ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নির্বাচনকে সামনে রেখে এক লাখ সেনা মাঠে থাকবে

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান, বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে সন্ত্রাস, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টার প্রতি বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতা, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং গণমাধ্যমে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের সময় মাঠে এক লাখ সেনা মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময় বাড়ানোসহ নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিরতা বরদাশত না করার কঠোর বার্তা দিয়ে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দেশে অতি দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, মেসেজ ক্লিয়ার, কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
দুপুর আড়াইটার পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।‎
‎বৈঠকে ৪ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে দুপুর ১২টায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এমন বিষয়কে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথবাহিনীর অভিযান চালু হবে। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে ইসি বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা রোববার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাহিনীসমূহকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করার প্রয়োজন তা তারা করবেন।’
‘আরেকটি বিষয় আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যেহেতু আলাদাভাবে আমাদের আরেকটা মিটিং আছে, সোমবার হওয়ার কথা ছিল, সম্ভবত সেটা রিসিডিউল হয়ে মঙ্গলবার হবে। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুক জানা দরকার ছিল বা আমরা যা আশা করি সেটা কেন পারা গেলো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথবাহিনীর অপারেশন পুনরায় চালু হবে। সেই যৌথবাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে, ভোটারদের মধ্যে, প্রার্থীদের মধ্যে, দলগুলোর মধ্যে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।’
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় এলাকা ভিত্তিক চেকপয়েন্ট এস্টাবলিশ করে চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে মর্মে জানা যায়, সেসব এলাকায়, রিমোট এলাকাসমূহে অধিকতর নজরদারি-খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।’
এই কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের বর্ণনা দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, পুলিশ থেকে এরই মধ্যে একটা প্রটোকল দাঁড় করিয়েছে। সেই প্রটোকল অনুযায়ী যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কারও কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন, তারা পুলিশের কাছে অ্যাপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘বেশকিছু জায়গাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, পরক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে কি না, ক্ষতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এই তদন্তের প্রগ্রেস নিয়ে আমরা জানতে চেয়েছি। আমাদের জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ছয়জনকে আটক (গ্রেফতার) করা হয়েছে। এই ছয়জনই কোনো না কোনোভাবে এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূল যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই দুজন এবং একজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে যে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে, এই তিনজনের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত অভিযান চলমান বলে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা এগুলোকে তরান্বিত করতে এবং একনিষ্ঠভাবে এগিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছি।’
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ লাখ সেনা মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেনসানাউল্লাহ। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।‎
‎ইসির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক:নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানেরা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে বৈঠক শেষ হয়।এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে তিন বাহিনীর প্রধানদের পৃথকভাবে স্বাগত জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান, এরপর নৌবাহিনী প্রধান এবং শেষে বিমানবাহিনী প্রধান নির্বাচন কমিশনে প্রবেশ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময় বাড়াল ইসি:সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আশাদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন জমার শেষ সময় আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (সোমবার) অফিস সময় পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা হবে। আর স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে দেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

নির্বাচনকে সামনে রেখে এক লাখ সেনা মাঠে থাকবে

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান, বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ : ০২:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে সন্ত্রাস, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টার প্রতি বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং শিগগিরই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতা, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং গণমাধ্যমে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের সময় মাঠে এক লাখ সেনা মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময় বাড়ানোসহ নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিরতা বরদাশত না করার কঠোর বার্তা দিয়ে মাঠপর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দেশে অতি দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, মেসেজ ক্লিয়ার, কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন-পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
দুপুর আড়াইটার পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।‎
‎বৈঠকে ৪ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে দুপুর ১২টায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এমন বিষয়কে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথবাহিনীর অভিযান চালু হবে। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে ইসি বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা রোববার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাহিনীসমূহকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করার প্রয়োজন তা তারা করবেন।’
‘আরেকটি বিষয় আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যেহেতু আলাদাভাবে আমাদের আরেকটা মিটিং আছে, সোমবার হওয়ার কথা ছিল, সম্ভবত সেটা রিসিডিউল হয়ে মঙ্গলবার হবে। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুক জানা দরকার ছিল বা আমরা যা আশা করি সেটা কেন পারা গেলো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথবাহিনীর অপারেশন পুনরায় চালু হবে। সেই যৌথবাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে, ভোটারদের মধ্যে, প্রার্থীদের মধ্যে, দলগুলোর মধ্যে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।’
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় এলাকা ভিত্তিক চেকপয়েন্ট এস্টাবলিশ করে চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে মর্মে জানা যায়, সেসব এলাকায়, রিমোট এলাকাসমূহে অধিকতর নজরদারি-খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।’
এই কমিশনার বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের বর্ণনা দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, পুলিশ থেকে এরই মধ্যে একটা প্রটোকল দাঁড় করিয়েছে। সেই প্রটোকল অনুযায়ী যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কারও কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন, তারা পুলিশের কাছে অ্যাপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘বেশকিছু জায়গাতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, পরক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে কি না, ক্ষতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এই তদন্তের প্রগ্রেস নিয়ে আমরা জানতে চেয়েছি। আমাদের জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ছয়জনকে আটক (গ্রেফতার) করা হয়েছে। এই ছয়জনই কোনো না কোনোভাবে এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূল যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই দুজন এবং একজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে যে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে, এই তিনজনের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত অভিযান চলমান বলে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা এগুলোকে তরান্বিত করতে এবং একনিষ্ঠভাবে এগিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছি।’
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ লাখ সেনা মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেনসানাউল্লাহ। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।‎
‎ইসির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক:নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানেরা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১টার দিকে বৈঠক শেষ হয়।এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১১টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে তিন বাহিনীর প্রধানদের পৃথকভাবে স্বাগত জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান, এরপর নৌবাহিনী প্রধান এবং শেষে বিমানবাহিনী প্রধান নির্বাচন কমিশনে প্রবেশ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
দেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময় বাড়াল ইসি:সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আবেদন জমার সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আশাদুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন জমার শেষ সময় আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (সোমবার) অফিস সময় পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা হবে। আর স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে দেওয়া হবে।