন ব্যক্তি তার হোল লাইফটাইমে দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এর বেশি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এই মত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

পৃথিবীর অনেক দেশে এ ধরনের বিধানের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার অনেক দেশে এমন নজির আছে। বাংলাদেশের জন্যও আমরা এটাকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি। এই ব্যাপারে আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন-এমন একটি প্রস্তাবে তিনটি বাদে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কয়টি মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দুবার শপথ নিতে পারবেন। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে দুটি। তিনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এখন বার ও মেয়াদ নিয়ে একটি সমস্যার জায়গা তৈরি হয়েছে। মেয়াদ বলতে পূর্ণ পাঁচ বছর কিংবা সংসদ যতদিন আছে, সেটি বোঝায়। আর দুবার বলতে বোঝায়, একই মেয়াদের মধ্যে দুবার হতে পারে। এমন একটি সমস্যার জায়গা থেকে আলোচনাটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বছর দিয়ে ঠিক করার একটি প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এই প্রস্তাব আসার পর পারস্পরিক আলোচনার জন্য সময় নেওয়ার কথা বলেছি। সেই সময় দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সেটি অনুমোদন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সেটি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

ঐকমত্যের স্বার্থে নিজেদের অনেক প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে একমত হচ্ছি আমরা। কিন্তু এখানে কিছু কিছু দল একবারে নিজেদের অবস্থানে অনড়। ২ থেকে ৩টি দল তাদের পার্টির কনফারমেশন নিতে হচ্ছে, দল থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে কিয়ামত পর্যন্ত কোনো ঐক্যের সম্ভাবনা দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই শতভাগ ঐক্যের জায়গা তৈরি হবে না। এই জন্য আমরা বারবার বলেছি, কতটুকু পর্যন্ত আলোচনায় একমত হলে তাকে ঐকমত্য বলবেন কিংবা কতটি দল একমত থাকলে সেটাকে ঐক্য বলবেন-এটার একটা মাপকাঠির ঐকমত্য কমিশনকে নির্ধারণ করা দরকার। আমরা ঐকমত্য কমিশনকে বলেছি আপনারা এখানে রেফারির ভূমিকায় আছেন, সবার আলাপ-আলোচনা শুনে আপনাদের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘পরপর দুই বার প্রধানমন্ত্রী হবেন। এরপর একবার গ্যাপ দিয়ে দুই বার হবেন, আবার একবার গ্যাপ দিয়ে আবার দুইবার হবেন। যতবার খুশি ততবার হবেন।’

আমজনতা দলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাধনা মহল বলেন, ‘এক ব্যক্তি দুই বার প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। একবার গ্যাপ দিয়ে আরেক মেয়াদে থাকতে পারবে।’

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ঐকমত্যে স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ দুই বারের পক্ষে। সংকটের মূল জায়গা নিম্নকক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, পুরো মেয়াদ সম্পন্ন না করা নিয়ে বিতর্ক আছে তা বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবার বিবেচিত হবে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সমর্থন আছে। এটায় সিদ্ধান্তে আসা উচিত।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরেকটু ছাড় দেওয়ার জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একটু ছাড় দেওয়ার জায়গাটাতে আসুন, আপনারা আসছেন, কিন্তু আরেকটু এগোন। আরেকটু এগোলে আমরা দ্রুত জুলাই সনদ তৈরি করতে পারব। আলোচনার মাধ্যমে যেন আমরা এই পর্বটা শেষ করতে পারি।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি একটি কঠিন পরিস্থিতিতে। সে পরিস্থিতিটা ১৬ বছরের সংগ্রাম, হাজারো লোকের আত্মদান। শত শত লোকের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা, বহু লোক এখনো নিখোঁজ, তাঁদের অনেকের এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই যে আত্মদান, এতে আপনারাই সংশ্লিষ্ট। আপনাদের কর্মী, আপনাদের দল, আপনাদেরই সংগঠন। যারা প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, যার জন্য আমরা এখানে আসতে পারলাম। ফলে এটা একটু বিবেচনা রেখে কোন জায়গায় আমরা একমত হতে পারি, কোন জায়গায় আমরা কত দূর পর্যন্ত যেতে পারি, এ বিষয়ে বিবেচনা করা উচিত।’

নির্বাচন ও বিচারের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এগুলো সমান্তরালভাবে চলবে। কিন্তু জুলাই সনদটা খুব দ্রুত করা দরকার। এ জন্য সবার কাছে আবার আহ্বান, আপনারা আরেকটু ছাড়ের জায়গায় আসুন, তাহলে আমাদের জন্য সহজতর হবে।’

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে দলগুলোর ভিন্নমত

প্রকাশ : ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ দল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবারের প্রস্তাব করেছে। তবে কয়েকটি দল দুইবারের পর একবার বিরতি দিয়ে আবার হতে পারবেন বলে মত দিয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দুদিন বিরতির পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একডেমিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার প্রথমার্ধে এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিস বন্ধ করা ঠিক হবে না। আলাদা আলাদা আলোচনা করে সমাধানে আসা কঠিন। আমরা তো সংস্কার চাই। তবে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রের কোনো একটি বিভাগকে দুর্বল করে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে না। একজন স্বৈরাচার হয়েছিল সেটি চিন্তা করে যদি সংস্কার করে হাত পা বেঁধে দেওয়া হলে সেটি ঠিক হবে না। দুই মেয়াদ হোক বা ৫ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হোক বরং প্রধানমন্ত্রী কত বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন সেটা আলোচনা করা যেতে পারে।’

