আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
এজন্য পদত্যাগের একটি খসড়াও তৈরি করেছিলেন। সিইসির একজন সহকর্মী তার পদত্যাগের খসড়াটি তৈরি করে দেন। কিন্তু বিষয়টি ঝড়ের গতিতে চলে যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তার পর শুরু হয় নানা চাপ। গোয়েন্দা মারফত নানা ভবে দেখানো হয় ভয়ভীতি।
সাবেক এই সিইসিকে বলা হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না- যাতে করে জীবনে করুণ পরিণতি নেমে আসে। পদত্যাগ না করার জন্য নানাভাবে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা হয়।
এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন হাবিবুল আউয়াল। এক পর্যায়ে তিনি বিদেশে ছুটিতে যাওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছিলেন। সেখানেও বাধা। এরপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়। তিনি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য বিমানবন্দরে সতর্কতাও জারি করা হয়।
জানা গেছে, হাবিবুল আউয়াল গোড়া থেকেই ডামি নির্বাচনের ব্যাপারে বিরক্ত ছিলেন। একজন সম্পাদক তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে একই মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, আমার তো ইচ্ছা পদত্যাগ করে চলে যাই। কিন্তু পদত্যাগ করা তো সহজ হবে না। সেটা আমি বুঝতে পারছি।
ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচনের অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় চলতি বছরের ২৬ জুন হাবিবুল আউয়ালের রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালতের প্রশ্নের জবাবে এই সাবেক সিইসি আদালতে বলেছেন, অতীতে কোনো সিইসি পদত্যাগ করেননি। কোনো সিইসির পদত্যাগের রেকর্ড এ দেশে নেই।
২০২৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে কাজী হাবিবুল আউয়াল আরও বলেন, ‘এটি ছিল প্রহসনের নির্বাচন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার কারণেই এই ডামি নির্বাচন হয়েছে।’
প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কে এম নূরুল হুদা, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে চলতি বছরের ২২ জুন সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল ও কে এম নুরুল হুদা।
মানবজমিন 









