ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মতবিনিময়

সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তার আশ্বাস বিএনপির

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিএনপির কাছে নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের নিশ্চয়তা চান পত্রিকার সম্পাদক ও গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাংবাদিকরা দলটির কাছে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে প্রত্যাশা তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে ভীতির পরিবেশ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্ষমতায় না থাকলেও এখন সরকারের পাশাপাশি বিএনপির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
মত বিনিময় সভায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত ১৫/১৬ বছর স্বৈরাচার সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে সংবাদপত্রকে যেতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে আরও ভয়ংকরভাবে যেতে হয়েছে। ইতিপূর্বে যেকোনো সামরিক-বেসামরিক সরকারে মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। মিথ্যা মামলায় কয়েকজন সাংবাদিকদের কারাগারে যাওয়ার মতো ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ। পত্রিকার মালিকানা বদলে দেওয়া ও সম্পাদক পরিবর্তনসহ সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হতো। প্রথম আলো পত্রিকাও এমন শঙ্কার বাইরে ছিল না। যদি জুলাই অভ্যুত্থান না হতো তাহলে প্রথম আলো ও এর সম্পাদক পত্রিকাটির পরিবেশ এমন থাকতো না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনায় দল-মত-নির্বিশেষে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই রেশ বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল গণমাধ্যমের জন্য কঠিন একটা সময়। এর আবসান ঘটবে বলে আশা করি।’
মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘বিএনপি এই মুহূর্তে দেশের বৃহৎ দল। যদি দলটি ক্ষমতায় যায় তাদের কাছে মিডিয়াকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এ ছাড়া এখনো বড় দল হিসেবে বিএনপির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মিডিয়া হাউসে আগুন দেওয়া হয়নি। সর্বপ্রথম প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সময়ে দাঁড়িয়েও ভবিষ্যতে চোখ রাখতে চাই। সমালোচনা ও মত প্রকাশের ইস্যুকে অবশ্যই সুস্থ ধারার একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এই মুহূর্তে মিডিয়ার সঙ্গে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করছে। এর একটা কারণ হতে পারে দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসেনি। যখন তারা ক্ষমতায় আসবে তখনই দেখা যাবে তাদের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা এখনকার মতো বজায় থাকে কি না।’
তিনি বলেন, ‘গত অর্ধশতাব্দীতে যারাই দেশের ক্ষমতায় ছিল, কেউই গণমাধ্যমের করা বিশ্লেষণভিত্তিক সমালোচনা পছন্দ করেনি। আগামীর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এই আবহে প্রবেশ করবে বলে আশা করি।’
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গণমাধ্যমে নিরাপত্তা বজায় রাখা। চারদিকে এমন অবস্থা চলছে সেখানে কেউ নিরাপদবোধ করছেন না। বিএনপির কাছে আমাদের প্রত্যাশা আমাদেরনিরাপত্তা দিন, আমরা যেন প্রকৃত সত্য লিখতে পারি।’
সিনিয়র সাংবদিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিটির সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো নিরাপত্তা সংস্থার ফোন চাই না। আমরা নির্ভয়ে আজ করতে চাই। আমরা চাই না কেউ ফোন দিয়ে কেউ বলবে যে অমুক কে টকশোতে ডাকবেন না।’
যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে, আবার অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলতে পারে তারা ক্ষমতায় নেই। তবে ক্ষমতায় না থেকেও এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো যেত, ভূমিকা রাখা যেত। বিএনপি কি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে? বিএনপির নেতাকর্মীরা কি এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলেছে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরের মতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। গত ১৫ বছরেও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাইলেও প্রশ্ন করা যায় না, তবু আমরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনো যখন ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলি তখন ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অভিহিত করা হয়, ট্যাগ দেওয়া হয়। আগামী দিনে আশা করি, এর অবসান ঘটবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, দৈনিক যুগান্তরের আব্দুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাব সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বিবিসি বাংলার সাংবাদিক কাদির কল্লোল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীন গণমাধ্যমের নিশ্চয়তার আশ্বাস বিএনপির: অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মতামত শোনার পর বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ভিন্নমতে বিশ্বাসী। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নিরাপদ সাংবাদিকতার পবিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণমাধ্যমে এ হামলা সারা বিশ্ব দেখেছে, যা জাতির জন্য লজ্জার।’
তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবে আমরা শুধু দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না। এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন?’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরেও শুনেছি এক দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেব? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ গণমাধ্যমকে চিহ্নিত ও টার্গেট করে হামলা হচ্ছে। কিছু স্থাপনায় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি। এগুলো আরো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। নিরপেক্ষ না থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই তবে, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কি করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আগামীতে গণমাধ্যমে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয়

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মতবিনিময়

সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের নিশ্চয়তার আশ্বাস বিএনপির