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, পারস্পরিক আলোচনা করে তিনটি দল ছাড়া আমরা সবাই একমতে এসেছি, বার বা টার্মের হিসাব বাদ দিয়ে একজন ব্যক্তি তার হোল লাইফটাইমে দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এর বেশি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এই মত দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

পৃথিবীর অনেক দেশে এ ধরনের বিধানের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার অনেক দেশে এমন নজির আছে। বাংলাদেশের জন্যও আমরা এটাকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি। এই ব্যাপারে আমরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছেছি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন-এমন একটি প্রস্তাবে তিনটি বাদে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কয়টি মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দুবার শপথ নিতে পারবেন। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ হবে দুটি। তিনি দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এখন বার ও মেয়াদ নিয়ে একটি সমস্যার জায়গা তৈরি হয়েছে। মেয়াদ বলতে পূর্ণ পাঁচ বছর কিংবা সংসদ যতদিন আছে, সেটি বোঝায়। আর দুবার বলতে বোঝায়, একই মেয়াদের মধ্যে দুবার হতে পারে। এমন একটি সমস্যার জায়গা থেকে আলোচনাটি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বছর দিয়ে ঠিক করার একটি প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এই প্রস্তাব আসার পর পারস্পরিক আলোচনার জন্য সময় নেওয়ার কথা বলেছি। সেই সময় দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সেটি অনুমোদন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোও সেটি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

ঐকমত্যের স্বার্থে নিজেদের অনেক প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে একমত হচ্ছি আমরা। কিন্তু এখানে কিছু কিছু দল একবারে নিজেদের অবস্থানে অনড়। ২ থেকে ৩টি দল তাদের পার্টির কনফারমেশন নিতে হচ্ছে, দল থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে কিয়ামত পর্যন্ত কোনো ঐক্যের সম্ভাবনা দেখি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই শতভাগ ঐক্যের জায়গা তৈরি হবে না। এই জন্য আমরা বারবার বলেছি, কতটুকু পর্যন্ত আলোচনায় একমত হলে তাকে ঐকমত্য বলবেন কিংবা কতটি দল একমত থাকলে সেটাকে ঐক্য বলবেন-এটার একটা মাপকাঠির ঐকমত্য কমিশনকে নির্ধারণ করা দরকার। আমরা ঐকমত্য কমিশনকে বলেছি আপনারা এখানে রেফারির ভূমিকায় আছেন, সবার আলাপ-আলোচনা শুনে আপনাদের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘পরপর দুই বার প্রধানমন্ত্রী হবেন। এরপর একবার গ্যাপ দিয়ে দুই বার হবেন, আবার একবার গ্যাপ দিয়ে আবার দুইবার হবেন। যতবার খুশি ততবার হবেন।’

আমজনতা দলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাধনা মহল বলেন, ‘এক ব্যক্তি দুই বার প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। একবার গ্যাপ দিয়ে আরেক মেয়াদে থাকতে পারবে।’

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘ঐকমত্যে স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ দুই বারের পক্ষে। সংকটের মূল জায়গা নিম্নকক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, পুরো মেয়াদ সম্পন্ন না করা নিয়ে বিতর্ক আছে তা বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবার বিবেচিত হবে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সমর্থন আছে। এটায় সিদ্ধান্তে আসা উচিত।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরেকটু ছাড় দেওয়ার জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একটু ছাড় দেওয়ার জায়গাটাতে আসুন, আপনারা আসছেন, কিন্তু আরেকটু এগোন। আরেকটু এগোলে আমরা দ্রুত জুলাই সনদ তৈরি করতে পারব। আলোচনার মাধ্যমে যেন আমরা এই পর্বটা শেষ করতে পারি।’

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি একটি কঠিন পরিস্থিতিতে। সে পরিস্থিতিটা ১৬ বছরের সংগ্রাম, হাজারো লোকের আত্মদান। শত শত লোকের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা, বহু লোক এখনো নিখোঁজ, তাঁদের অনেকের এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই যে আত্মদান, এতে আপনারাই সংশ্লিষ্ট। আপনাদের কর্মী, আপনাদের দল, আপনাদেরই সংগঠন। যারা প্রাণ দিয়েছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, যার জন্য আমরা এখানে আসতে পারলাম। ফলে এটা একটু বিবেচনা রেখে কোন জায়গায় আমরা একমত হতে পারি, কোন জায়গায় আমরা কত দূর পর্যন্ত যেতে পারি, এ বিষয়ে বিবেচনা করা উচিত।’

নির্বাচন ও বিচারের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘এগুলো সমান্তরালভাবে চলবে। কিন্তু জুলাই সনদটা খুব দ্রুত করা দরকার। এ জন্য সবার কাছে আবার আহ্বান, আপনারা আরেকটু ছাড়ের জায়গায় আসুন, তাহলে আমাদের জন্য সহজতর হবে।’