ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মব সৃষ্টি করে সাত মাসে ১১১ হত্যা: আসক

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২০১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক। এর মধ্যে গত শনিবার চোর সন্দেহে রংপুরের তারাগঞ্জে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারাগঞ্জে নিহতরা হলেন- ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা রুপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার প্রদীপ দাস (৩৫)। রূপলালের ভাগনি জামাই হচ্ছেন রূপলাল।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় আসক বলেছে, রূপলাল দাস জুতা সেলাই আর প্রদীপ দাস ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রূপলালের মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার জন্য তাদের বাড়ির উদ্দেশে নিজের ভ্যানযোগে রওনা হয়েছিলেন প্রদীপ। কিন্তু গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তা না চেনায় তিনি ফোন করলে রূপলাল বাড়ি থেকে এগিয়ে যান।
এরপর তারা দুজনে ভ্যানে চড়ে রূপলালের বাড়ি ঘনিরামপুর গ্রামের দিকে রওনা হন। রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছলে ভ্যান চোর সন্দেহে তাদের দুজনকে থামান স্থানীয়রা। এরপর সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা পিটিয়ে তাদের দুজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এ ধরনের ঘটনা প্রচলিত আইন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে আসক বলছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারাগঞ্জের ঘটনায় গত রোববার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আসক বলেছে, যে কোনো সংঘবদ্ধ প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষকে দায়মুক্তি না দিয়ে তাদের শনাক্ত করে কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কেননা এ ধরনের নির্মম ঘটনা মানবাধিকারের ভিত্তিকে সরাসরি আঘাত করে।

Tag :
জনপ্রিয়

মব সৃষ্টি করে সাত মাসে ১১১ হত্যা: আসক

প্রকাশ : ০২:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

‘মব সন্ত্রাসের’ শিকার হয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র-আসক। এর মধ্যে গত শনিবার চোর সন্দেহে রংপুরের তারাগঞ্জে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি বলেছে, এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারাগঞ্জে নিহতরা হলেন- ঘনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা রুপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার প্রদীপ দাস (৩৫)। রূপলালের ভাগনি জামাই হচ্ছেন রূপলাল।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় আসক বলেছে, রূপলাল দাস জুতা সেলাই আর প্রদীপ দাস ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রূপলালের মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করার জন্য তাদের বাড়ির উদ্দেশে নিজের ভ্যানযোগে রওনা হয়েছিলেন প্রদীপ। কিন্তু গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তা না চেনায় তিনি ফোন করলে রূপলাল বাড়ি থেকে এগিয়ে যান।
এরপর তারা দুজনে ভ্যানে চড়ে রূপলালের বাড়ি ঘনিরামপুর গ্রামের দিকে রওনা হন। রাত ৯টার দিকে তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় পৌঁছলে ভ্যান চোর সন্দেহে তাদের দুজনকে থামান স্থানীয়রা। এরপর সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা পিটিয়ে তাদের দুজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এ ধরনের ঘটনা প্রচলিত আইন, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে আসক বলছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারাগঞ্জের ঘটনায় গত রোববার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আসক বলেছে, যে কোনো সংঘবদ্ধ প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠী বা ব্যক্তি বিশেষকে দায়মুক্তি না দিয়ে তাদের শনাক্ত করে কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কেননা এ ধরনের নির্মম ঘটনা মানবাধিকারের ভিত্তিকে সরাসরি আঘাত করে।