ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিত্রদের আরও ১০ আসন ছাড়ল বিএনপি, উপেক্ষিত ওলি এবং ইসলামী ঐক্যজোট

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১১:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দলুগলোকে আরও ১০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে এর মধ্যে যাদের নিবন্ধন নেই তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তবে মূল্যয়ন করা হয়নি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। উপেক্ষিত বিএনপির ২৫ বছরের ঘনিষ্ঠ শরিক ইসলামী ঐক্যজোট।

বুধবার দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিত্রদলগুলোর প্রার্থীদের নাম জানান।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা–১৩ আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। নড়াইল–২ আসনে প্রার্থী হবেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এনপিপি নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক পটুয়াখালী-৩, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।

পিরোজপুর-১ আসন বিএনপি ছেড়েছে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে। যশোর–৫ আসন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) মুফতি রশিদ ও ঝিনাইদহ–৪ আসন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

শরিকদের মধ্যে যাঁরা এখনো বিএনপিতে যোগ দেননি, তাঁরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপি যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে, সেখানে দলের কেউ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মিত্রদলগুলোর সঙ্গে আলোচনা আরও চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা–৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন। এ আসনে তিনি আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির সরকারে প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

কিন্তু বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এদিন দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলডিপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

অলি আহমদ বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ‘এলডিপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করবে। দলের যেসব প্রার্থী নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। এলডিপি এককভাবে মাঠে থেকে নির্বাচন করবে।’

এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেন, ‘যখন বিএনপির বিপদের দিন ছিল, তখন সবাই আমার বাসায় দৌড়ে আসত। সবাই টেলিফোনে করত। কিন্তু এখন কোনো বিএনপি নেতার সঙ্গে আমার টেলিফোনে কথা হয়নি। সামনাসামনি হয়তো অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কাছে আমি শর্টলিস্ট দিলাম, তারা অন্তত একটা টেলিফোন করে বলতে পারত যে, আপনাদের প্রতিনিধি পাঠান আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ১৪টা, ১২টা আসন দিতে হবে বলছি না, অন্তত ৮-৯টা আসন দিলে আমাদের দলটা টিকে যেত। কিন্তু মাত্র একটা আসন দিয়েছে।’

এভাবে অবমূল্যায়ন করা হবে, কল্পনাও করেননি উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গতকাল আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে চার ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ প্রস্তাব রাখেন এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। কোনো জোটের সঙ্গে থাকবে না। তখন সবাই একমত হয়ে দস্তখত করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ আলাপ করে নাই। আমি নিজে তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে দলের মনোনয়নের লিস্ট পাঠিয়েছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি। তাই আমাদের সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না। আমরা এককভাবে নির্বাচন করব।’

আমরা এলডিপিকে বিলুপ্ত করতে চাই না উল্লেখ করে দলটির সভাপতি বলেন, এলডিপির জন্ম হয়েছিল সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। দলটি সেই জায়গাতেই আছে।

দলটির মহাসচিবের পদত্যাগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘পদত্যাগপত্র আমার কাছে আসে নাই। সুতরাং আমি এটা বলতে পারব না।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি এরই মধ্যে ২৭২টি আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। অন্য ২৮টি থেকে সমঝোতার মাধ্যমে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আসন চারটি হলো সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নীলফামারী-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৪। আজ আরও ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হলো।

জনপ্রিয়

মিত্রদের আরও ১০ আসন ছাড়ল বিএনপি, উপেক্ষিত ওলি এবং ইসলামী ঐক্যজোট

প্রকাশ : ১১:৫৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দলুগলোকে আরও ১০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে এর মধ্যে যাদের নিবন্ধন নেই তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তবে মূল্যয়ন করা হয়নি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। উপেক্ষিত বিএনপির ২৫ বছরের ঘনিষ্ঠ শরিক ইসলামী ঐক্যজোট।

বুধবার দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিত্রদলগুলোর প্রার্থীদের নাম জানান।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা–১৩ আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। নড়াইল–২ আসনে প্রার্থী হবেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এনপিপি নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক পটুয়াখালী-৩, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।

পিরোজপুর-১ আসন বিএনপি ছেড়েছে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে। যশোর–৫ আসন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) মুফতি রশিদ ও ঝিনাইদহ–৪ আসন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

শরিকদের মধ্যে যাঁরা এখনো বিএনপিতে যোগ দেননি, তাঁরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে প্রার্থী হবেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। বিএনপি যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে, সেখানে দলের কেউ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মিত্রদলগুলোর সঙ্গে আলোচনা আরও চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা–৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন। এ আসনে তিনি আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির সরকারে প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

কিন্তু বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এদিন দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলডিপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।

অলি আহমদ বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ‘এলডিপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করবে। দলের যেসব প্রার্থী নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। এলডিপি এককভাবে মাঠে থেকে নির্বাচন করবে।’

এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ বলেন, ‘যখন বিএনপির বিপদের দিন ছিল, তখন সবাই আমার বাসায় দৌড়ে আসত। সবাই টেলিফোনে করত। কিন্তু এখন কোনো বিএনপি নেতার সঙ্গে আমার টেলিফোনে কথা হয়নি। সামনাসামনি হয়তো অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কাছে আমি শর্টলিস্ট দিলাম, তারা অন্তত একটা টেলিফোন করে বলতে পারত যে, আপনাদের প্রতিনিধি পাঠান আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ১৪টা, ১২টা আসন দিতে হবে বলছি না, অন্তত ৮-৯টা আসন দিলে আমাদের দলটা টিকে যেত। কিন্তু মাত্র একটা আসন দিয়েছে।’

এভাবে অবমূল্যায়ন করা হবে, কল্পনাও করেননি উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গতকাল আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে চার ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ প্রস্তাব রাখেন এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। কোনো জোটের সঙ্গে থাকবে না। তখন সবাই একমত হয়ে দস্তখত করেছেন। সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে আমাদের সঙ্গে কেউ আলাপ করে নাই। আমি নিজে তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে দলের মনোনয়নের লিস্ট পাঠিয়েছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি। তাই আমাদের সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না। আমরা এককভাবে নির্বাচন করব।’

আমরা এলডিপিকে বিলুপ্ত করতে চাই না উল্লেখ করে দলটির সভাপতি বলেন, এলডিপির জন্ম হয়েছিল সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। দলটি সেই জায়গাতেই আছে।

দলটির মহাসচিবের পদত্যাগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমেদ বলেন, ‘পদত্যাগপত্র আমার কাছে আসে নাই। সুতরাং আমি এটা বলতে পারব না।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি এরই মধ্যে ২৭২টি আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। অন্য ২৮টি থেকে সমঝোতার মাধ্যমে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আসন চারটি হলো সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নীলফামারী-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৪। আজ আরও ১০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হলো।