ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফর

স্বল্প ব্যয়ে কর্মসংস্থান হবে ১২ লাখ বাংলাদেশির

শিগগিরই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এবারের আলোচনায় কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে দুই দেশের সরকার প্রধান একমত হয়েছেন।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে দুই দফায় সভা হয়েছে। ওইসব সভা থেকে শ্রমিক প্রেরণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে মালয়েশিয়ায় কর্মী গমন করলেও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারণে প্রক্রিয়াটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিগত সরকার বিপুল সংখ্যক এজেন্সিকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়। তবে কর্মীগণ মালয়েশিয়া যাওয়ার পর সবাই কাজ পেয়েছে এবং তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছে। ফলে মালয়েশিয়া যাওয়া শ্রমিকদের কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। তাদের প্রাপ্ত বেতন-ভাতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের আগ্রহ বেশি।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলেন, সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১০ লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। বেতন-ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা সব মিলিয়ে এ সব কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভালো আছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ছয় বছরে মালয়েশিয়ায় কমপক্ষে ১২ লাখ বা তারও বেশি শ্রমকি পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ আলোচনার পর কেটে যাবে সব জটিলতা। শিগগিরই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আবার খুলে যাবে মালয়েশিয়ার বাজার। তাই মুহূর্তে সরকার শ্রমিকদের স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে নিরাপদ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ব্যবসার জন্য বাজার খুলছে এবং এখানে বাজার সম্প্রসারণ ও বর্ধিত ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন, নিজ চোখে দেখুন- আমি আপনাদের বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’
প্রফেসর ইউনূস আরও জানান, বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় দেশ যেখানে অধিকাংশ জনসংখ্যাই তরুণ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। অন্তর্র্বতী সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এখনো পূর্ণরূপে কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ ও সৃজনশীল মানুষ রয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবসায়বান্ধব হওয়ার চেষ্টা করছে আমি বাংলাদেশে সীমাহীন পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেছি।’
ড. ইউনূস মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের তরুণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী তরুণরা সবসময় বাংলাদেশের জন্য কিছু করার তৃষ্ণায় উদ্বুদ্ধ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে মালয়েশিয়া উদ্বিগ্ন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আঞ্চলিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা অবশ্যই তাতে উদ্বিগ্ন।’
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অবশ্যই একটা বড় বিষয়। একই সঙ্গে দুর্ভোগে থাকা শরণার্থী ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তাও প্রয়োজন।

জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফর

স্বল্প ব্যয়ে কর্মসংস্থান হবে ১২ লাখ বাংলাদেশির

প্রকাশ : ০২:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

শিগগিরই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এবারের আলোচনায় কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে দুই দেশের সরকার প্রধান একমত হয়েছেন।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে দুই দফায় সভা হয়েছে। ওইসব সভা থেকে শ্রমিক প্রেরণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে মালয়েশিয়ায় কর্মী গমন করলেও উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারণে প্রক্রিয়াটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিগত সরকার বিপুল সংখ্যক এজেন্সিকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার কারণে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়। তবে কর্মীগণ মালয়েশিয়া যাওয়ার পর সবাই কাজ পেয়েছে এবং তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছে। ফলে মালয়েশিয়া যাওয়া শ্রমিকদের কোনো অভিযোগ নেই।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। তাদের প্রাপ্ত বেতন-ভাতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের আগ্রহ বেশি।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলেন, সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ১০ লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত আছেন। বেতন-ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা সব মিলিয়ে এ সব কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় ভালো আছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ছয় বছরে মালয়েশিয়ায় কমপক্ষে ১২ লাখ বা তারও বেশি শ্রমকি পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দুদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ আলোচনার পর কেটে যাবে সব জটিলতা। শিগগিরই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আবার খুলে যাবে মালয়েশিয়ার বাজার। তাই মুহূর্তে সরকার শ্রমিকদের স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে নিরাপদ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ব্যবসার জন্য বাজার খুলছে এবং এখানে বাজার সম্প্রসারণ ও বর্ধিত ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন, নিজ চোখে দেখুন- আমি আপনাদের বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’
প্রফেসর ইউনূস আরও জানান, বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় দেশ যেখানে অধিকাংশ জনসংখ্যাই তরুণ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। অন্তর্র্বতী সরকার ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এখনো পূর্ণরূপে কাজে লাগানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু দেশের মধ্যেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ ও সৃজনশীল মানুষ রয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবসায়বান্ধব হওয়ার চেষ্টা করছে আমি বাংলাদেশে সীমাহীন পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখেছি।’
ড. ইউনূস মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের তরুণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী তরুণরা সবসময় বাংলাদেশের জন্য কিছু করার তৃষ্ণায় উদ্বুদ্ধ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বিগ্ন মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে মালয়েশিয়া উদ্বিগ্ন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আঞ্চলিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা অবশ্যই তাতে উদ্বিগ্ন।’
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অবশ্যই একটা বড় বিষয়। একই সঙ্গে দুর্ভোগে থাকা শরণার্থী ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তাও প্রয়োজন।