রাজনৈতিক দলগুলো এখনো আধিপত্য, দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বজায় রেখেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন স্ট্যান্ড ও টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত দখলবাজির সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘নতুন বাংলাদেশ : কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ মন্তব্য করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের প্রত্যাশিত সংস্কার হয়নি, নিয়োগ হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। আইন কর্মকর্তাদের অনেক ¶েত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে।
টিআইবি বলছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরবর্তী ১১ মাসে পুলিশের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৭৬১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ পুলিশ সদস্যকে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ১ হাজার ৬০২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩৮টি হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পতিত সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আনুমানিক ৮৭ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন।
৭০ শতাংশ মামলার তদন্তে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ রয়েছে। ৬০-৭০টি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে বিচার সম্পন্ন করা হচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা বিচার ও আইনজীবীদের হেনস্তা করা হয়েছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি।
বরং ভিন্ন পন্থায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে আটটি সংবাদপত্রের সম্পাদক, ১১টি বেসরকারি টেলিভিশনের বার্তা প্রধান ও ১৫০ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে ১১ মাসে ৭৬১ মামলা
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরবর্তী ১১ মাসে পুলিশের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৭৬১টি মামলা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটি বলছে, এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ পুলিশ সদস্যকে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ১ হাজার ৬০২টি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে ৬৩৮টি হত্যা মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পতিত সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আনুমানিক ৮৭ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। ৭০ শতাংশ মামলার তদন্তে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ রয়েছে। ৬০-৭০টি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে।
এ সময় টিআইবির ফেলো শাহজাদা এম আকরাম বলেন, এক বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে ৪২৯টি ও মামলা ২৭টি। শেখ হাসিনাসহ ২০৬ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৩ জন। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের আগেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজে ধীরগতি আছে। কিছু কিছু বিভাগীয় পদক্ষেপের বাইরে বাস্তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর জবাবদিহির অগ্রগতি না থাকা সরকারের সদিচ্ছা ও সক্ষমতার ঘাটতি দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহজাদা এম আকরাম বলেন, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত, বিচার শুরু হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় (১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত) সারা দেশে দায়ের করা প্রায় সব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ফেলো মো. জুলকারনাইন, ফারহানা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রেকিং নিউজ
পুলিশের বিরুদ্ধে ১১ মাসে ৭৬১ মামলা
রাজনৈতিক দলগুলোর দখল ও চাঁদাবাজি অব্যাহত
-
দেশ প্রতিবেদক - প্রকাশ : ০১:১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
- ১৮১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
Tag :
টিআইবি
জনপ্রিয়










