ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

ঋণের নামে সোয়া ৬ হাজার কোটি আত্মসাৎ এস আলমের

ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া মোট ঋণের পরিমান ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা।

গতকাল দুদক চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ অনুমোদন থেকে বিতরণ এবং পরিশোধ তদারকির প্রতিটি ধাপে কীভাবে অনিয়ম হয়েছে তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

মামলাগুলোয় এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ জনতা ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, ঋণের নামে অর্থ তুলে নিয়ে তা সুদে-আসলে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিল এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে মোট ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহণ করে সুদসহ মোট ২ হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা ২৩ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দেখানো সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলমকে করা হয়েছে দ্বিতীয় আসামি। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ২৮ জন কর্মকর্তার নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিলস লিমিটেডের নামে ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে ২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনতা ব্যাংকের ২৫ জন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।

তৃতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে ১ হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা ৬১ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলায় মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাইফুল আলম ছাড়াও জনতা ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

ঋণের নামে সোয়া ৬ হাজার কোটি আত্মসাৎ এস আলমের

প্রকাশ : ০১:৫৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই তিন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া মোট ঋণের পরিমান ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা।

গতকাল দুদক চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ অনুমোদন থেকে বিতরণ এবং পরিশোধ তদারকির প্রতিটি ধাপে কীভাবে অনিয়ম হয়েছে তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

মামলাগুলোয় এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ জনতা ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, ঋণের নামে অর্থ তুলে নিয়ে তা সুদে-আসলে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিল এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে মোট ৬ হাজার ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঋণ গ্রহণ করে সুদসহ মোট ২ হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা ২৩ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দেখানো সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলমকে করা হয়েছে দ্বিতীয় আসামি। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ২৮ জন কর্মকর্তার নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

দ্বিতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল মিলস লিমিটেডের নামে ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে ২ হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনতা ব্যাংকের ২৫ জন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।

তৃতীয় মামলায় অভিযোগ করা হয়, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে ১ হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা ৬১ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলায় মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাইফুল আলম ছাড়াও জনতা ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন।