ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাইলস্টোনের বাতাসে পোড়া গন্ধ

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:১৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ৯৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাসরুমগুলো প্রতিদিন শিশুদের কোলাহল আর পড়ার শব্দে মুখর থাকত। এখন ক্লাসরুমগুলো খালি-সুনসান। করিডোরে নেই কোলাহল-শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি। ভবনের বাতাসে পোড়া গন্ধ; যেন এক মৃত্যুপুরি।
স্কুল ভবনের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শিশুদের বই, খাতা, ব্যাগ, জুতা, পানির বোতল। ব্যাগ-বই-খাতায় যাদের কোমল হাত পড়ত তারা অনেকে এখন না ফেরার দেশে, কেউ হাসপাতালের বেডে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে। ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক আর নীরবতা।
মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের প্রাইমারি শাখার সামনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সেই বিভীষিকাময় ঘটনার চিহ্ন। তৃতীয় শ্রেণির ‘প্রাথমিক বিজ্ঞান’, ‘বাংলা ব্যাকরণ’সহ একাধিক বই অর্ধেক পুড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। খাতার পাতাগুলো আগুনের আঁচে বিবর্ণ হয়ে গেছে। কারো কারো নাম লেখা মলাট এখনো দৃশ্যমান। চারপাশে পোড়া কাগজের গন্ধ। সিঁড়ির পাশে পড়ে আছে ছোটদের ব্যাগ।
উপস্থিত উৎসুক জনতা ও অভিভাবকরা দেখছেন পুড়ে যাওয়া শিশুদের এসব চিহ্ন। তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগ, ক্ষোভ আর বেদনার ছাপ।
নাজনীন সুলতানা নামে এক অভিভাবক বললেন, এগুলো আমাদের সন্তানদের বই। গতকাল পর্যন্ত তারা এখানে পড়ালেখা করছিল। এখন শুধু ছাই আর ধোঁয়া। স্কুল মানেই তো নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু এটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠল কেন?
রফিকুল ইসলাম নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি নিজেও উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছোটদের আর্তনাদ শুনে দৌড়ে এসেছিলাম। ধোঁয়ার ভেতর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। যারা বাঁচতে পেরেছে, তারা বলছে- ভেতরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি।
গত সোমবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় দুর্ঘটনায় পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে এবং বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল। যাদের বেশির ভাগই হতাহত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৭, যেখানে ২৫ জনই শিশু। আহত ও দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন। সেখানেও শিশুদের সংখ্যা বেশি।

জনপ্রিয়

মাইলস্টোনের বাতাসে পোড়া গন্ধ

প্রকাশ : ০৩:১৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাসরুমগুলো প্রতিদিন শিশুদের কোলাহল আর পড়ার শব্দে মুখর থাকত। এখন ক্লাসরুমগুলো খালি-সুনসান। করিডোরে নেই কোলাহল-শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি। ভবনের বাতাসে পোড়া গন্ধ; যেন এক মৃত্যুপুরি।
স্কুল ভবনের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শিশুদের বই, খাতা, ব্যাগ, জুতা, পানির বোতল। ব্যাগ-বই-খাতায় যাদের কোমল হাত পড়ত তারা অনেকে এখন না ফেরার দেশে, কেউ হাসপাতালের বেডে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে। ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক আর নীরবতা।
মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের প্রাইমারি শাখার সামনে গিয়ে দেখা যায়, এখনো সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সেই বিভীষিকাময় ঘটনার চিহ্ন। তৃতীয় শ্রেণির ‘প্রাথমিক বিজ্ঞান’, ‘বাংলা ব্যাকরণ’সহ একাধিক বই অর্ধেক পুড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। খাতার পাতাগুলো আগুনের আঁচে বিবর্ণ হয়ে গেছে। কারো কারো নাম লেখা মলাট এখনো দৃশ্যমান। চারপাশে পোড়া কাগজের গন্ধ। সিঁড়ির পাশে পড়ে আছে ছোটদের ব্যাগ।
উপস্থিত উৎসুক জনতা ও অভিভাবকরা দেখছেন পুড়ে যাওয়া শিশুদের এসব চিহ্ন। তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগ, ক্ষোভ আর বেদনার ছাপ।
নাজনীন সুলতানা নামে এক অভিভাবক বললেন, এগুলো আমাদের সন্তানদের বই। গতকাল পর্যন্ত তারা এখানে পড়ালেখা করছিল। এখন শুধু ছাই আর ধোঁয়া। স্কুল মানেই তো নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু এটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠল কেন?
রফিকুল ইসলাম নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি নিজেও উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছোটদের আর্তনাদ শুনে দৌড়ে এসেছিলাম। ধোঁয়ার ভেতর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। যারা বাঁচতে পেরেছে, তারা বলছে- ভেতরে বের হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি।
গত সোমবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় দুর্ঘটনায় পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধ বিমান। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে এবং বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল। যাদের বেশির ভাগই হতাহত হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৭, যেখানে ২৫ জনই শিশু। আহত ও দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন। সেখানেও শিশুদের সংখ্যা বেশি।