জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির সাবেক দুই কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি)। অন্যদিকে রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ২০ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দুই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারকরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এছাড়াও কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের ঘটনায় ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে এবং হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকেও গ্রেপ্তারের আবেদন করেছে পুলিশ।
রামপুরায় গত বছর ১৮ ও ১৯ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দুই সাবেক বিজিবি কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক দুই আসামি হলেনÑ ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও খিলগাঁও থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। এসময় উপস্থিত দুই আসামিদের কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, ‘আপনারা কি দোষ স্বীকার করেন নাকি করেন না?’
জবাবে আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন বলেন, ‘তারা নির্দোষ। ট্রাইব্যুনালের কাছে তারা ন্যায়বিচার আশা করছেন।’
ট্রাইব্যুনাল আদেশে বলেন, এ মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন বাতিল করা হলো।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে ৮ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আগামী ২০ জানুয়ারি ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল-১। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার ৮ আসামির সবাই পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্য। এরমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানও রয়েছেন। তিনি এখনো পলাতক। আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে আসামিরা।
এছাড়াও কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের ঘটনায় ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর মো. সাদিকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে এবং হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকেও গ্রেপ্তারের আবেদন করেছে পুলিশ।
গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জাকির হোসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের ইন্সপেক্টর মো. জেহাদ হোসেন গত ১৫ ডিসেম্বর মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আর জুলাই আন্দোলনের সময় কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় গত ১১ ডিসেম্বর জাফরিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই সুমন বিশ্বাস।
আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন ঠিক করা হয়। মেজর সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, সামরিক আদালত থেকে গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত করে মেজর সাদিককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি এ মামলার জড়িত সন্দেহভাজন আসামি। সেনাবাহিনীতে চাকরি করা অবস্থায় গত ৩ জুলাই এবং ৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন কেবি কনভেনশন হলের ভিতর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত ও নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে একটি গোপন সভা অনুষ্ঠিত করে তাদের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও সমর্থকদের উৎসাহিত এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি বিষয়ক আলোচনা এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, মেজর সাদিক প্রধান প্রশিক্ষক এবং কানেক্টরের ভূমিকায় থেকে রুপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল সি-সেল নামক রিসোর্ট, পূর্বাচল নামক রিসোর্টে, কাটাবনের একটি রেস্টুরেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস সহ উত্তরায় ১২নং নম্বর সেক্টর, আঞ্চলিক পাসপোর্টের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটিতে ২নং গেইট সংলগ্ন তার স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনসহ তার ফ্ল্যাট বাসায় একাধিকবার এ ধরনের গোপন প্রশিক্ষণ/ওয়ার্কশপ করেছিল।
ব্রেকিং নিউজ
দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় ২০ জানুয়ারি
-
দেশ প্রতিবেদক - প্রকাশ : ০৩:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- ১৫৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে










