ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৈষম্যবিরোধী ব্যানার ব্যবহার করে অপকর্ম করলে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

কেন্দ্রীয় বাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:০১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • ১০৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধীর ব্যানার ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্ম করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাঁদাবাজির ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে রোববার রাজধানীর শাহবাগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, অর্গানোগ্রামের (সাংগঠনিক কাঠামো) সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে নামে-বেনামে অনেকেই নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। সংগঠনটির অনেক সদস্য একাধিক রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছেন। সেসব রাজনৈতিক দলের শেল্টারে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে জুলাইয়ের অনেক যোদ্ধা নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন। যেটা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, কমিটি দেওয়ার আগেই আমরা সতর্ক করেছিলাম, কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। সেই মোতাবেক আমাদের অর্গানোগ্রামের সদস্যদের সঙ্গে একটি মিটিং হয়। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সব কমিটির কার্যক্রম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে রিফাত রশিদ বলেন, পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কে আমরা আগে বসবো তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ এই প্ল্যাটফর্ম করবে না, সেটা আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই।
তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে এই সংগঠনটি বাঁচিয়ে রাখতে চান তাদের আমরা বলতে চাই, এখান থেকে আপনারা কোনো আর্থিক সহায়তা বা ¶মতা পাবেন না। তারপরও যারা কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিন। কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরাও আপনাদের সহায়তা করবো।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশানে সাবেক একজন সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজি করতে গেলে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)।
অন্যরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাড্ডা থানা শাখার সদস্য (বহিষ্কৃত) ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়।
রোববার চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাকসহ (রিয়াদ) চারজনকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন সচেতন রাজনীতিবিদরা। তাদের এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনার পেছনে বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন তারা। এসব চাঁদাবাজের শেকড় অনেক গভীরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন খোদ ছাত্র প্রতিনিধিরাই।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজি নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রনেতাদের নানা চাঁদাবাজির কথা তুলে ধরেছেন। রাশেদ খাঁন পোস্টে লিখেছেন, একজন ডিসির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি আমাকে জানালেন- জেলা পর্যায়ের সব দফতরে ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সব কাজ করার বিষয়ে আমাদের ওপর উপদেষ্টাদের নির্দেশনা আছে। এ কারণে সব জায়গায় তদারকির জন্য ছাত্রপ্রতিনিধি ঠিক করে দিয়েছি। প্রতিটা মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরেও একই অবস্থা। তদারকির নামে এসব ছাত্র প্রতিনিধি বদলি বাণিজ্য, প্রমোশন, নিয়োগ ইত্যাদি কাজ করে থাকে। আমি নিজেও এর কয়েকটা প্রমাণ পেয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি আমাকে বলছিলেন, ওমুক সমন্বয়করা আমাকে এখানে এনেছে। আমাকে বাদ দেবে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবে, এগুলো করে কিচ্ছু করতে পারবে না! গতকাল (রোববার) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে আমাকে বলল, ভাই, ওমক মিনিমাম কোটি টাকার বেশি কামিয়েছে! আমি বললাম, কী বলো! সে বলে ভাই, গণঅভ্যুত্থান পরপর এক একটা সমন্বয়ক মানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ছিল। আমি নিজেও যখন বিভিন্ন জায়গায় সহ-সমন্বয়ক পরিচয়ে গিয়েছি, একই অনুভূতি হয়েছে! অপরিসীম ক্ষমতা এই তরুণদের পথভ্রম করেছে। যার জন্য দায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ। পুরো বিপ্লবকে বিপথে পরিচালিত করেছে এই এনজিও ব্যক্তিত্ব, বৃদ্ধ আমলা ও কতিপয় সুশীল, মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত অর্ন্তর্র্বতীকালীন সরকার।
আরেক ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচজনের চাঁদাবাজির খবর শুনে আমার পরিচিত ব্যক্তিবর্গ এতটাই আশ্চর্যান্বিত হওয়ার অভিনয় করছেন যে আমার মনে হচ্ছে আমিই সব থেকে কম আশ্চর্য হয়েছি। এই ছেলেগুলোকে তো নেতাদের পেছনে প্রটোকল দিতে দেখা গেছে এতদিন যাবৎ। সচিবালয় থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিং, মারামারি সব জায়গাতেই সমন্বয়কদের ডান হাত, বাম হাত হিসেবে নির্বিঘ্নে প্রটোকল দিয়ে গেছে।
গুলশান বনানী গ্যাং কালচারের অজস্র অভিযোগ অভ্যন্তরীণভাবে তাদের বিরুদ্ধে ছিল। এই ছবির রিয়াদ নামের ছেলেটা গত ডিসেম্বর মাসে রূপায়ণ টাওয়ারে আমার সামনে অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছিল। আমরা মেয়েরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আমাদের ওপর পাল্টা চড়াও হয়। ওই ঘটনার পর ছেলেটার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে হুমকি, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। আমি জেনে তখন মোটেও অবাক হইনি, কারণ ততদিনে বৈষম্যবিরোধীতে এই ধরনের লোকজনের আনাগোনাই সর্বতো টের পাওয়া যেত। ঠিকই তারা রূপায়ণ টাওয়ারে অবাধে আসা যাওয়া করত। কারও দুর্নীতি বা অসততার ব্যাপারে অভিযোগ জানালে উত্তরে পিনড্রপ সাইলেন্স উপহার পেতে হবে। আর আমি চোখের সামনে দেখতাম এসব লোকই কিভাবে দিনে শেষে এক্সেস করে নেয়। আজকে এত মাস পর এই প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালে বলার ভাষা পাই না কোনো?! যে যেভাবে পারছে এই প্ল্যাটফর্মকে নষ্ট করেছে। আজকের এই চাঁদাবাজির খবর দেখে আশপাশের সবাই এত অবাক হওয়ার ভান করছেন বিষয়টা কিছুটা হাস্যকর বটে। মানুষ কত নিষ্পাপ! সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো তারা আবিষ্কার করেছেন এই ছেলেগুলো আজ কিভাবে চাঁদাবাজি করল?! অত্যন্ত দুঃখিত বন্ধুরা, বলতে হবে এই প্রথম কোনো চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে ধরা খেল। ঠিকমতো খোঁজ নিলে বুঝবেন, এদের শেকড় অনেক গভীরে।

চাঁদাবাজির ঘটনায় সিদ্দিক আবু জাফর বাদী হয়ে রোববার গুলশান থানায় মামলা করেন। এতে তিনি ছয়জনকে আসামি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, কাজী গৌরব অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। তখন তারা হুমকি ধামকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণাংকার দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেন এবং টাকা চেয়ে চাপ দিতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফর বাধ্য হয়ে নিজের কাছে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ভাইয়ের কাছে থেকে নিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেন। এ ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামি রিয়াদ ও অপু বাদীর বাসায় প্রবেশ করে তার ফ্ল্যাটের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারেন। বিষয়টি গুলশান থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে আসামিরা চলে যান। পরে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আসামি রিয়াদের নেতৃত্বে অপর আসামিরা বাদীর বাসার সামনে এসে তাকে খুঁজতে থাকেন। বাসার দারোয়ান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানান। তখন আসামিদের দাবি করা বাকি ৪০ লাখ টাকা না দিলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ আসামিকে হাতেনাতে আটক করে এবং ওই সময় এজাহারনামীয় আসামি কাজী গৌরব অপু দৌড়ে পালিয়ে যান।

জনপ্রিয়

বৈষম্যবিরোধী ব্যানার ব্যবহার করে অপকর্ম করলে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

কেন্দ্রীয় বাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত

প্রকাশ : ০৩:০১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধীর ব্যানার ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্ম করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাঁদাবাজির ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে রোববার রাজধানীর শাহবাগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, অর্গানোগ্রামের (সাংগঠনিক কাঠামো) সিদ্ধান্তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে নামে-বেনামে অনেকেই নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। সংগঠনটির অনেক সদস্য একাধিক রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছেন। সেসব রাজনৈতিক দলের শেল্টারে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে জুলাইয়ের অনেক যোদ্ধা নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ছেন। যেটা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, কমিটি দেওয়ার আগেই আমরা সতর্ক করেছিলাম, কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। সেই মোতাবেক আমাদের অর্গানোগ্রামের সদস্যদের সঙ্গে একটি মিটিং হয়। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সব কমিটির কার্যক্রম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হচ্ছে।
পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে রিফাত রশিদ বলেন, পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কে আমরা আগে বসবো তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ এই প্ল্যাটফর্ম করবে না, সেটা আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই।
তিনি বলেন, যারা জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে এই সংগঠনটি বাঁচিয়ে রাখতে চান তাদের আমরা বলতে চাই, এখান থেকে আপনারা কোনো আর্থিক সহায়তা বা ¶মতা পাবেন না। তারপরও যারা কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অপকর্ম করার চেষ্টা করে, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিন। কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরাও আপনাদের সহায়তা করবো।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গুলশানে সাবেক একজন সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজি করতে গেলে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)।
অন্যরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাড্ডা থানা শাখার সদস্য (বহিষ্কৃত) ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়।
রোববার চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাকসহ (রিয়াদ) চারজনকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন সচেতন রাজনীতিবিদরা। তাদের এমন বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনার পেছনে বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন তারা। এসব চাঁদাবাজের শেকড় অনেক গভীরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন খোদ ছাত্র প্রতিনিধিরাই।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজি নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রনেতাদের নানা চাঁদাবাজির কথা তুলে ধরেছেন। রাশেদ খাঁন পোস্টে লিখেছেন, একজন ডিসির সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি আমাকে জানালেন- জেলা পর্যায়ের সব দফতরে ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সব কাজ করার বিষয়ে আমাদের ওপর উপদেষ্টাদের নির্দেশনা আছে। এ কারণে সব জায়গায় তদারকির জন্য ছাত্রপ্রতিনিধি ঠিক করে দিয়েছি। প্রতিটা মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরেও একই অবস্থা। তদারকির নামে এসব ছাত্র প্রতিনিধি বদলি বাণিজ্য, প্রমোশন, নিয়োগ ইত্যাদি কাজ করে থাকে। আমি নিজেও এর কয়েকটা প্রমাণ পেয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি আমাকে বলছিলেন, ওমুক সমন্বয়করা আমাকে এখানে এনেছে। আমাকে বাদ দেবে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেবে, এগুলো করে কিচ্ছু করতে পারবে না! গতকাল (রোববার) প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সে আমাকে বলল, ভাই, ওমক মিনিমাম কোটি টাকার বেশি কামিয়েছে! আমি বললাম, কী বলো! সে বলে ভাই, গণঅভ্যুত্থান পরপর এক একটা সমন্বয়ক মানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ছিল। আমি নিজেও যখন বিভিন্ন জায়গায় সহ-সমন্বয়ক পরিচয়ে গিয়েছি, একই অনুভূতি হয়েছে! অপরিসীম ক্ষমতা এই তরুণদের পথভ্রম করেছে। যার জন্য দায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ। পুরো বিপ্লবকে বিপথে পরিচালিত করেছে এই এনজিও ব্যক্তিত্ব, বৃদ্ধ আমলা ও কতিপয় সুশীল, মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত অর্ন্তর্র্বতীকালীন সরকার।
আরেক ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচজনের চাঁদাবাজির খবর শুনে আমার পরিচিত ব্যক্তিবর্গ এতটাই আশ্চর্যান্বিত হওয়ার অভিনয় করছেন যে আমার মনে হচ্ছে আমিই সব থেকে কম আশ্চর্য হয়েছি। এই ছেলেগুলোকে তো নেতাদের পেছনে প্রটোকল দিতে দেখা গেছে এতদিন যাবৎ। সচিবালয় থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিং, মারামারি সব জায়গাতেই সমন্বয়কদের ডান হাত, বাম হাত হিসেবে নির্বিঘ্নে প্রটোকল দিয়ে গেছে।
গুলশান বনানী গ্যাং কালচারের অজস্র অভিযোগ অভ্যন্তরীণভাবে তাদের বিরুদ্ধে ছিল। এই ছবির রিয়াদ নামের ছেলেটা গত ডিসেম্বর মাসে রূপায়ণ টাওয়ারে আমার সামনে অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছিল। আমরা মেয়েরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আমাদের ওপর পাল্টা চড়াও হয়। ওই ঘটনার পর ছেলেটার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে হুমকি, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। আমি জেনে তখন মোটেও অবাক হইনি, কারণ ততদিনে বৈষম্যবিরোধীতে এই ধরনের লোকজনের আনাগোনাই সর্বতো টের পাওয়া যেত। ঠিকই তারা রূপায়ণ টাওয়ারে অবাধে আসা যাওয়া করত। কারও দুর্নীতি বা অসততার ব্যাপারে অভিযোগ জানালে উত্তরে পিনড্রপ সাইলেন্স উপহার পেতে হবে। আর আমি চোখের সামনে দেখতাম এসব লোকই কিভাবে দিনে শেষে এক্সেস করে নেয়। আজকে এত মাস পর এই প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালে বলার ভাষা পাই না কোনো?! যে যেভাবে পারছে এই প্ল্যাটফর্মকে নষ্ট করেছে। আজকের এই চাঁদাবাজির খবর দেখে আশপাশের সবাই এত অবাক হওয়ার ভান করছেন বিষয়টা কিছুটা হাস্যকর বটে। মানুষ কত নিষ্পাপ! সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো তারা আবিষ্কার করেছেন এই ছেলেগুলো আজ কিভাবে চাঁদাবাজি করল?! অত্যন্ত দুঃখিত বন্ধুরা, বলতে হবে এই প্রথম কোনো চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে ধরা খেল। ঠিকমতো খোঁজ নিলে বুঝবেন, এদের শেকড় অনেক গভীরে।

চাঁদাবাজির ঘটনায় সিদ্দিক আবু জাফর বাদী হয়ে রোববার গুলশান থানায় মামলা করেন। এতে তিনি ছয়জনকে আসামি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, কাজী গৌরব অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। তখন তারা হুমকি ধামকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণাংকার দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেন এবং টাকা চেয়ে চাপ দিতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফর বাধ্য হয়ে নিজের কাছে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ভাইয়ের কাছে থেকে নিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দেন। এ ঘটনার পর গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামি রিয়াদ ও অপু বাদীর বাসায় প্রবেশ করে তার ফ্ল্যাটের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারেন। বিষয়টি গুলশান থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে আসামিরা চলে যান। পরে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আসামি রিয়াদের নেতৃত্বে অপর আসামিরা বাদীর বাসার সামনে এসে তাকে খুঁজতে থাকেন। বাসার দারোয়ান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানান। তখন আসামিদের দাবি করা বাকি ৪০ লাখ টাকা না দিলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ আসামিকে হাতেনাতে আটক করে এবং ওই সময় এজাহারনামীয় আসামি কাজী গৌরব অপু দৌড়ে পালিয়ে যান।