ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১০:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তুলতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে ও ঘরে ফিরে আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না। আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমি এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। আজ আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার।

তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। হাদি চেয়েছিল এ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ওসমান হাদিসহ একাত্তরে যারা শহিদ হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে যারা বিভিন্নভাবে গুম-খুনের শিকার হয়েছে, এই মানুষদের রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয় তাহলে আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

তিনি বলেন, ৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।

কয়েকদিন আগে ওসমান শহীদ হয়েছে বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি পরপর তিনবার বলেন আমরা দেশের শান্তি চাই।

মার্টিন লুথারের আই হ্যাভ অ্যা ড্রিমের উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ দেশকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তাঁর প্রয়োজন। তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেন তিনি।

তারেক রহমান এ সময় মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ।’ তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরেন তারেক রহমানের সঙ্গে আছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দরে নেমেই তাঁকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান।

বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান যান জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান

প্রকাশ : ১০:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তুলতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে ও ঘরে ফিরে আসতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না। আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমি এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। আজ আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার।

তারেক রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের চব্বিশের আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। হাদি চেয়েছিল এ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ওসমান হাদিসহ একাত্তরে যারা শহিদ হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে যারা বিভিন্নভাবে গুম-খুনের শিকার হয়েছে, এই মানুষদের রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয় তাহলে আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

তিনি বলেন, ৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।

কয়েকদিন আগে ওসমান শহীদ হয়েছে বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে বলেন তিনি। গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি পরপর তিনবার বলেন আমরা দেশের শান্তি চাই।

মার্টিন লুথারের আই হ্যাভ অ্যা ড্রিমের উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ দেশকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তাঁর প্রয়োজন। তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেন তিনি।

তারেক রহমান এ সময় মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে করব কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ।’ তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফেরেন তারেক রহমানের সঙ্গে আছেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। বিমানবন্দরে নেমেই তাঁকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান।

বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান যান জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে। তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।