ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রস্তুত জুলাই সনদের খসড়া অঙ্গীকারনামা

দুই বছরের মধ্যে সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • ৮৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া অংশবিশেষ সোমবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় সনদে থাকা সংস্কার সুপারিশগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি দলকে অঙ্গীকার দিতে হবে।
মাসব্যাপী রাজনৈতিক সংলাপের পর এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সংলাপটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এদিন দুপুরে বিরতির পরে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খসড়াটি পাঠানো হয়।
খসড়ায় রয়েছে- জুলাই সনদের পটভূমি, সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গঠন ও কার্যক্রম এবং জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি অঙ্গীকারনামা। তবে কমিশনের প¶ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার সুপারিশগুলো দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার পরই চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা সনদের ভাষাটি রাজনৈতিক দলগুলোর পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়েছি। চূড়ান্ত সংলাপ শেষে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সনদের চূড়ান্ত সংস্করণে যোগ করা হবে।”
খসড়া সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক জবাবদিহির পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কবলে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুনর্গঠন করা।
খসড়ার ‘এনডোর্সমেন্ট ঘোষণাপত্রে’ বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দেবে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-আন্দোলনে নিহত নাগরিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে এই সনদকে একটি সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে; দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় আইনি ও নীতিগত সংস্কার আনবে; নির্বাচিত পরবর্তী জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে; গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অখণ্ডতা র¶ায় বাধ্যতামূলক আইনি গ্যারান্টি নিশ্চিত করবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদে বর্ণিত আইনি, ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সুরক্ষা সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে এই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
ঘোষণার শেষাংশে স্মরণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সনদের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ এসেছে ২০২৪ সালের নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। সেই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল-ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এতে প্রাণ হারান হাজারো মানুষ, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

 

Tag :
জনপ্রিয়

প্রস্তুত জুলাই সনদের খসড়া অঙ্গীকারনামা

দুই বছরের মধ্যে সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে

প্রকাশ : ০৩:১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

রাজনৈতিক সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া অংশবিশেষ সোমবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় সনদে থাকা সংস্কার সুপারিশগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি দলকে অঙ্গীকার দিতে হবে।
মাসব্যাপী রাজনৈতিক সংলাপের পর এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সংলাপটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এদিন দুপুরে বিরতির পরে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খসড়াটি পাঠানো হয়।
খসড়ায় রয়েছে- জুলাই সনদের পটভূমি, সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গঠন ও কার্যক্রম এবং জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি অঙ্গীকারনামা। তবে কমিশনের প¶ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার সুপারিশগুলো দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার পরই চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা সনদের ভাষাটি রাজনৈতিক দলগুলোর পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়েছি। চূড়ান্ত সংলাপ শেষে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, তা সনদের চূড়ান্ত সংস্করণে যোগ করা হবে।”
খসড়া সনদে একটি বাধ্যতামূলক রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক জবাবদিহির পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কবলে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুনর্গঠন করা।
খসড়ার ‘এনডোর্সমেন্ট ঘোষণাপত্রে’ বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দেবে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-আন্দোলনে নিহত নাগরিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে এই সনদকে একটি সম্মিলিত নৈতিক দায় হিসেবে পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে; দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় আইনি ও নীতিগত সংস্কার আনবে; নির্বাচিত পরবর্তী জাতীয় সংসদের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করবে; গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অখণ্ডতা র¶ায় বাধ্যতামূলক আইনি গ্যারান্টি নিশ্চিত করবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদে বর্ণিত আইনি, ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক সুরক্ষা সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে এই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
ঘোষণার শেষাংশে স্মরণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সনদের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ এসেছে ২০২৪ সালের নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। সেই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল-ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এতে প্রাণ হারান হাজারো মানুষ, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।