ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চরমপন্থিরা ওই এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে উগ্রবাদীরা, ভারত বলছে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভিতরে কীভাবে উগ্রবাদী একটি দল প্রবেশের সুযোগ পেল, কেন এমন স্পর্শকাতর এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকানো গেল না এবং বাংলাদেশি হাইকমিশনার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে গুরুত্বের সঙ্গে।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের বিক্ষোভ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের আসতে দেওয়া হয়েছে কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকি অনুভব করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় রোববার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভিতরে বাংলাদেশ মিশনের অবস্থান খুবই নিরাপদ স্থানে, সেখানে হিন্দু চরমপন্থিরা ওই এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন? তাহলে তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা প্রত্যাশিত নয়।
গত শনিবার রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ব্যানারে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেছে একদল লোক। তারা প্রায় ২০ মিনিট ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের ওই বিক্ষোভকারীরা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয়।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তারা বলছে ২০-২৫ জনের দল। হিন্দু চরমপন্থি ২৫ বা ৩০ জনের একটা দল এত দূর পর্যন্ত আসতে পারবে কেন এমন একটা সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) এলাকার মধ্যে? তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে তাহলে? নরমালি (স্বাভাবিকভাবে) তাদের আসতে পারার কথা না। তারপর তারা হিন্দু নাগরিককে হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়ে চলে গেছে তা কিন্তু নয়। আরও অনেক কিছু বলেছে, সেটা আমরা জানি।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ নেই। কিন্তু আমরা শুনেছি যে তাকে (বাংলাদেশের হাইকমিশনার) হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এসে তাকে হুমকি দেবে কেন?’
এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকি বোধ করছে এবং হুমকি অনুভব করছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির চাণক্যপুরীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে ২০ থেকে ২৫ জনের উগ্রবাদী একটি দল চার থেকে পাঁচটি গাড়িতে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। শনিবার রাত ৮টা ৩৫ থেকে ৮টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান করে।
বাংলাদেশ হাউসের গেটের সামনে এসে বিক্ষোভকারীরা কিছুক্ষণ স্লোগান দিতে থাকে। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিল। এ সময় ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে’, ‘হাইকমিশনারকে ধর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, শনিবার তিনটি গাড়িতে করে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশ ভবনের গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করেন। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তিরা পরে মূল গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে চলে যান। তবে এ সময় তারা কোনো ধরনের শারীরিক হামলা চালাননি। কোনো কিছু ছোড়াছুড়িও করা হয়নি।
হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস মিনিস্টার বলেন, হতে পারে। তারা হিন্দি ও বাংলা মিলিয়ে বলছিলেন- ওখানে যদি হিন্দু মারা হয়, তাহলে আমরা তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলবো। তবে এগুলো ছিল কেবল কথাবার্তা ও চিৎকার। কোনো শারীরিক হামলা হয়নি।
ঘটনার পরপরই রাতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স উইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ডিফেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে চিৎকার করে চলে গেছেন এবং বাড়তি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
যা বললেন জয়সওয়াল: এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ বিষয় তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার কিছু তরুণ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলেন। তবে কোনো সময়ই হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসংক্রান্ত দৃশ্যমান প্রমাণ জনসমক্ষে উপলব্ধ রয়েছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সব বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।’

জনপ্রিয়

চরমপন্থিরা ওই এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে উগ্রবাদীরা, ভারত বলছে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা

প্রকাশ : ০২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি হিন্দু সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভিতরে কীভাবে উগ্রবাদী একটি দল প্রবেশের সুযোগ পেল, কেন এমন স্পর্শকাতর এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকানো গেল না এবং বাংলাদেশি হাইকমিশনার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে- এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে গুরুত্বের সঙ্গে।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেও ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের বিক্ষোভ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে চরমপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের আসতে দেওয়া হয়েছে কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকি অনুভব করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার রাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় রোববার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দিল্লিতে কূটনৈতিক এলাকার ভিতরে বাংলাদেশ মিশনের অবস্থান খুবই নিরাপদ স্থানে, সেখানে হিন্দু চরমপন্থিরা ওই এলাকার মধ্যে আসতে পারবে কেন? তাহলে তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনা প্রত্যাশিত নয়।
গত শনিবার রাতে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনা’র ব্যানারে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেছে একদল লোক। তারা প্রায় ২০ মিনিট ব্যানার নিয়ে বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান করে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের ওই বিক্ষোভকারীরা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয়।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘তারা বলছে ২০-২৫ জনের দল। হিন্দু চরমপন্থি ২৫ বা ৩০ জনের একটা দল এত দূর পর্যন্ত আসতে পারবে কেন এমন একটা সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) এলাকার মধ্যে? তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে তাহলে? নরমালি (স্বাভাবিকভাবে) তাদের আসতে পারার কথা না। তারপর তারা হিন্দু নাগরিককে হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়ে চলে গেছে তা কিন্তু নয়। আরও অনেক কিছু বলেছে, সেটা আমরা জানি।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ নেই। কিন্তু আমরা শুনেছি যে তাকে (বাংলাদেশের হাইকমিশনার) হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এসে তাকে হুমকি দেবে কেন?’
এ ঘটনার পর থেকে দিল্লিতে হাইকমিশনারের পরিবার ঝুঁকি বোধ করছে এবং হুমকি অনুভব করছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির চাণক্যপুরীর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে ২০ থেকে ২৫ জনের উগ্রবাদী একটি দল চার থেকে পাঁচটি গাড়িতে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। শনিবার রাত ৮টা ৩৫ থেকে ৮টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ হাউসের সামনে অবস্থান করে।
বাংলাদেশ হাউসের গেটের সামনে এসে বিক্ষোভকারীরা কিছুক্ষণ স্লোগান দিতে থাকে। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিল। এ সময় ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে’, ‘হাইকমিশনারকে ধর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, শনিবার তিনটি গাড়িতে করে কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশ ভবনের গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করেন। তারা বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে কথা বলছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তিরা পরে মূল গেটের সামনে এসে কিছুক্ষণ চিৎকার করে চলে যান। তবে এ সময় তারা কোনো ধরনের শারীরিক হামলা চালাননি। কোনো কিছু ছোড়াছুড়িও করা হয়নি।
হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস মিনিস্টার বলেন, হতে পারে। তারা হিন্দি ও বাংলা মিলিয়ে বলছিলেন- ওখানে যদি হিন্দু মারা হয়, তাহলে আমরা তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলবো। তবে এগুলো ছিল কেবল কথাবার্তা ও চিৎকার। কোনো শারীরিক হামলা হয়নি।
ঘটনার পরপরই রাতে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স উইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ডিফেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা তাকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসে চিৎকার করে চলে গেছেন এবং বাড়তি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
যা বললেন জয়সওয়াল: এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ বিষয় তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার কিছু তরুণ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলেন। তবে কোনো সময়ই হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসংক্রান্ত দৃশ্যমান প্রমাণ জনসমক্ষে উপলব্ধ রয়েছে। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থিত সব বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারতের গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।’