ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদোন্নতি পাবে প্রাথমিকের ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষক : বিধান রঞ্জন রায়

প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার প্রধান শিক্ষক পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেন, একটি মামলার জন্য প্রাথমিকের শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়া যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান হলে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হবে।
সোমবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ১০ গ্রেডের হলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখছি না। প্রশাসনিক অনেক পদে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও যাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয় উভয়ে একই পদে আছেন। শিক্ষকদের জন্য করা বেতন কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে।
স্কুলে যাওয়ার উপযোগী প্রত্যেক শিশুদের বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান গণশিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়েরা পড়ে। তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকে। তাদের অভিভাবকরা সেটা খেয়াল রাখে না। অপরদিকে কিন্ডারগার্টেনে ক্লাস টু থেকে ফাইভ পর্যন্ত নিজস্ব বৃত্তি চালু রয়েছে। দেশের সংবিধানে আছে, সরকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করবে। যদি কেউ মনে করে সে সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাহলে আমাদের স্কুল ওপেন আছে। তারা সরকারি স্কুলে ভর্তি হোক, আমরা সবার দায়িত্ব নেবো।
উপদেষ্টা বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অনুপাত রয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাত আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করছি। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে, ডিসেম্বরে আমরা এর মূল্যায়ন করবো।
স্কুল ফিডিং নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সারাদেশে মোট ১৬৫টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে সারাদেশের ১৫০টি উপজেলার সব স্কুলে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। আরেক প্রকল্প কক্সবাজার ও বান্দরবনের প্রত্যেক উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। যারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতির কার্যক্রম শেষ হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে কিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো তৈরি করা যায়, শিক্ষকদের রাখা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা কিছু দিনের মধ্যে শহরে আসতে চায়। আর যারা শহরে থাকেন, তাদের তো সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া যায় না। বদলীর জন্য উপর মহল থেকে আমাদের কাছে অনেক তদবির আসে।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে রংপুর জেলার অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রাথমিক ওগণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় সরকার পরিচালক আবু জাফর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক নুর মো. শামসুজ্জামান, পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রমুখ।

জনপ্রিয়

পদোন্নতি পাবে প্রাথমিকের ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষক : বিধান রঞ্জন রায়

প্রকাশ : ১১:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার প্রধান শিক্ষক পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেন, একটি মামলার জন্য প্রাথমিকের শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়া যাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান হলে ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হবে।
সোমবার রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ১০ গ্রেডের হলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখছি না। প্রশাসনিক অনেক পদে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ও যাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয় উভয়ে একই পদে আছেন। শিক্ষকদের জন্য করা বেতন কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে।
স্কুলে যাওয়ার উপযোগী প্রত্যেক শিশুদের বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান গণশিক্ষা উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে-মেয়েরা পড়ে। তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত থাকে। তাদের অভিভাবকরা সেটা খেয়াল রাখে না। অপরদিকে কিন্ডারগার্টেনে ক্লাস টু থেকে ফাইভ পর্যন্ত নিজস্ব বৃত্তি চালু রয়েছে। দেশের সংবিধানে আছে, সরকার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করবে। যদি কেউ মনে করে সে সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে, তাহলে আমাদের স্কুল ওপেন আছে। তারা সরকারি স্কুলে ভর্তি হোক, আমরা সবার দায়িত্ব নেবো।
উপদেষ্টা বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অনুপাত রয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাত আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তাই আমরা পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করছি। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে, ডিসেম্বরে আমরা এর মূল্যায়ন করবো।
স্কুল ফিডিং নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সারাদেশে মোট ১৬৫টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পে সারাদেশের ১৫০টি উপজেলার সব স্কুলে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। আরেক প্রকল্প কক্সবাজার ও বান্দরবনের প্রত্যেক উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। যারা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতির কার্যক্রম শেষ হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে কিভাবে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো তৈরি করা যায়, শিক্ষকদের রাখা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা কিছু দিনের মধ্যে শহরে আসতে চায়। আর যারা শহরে থাকেন, তাদের তো সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া যায় না। বদলীর জন্য উপর মহল থেকে আমাদের কাছে অনেক তদবির আসে।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি প্রাথমিক শিক্ষার মান্নোনয়নে রংপুর জেলার অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রাথমিক ওগণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় সরকার পরিচালক আবু জাফর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক নুর মো. শামসুজ্জামান, পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রমুখ।