ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কেটে গেছে ধোঁয়াশা, শেষ হতে চলেছে কালো অধ্যায়

নির্বাচন নিয়ে সংশয় দূর হয়েছে

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৩:০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সব সংশয়-সন্দেহ দূর হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল এখন আর নেই। শেষ হতে চলেছে দেশের কালো অধ্যায়।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এখন আর মাত্র সাত সপ্তাহ দূরে, ৪৯ দিন। নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে আমার কখনোই সংশয় ছিল না; যদিও কিছু সময়ে আমাকে নিজের উচ্ছ্বাস সংযত করতে হয়েছে।
তিনি লেখেন, তবে গতকালের (গত বৃহস্পতিবারের) ঘটনাবলি সমালোচকদের মনে থাকা শেষ সন্দেহটুকুও দূর করে দিয়েছে- ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে কি না, সে প্রশ্ন আর নেই।
প্রেস সচিব আরও লেখেন, মৌসুমের সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। এটি ছিল নির্বাচনের জন্য দেশের প্রস্তুতির স্পষ্ট প্রমাণ।
শফিকুল আলম লেখেন, এক-দুদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। এরপর হাজার হাজার প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন। ছাপাখানাগুলো পুরোদমে চালু হবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে শুরু হবে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিতর্ক, যার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যাবে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ গভীর ক্ষত বহন করছে। একটি ক্রমেই প্রশস্ত হয়ে চলা বিভাজন, যা নিরাময় করতে পারে একমাত্র একটি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।
নির্বাচনকেন্দ্রিক ধোঁয়াশা কেটে গেছে: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে বলে মন্তব্য করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, এ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এবং এ স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের কল্যাণে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। আর আজ তারেক রহমানের হাত ধরে সেই গণতন্ত্র পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হবে।
জনমনে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টতা নিয়ে এসেছে। মানুষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
কালো অধ্যায় শেষ হতে চলেছে: আজকের বাংলাদেশ পেতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছর ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নিয়ে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই কালো অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। কিন্তু কালো ছায়া এখনো যায়নি।
তিনি বলেন, একটা দল এখন যুবকদের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার কথা বলছে। কেউ বেকার ভাতা গ্রহণ করুক এমন কথা শুনতেও চায় না জামায়াত।
অনুষ্ঠানে জাময়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ২৬-এর নির্বাচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কেটেছে: এদিকে তারেক রহমান বাংলাদেশের সম্মুখ রাজনীতিতে পুনরাগমন করায় এটিকে দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ঘটনা বলে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না-এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।’
গত বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘ সতেরো বছর জুলুমের শিকার হয়ে প্রবাসজীবন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তারেক রহমান ও তার পরিবার নিদারুণ কষ্ট, জুলুম, নিপীড়ন ও লাঞ্ছনার শিকার হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন-যা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গর্ব ও সম্মানের।
আখতার হোসেন তার পোস্টে জুলাইয়ের শহিদদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন বলেন, আজকের এই প্রত্যাবর্তনের কারিগর জুলাইয়ের শহীদরা। জীবন ও রক্ত দিয়ে তারা যে আশা বাস্তব করেছেন, তা নতুন বাংলাদেশের পথ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় শহীদরা জীবন দিয়েছেন। সেই নতুন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। প্রত্যাশা করি, জুলাইয়ের কাঙ্ক্ষিত নতুন দেশ, নতুন রাজনীতি ও নতুন স্বপ্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারেক রহমানের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এগিয়ে যাবে।
এনসিপি সদস্যসচিবের মতে, এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন যাতে না পেছানো হয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে সে দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসিকে সতর্ক করেছে।
গত বুধবার দুপুরে এনসিপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানায়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের যে অস্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে আমরা তাদের (ইসি) বলেছি যে ১২ তারিখেই যাতে ইলেকশনটা আমরা সম্পন্ন করতে পারি। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ আছে, সে বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছি।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে, তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে ইসি বৈঠক করেছে, তাদের সে সক্ষমতা আছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলেছি, যাতে এই ঘোষিত ডেট (তারিখ) না পেছায়। ইলেকশনটা যথাসময় অনুষ্ঠিত হয়। কারণ, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ওয়েতে (ভাবে) এবং ভারত বাংলাদেশে ডিস্টেবিলাইজ (অস্থিতিশীল) করে ইলেকশনটাকে পেছানোর চেষ্টা করছে।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় জাতীয় পার্টি: এবারের নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচন থেকে সরে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
শুক্রবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এদিন সারা দেশের সংসদীয় আসনগুলোর জন্য জাপার চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনমুখী একটি দল এবং আমরা জনরায়ের ওপর শ্রদ্ধাশীল। তবে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আমরা লক্ষ করছি অন্তর্বর্তী সরকার সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সমান না হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’
দলের সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য উন্মুখ। অনেক আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় বাছাই প্রক্রিয়ায় আমাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আমরা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করছি। আমরা এখনও আশা করি, সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ দেবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে দেশের রাজনীতিতে গভীর সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে অনেকে এর আগে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর চরম অনৈক্যের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে সব সংশয়-সন্দেহ ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের হাওয়া জোরেশোরেই বইতে দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে।