প্রকাশ : ০২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির কাছে নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের নিশ্চয়তা চান পত্রিকার সম্পাদক ও গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাংবাদিকরা দলটির কাছে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
রোববার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে প্রত্যাশা তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে ভীতির পরিবেশ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্ষমতায় না থাকলেও এখন সরকারের পাশাপাশি বিএনপির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
মত বিনিময় সভায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘গত ১৫/১৬ বছর স্বৈরাচার সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি চাপ ও ভয়ভীতির মধ্যে দিয়ে সংবাদপত্রকে যেতে হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে আরও ভয়ংকরভাবে যেতে হয়েছে। ইতিপূর্বে যেকোনো সামরিক-বেসামরিক সরকারে মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। মিথ্যা মামলায় কয়েকজন সাংবাদিকদের কারাগারে যাওয়ার মতো ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ। পত্রিকার মালিকানা বদলে দেওয়া ও সম্পাদক পরিবর্তনসহ সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হতো। প্রথম আলো পত্রিকাও এমন শঙ্কার বাইরে ছিল না। যদি জুলাই অভ্যুত্থান না হতো তাহলে প্রথম আলো ও এর সম্পাদক পত্রিকাটির পরিবেশ এমন থাকতো না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের গণমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনায় দল-মত-নির্বিশেষে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই রেশ বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল গণমাধ্যমের জন্য কঠিন একটা সময়। এর আবসান ঘটবে বলে আশা করি।’
মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘বিএনপি এই মুহূর্তে দেশের বৃহৎ দল। যদি দলটি ক্ষমতায় যায় তাদের কাছে মিডিয়াকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এ ছাড়া এখনো বড় দল হিসেবে বিএনপির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মিডিয়া হাউসে আগুন দেওয়া হয়নি। সর্বপ্রথম প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এই সময়ে দাঁড়িয়েও ভবিষ্যতে চোখ রাখতে চাই। সমালোচনা ও মত প্রকাশের ইস্যুকে অবশ্যই সুস্থ ধারার একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এই মুহূর্তে মিডিয়ার সঙ্গে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করছে। এর একটা কারণ হতে পারে দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসেনি। যখন তারা ক্ষমতায় আসবে তখনই দেখা যাবে তাদের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা এখনকার মতো বজায় থাকে কি না।’
তিনি বলেন, ‘গত অর্ধশতাব্দীতে যারাই দেশের ক্ষমতায় ছিল, কেউই গণমাধ্যমের করা বিশ্লেষণভিত্তিক সমালোচনা পছন্দ করেনি। আগামীর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এই আবহে প্রবেশ করবে বলে আশা করি।’
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গণমাধ্যমে নিরাপত্তা বজায় রাখা। চারদিকে এমন অবস্থা চলছে সেখানে কেউ নিরাপদবোধ করছেন না। বিএনপির কাছে আমাদের প্রত্যাশা আমাদেরনিরাপত্তা দিন, আমরা যেন প্রকৃত সত্য লিখতে পারি।’
সিনিয়র সাংবদিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিটির সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো নিরাপত্তা সংস্থার ফোন চাই না। আমরা নির্ভয়ে আজ করতে চাই। আমরা চাই না কেউ ফোন দিয়ে কেউ বলবে যে অমুক কে টকশোতে ডাকবেন না।’
যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে, আবার অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলতে পারে তারা ক্ষমতায় নেই। তবে ক্ষমতায় না থেকেও এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো যেত, ভূমিকা রাখা যেত। বিএনপি কি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে? বিএনপির নেতাকর্মীরা কি এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলেছে?’
তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরের মতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। গত ১৫ বছরেও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাইলেও প্রশ্ন করা যায় না, তবু আমরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছি। তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনো যখন ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলি তখন ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অভিহিত করা হয়, ট্যাগ দেওয়া হয়। আগামী দিনে আশা করি, এর অবসান ঘটবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, দৈনিক যুগান্তরের আব্দুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসান, দৈনিক সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাব সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বিবিসি বাংলার সাংবাদিক কাদির কল্লোল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীন গণমাধ্যমের নিশ্চয়তার আশ্বাস বিএনপির: অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মতামত শোনার পর বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ভিন্নমতে বিশ্বাসী। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নিরাপদ সাংবাদিকতার পবিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণমাধ্যমে এ হামলা সারা বিশ্ব দেখেছে, যা জাতির জন্য লজ্জার।’
তিনি বলেন, ‘এটা কোনোভাবে আমরা শুধু দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না। এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচেয়ে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন?’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরেও শুনেছি এক দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেব? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ গণমাধ্যমকে চিহ্নিত ও টার্গেট করে হামলা হচ্ছে। কিছু স্থাপনায় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি। এগুলো আরো কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। নিরপেক্ষ না থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই তবে, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কি করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আগামীতে গণমাধ্যমে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।