জনপ্রিয়

কেটে গেছে ধোঁয়াশা, শেষ হতে চলেছে কালো অধ্যায়

নির্বাচন নিয়ে সংশয় দূর হয়েছে

প্রকাশ : ০৩:০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সব সংশয়-সন্দেহ দূর হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল এখন আর নেই। শেষ হতে চলেছে দেশের কালো অধ্যায়।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট এখন আর মাত্র সাত সপ্তাহ দূরে, ৪৯ দিন। নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে আমার কখনোই সংশয় ছিল না; যদিও কিছু সময়ে আমাকে নিজের উচ্ছ্বাস সংযত করতে হয়েছে।
তিনি লেখেন, তবে গতকালের (গত বৃহস্পতিবারের) ঘটনাবলি সমালোচকদের মনে থাকা শেষ সন্দেহটুকুও দূর করে দিয়েছে- ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে কি না, সে প্রশ্ন আর নেই।
প্রেস সচিব আরও লেখেন, মৌসুমের সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। এটি ছিল নির্বাচনের জন্য দেশের প্রস্তুতির স্পষ্ট প্রমাণ।
শফিকুল আলম লেখেন, এক-দুদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। এরপর হাজার হাজার প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন। ছাপাখানাগুলো পুরোদমে চালু হবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে শুরু হবে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিতর্ক, যার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যাবে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ গভীর ক্ষত বহন করছে। একটি ক্রমেই প্রশস্ত হয়ে চলা বিভাজন, যা নিরাময় করতে পারে একমাত্র একটি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।
নির্বাচনকেন্দ্রিক ধোঁয়াশা কেটে গেছে: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে বলে মন্তব্য করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, এ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এবং এ স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের কল্যাণে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। আর আজ তারেক রহমানের হাত ধরে সেই গণতন্ত্র পূর্ণরূপে প্রস্ফুটিত হবে।
জনমনে নির্বাচনকেন্দ্রিক যে জটিলতা বা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা আব্বাস। তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টতা নিয়ে এসেছে। মানুষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
কালো অধ্যায় শেষ হতে চলেছে: আজকের বাংলাদেশ পেতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর চীনমৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছর ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নিয়ে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই কালো অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। কিন্তু কালো ছায়া এখনো যায়নি।
তিনি বলেন, একটা দল এখন যুবকদের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার কথা বলছে। কেউ বেকার ভাতা গ্রহণ করুক এমন কথা শুনতেও চায় না জামায়াত।
অনুষ্ঠানে জাময়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ২৬-এর নির্বাচনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কেটেছে: এদিকে তারেক রহমান বাংলাদেশের সম্মুখ রাজনীতিতে পুনরাগমন করায় এটিকে দেশের রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ঘটনা বলে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না-এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।’
গত বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, দীর্ঘ সতেরো বছর জুলুমের শিকার হয়ে প্রবাসজীবন শেষে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তারেক রহমান ও তার পরিবার নিদারুণ কষ্ট, জুলুম, নিপীড়ন ও লাঞ্ছনার শিকার হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন-যা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গর্ব ও সম্মানের।
আখতার হোসেন তার পোস্টে জুলাইয়ের শহিদদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন বলেন, আজকের এই প্রত্যাবর্তনের কারিগর জুলাইয়ের শহীদরা। জীবন ও রক্ত দিয়ে তারা যে আশা বাস্তব করেছেন, তা নতুন বাংলাদেশের পথ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় শহীদরা জীবন দিয়েছেন। সেই নতুন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। প্রত্যাশা করি, জুলাইয়ের কাঙ্ক্ষিত নতুন দেশ, নতুন রাজনীতি ও নতুন স্বপ্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারেক রহমানের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এগিয়ে যাবে।
এনসিপি সদস্যসচিবের মতে, এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন যাতে না পেছানো হয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে সে দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসিকে সতর্ক করেছে।
গত বুধবার দুপুরে এনসিপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানায়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের যে অস্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে, সেখান থেকে আমরা তাদের (ইসি) বলেছি যে ১২ তারিখেই যাতে ইলেকশনটা আমরা সম্পন্ন করতে পারি। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ আছে, সে বিষয়ে আমরা জানতে চেয়েছি।’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে, তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে ইসি বৈঠক করেছে, তাদের সে সক্ষমতা আছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলেছি, যাতে এই ঘোষিত ডেট (তারিখ) না পেছায়। ইলেকশনটা যথাসময় অনুষ্ঠিত হয়। কারণ, আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ওয়েতে (ভাবে) এবং ভারত বাংলাদেশে ডিস্টেবিলাইজ (অস্থিতিশীল) করে ইলেকশনটাকে পেছানোর চেষ্টা করছে।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় জাতীয় পার্টি: এবারের নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচন থেকে সরে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
শুক্রবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এদিন সারা দেশের সংসদীয় আসনগুলোর জন্য জাপার চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময় নির্বাচনমুখী একটি দল এবং আমরা জনরায়ের ওপর শ্রদ্ধাশীল। তবে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আমরা লক্ষ করছি অন্তর্বর্তী সরকার সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সমান না হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকে, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা নির্বাচন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’
দলের সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের জন্য উন্মুখ। অনেক আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় বাছাই প্রক্রিয়ায় আমাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে আমরা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করছি। আমরা এখনও আশা করি, সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমান সুযোগ দেবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে দেশের রাজনীতিতে গভীর সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে অনেকে এর আগে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর চরম অনৈক্যের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে সব সংশয়-সন্দেহ ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের হাওয়া জোরেশোরেই বইতে দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে।