দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অপরদিকে, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় বিকালে তারেক রহমানের পক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের নেতারা।
শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাবা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে যান তারেক রহমান।
প্রথমেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করেন তারেক রহমান। কবরের সামনে কিছু সময় তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং সুরা ফাতিহা পাঠ করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিবসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলা ২টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বাবার করবের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। লাল-সবুজ রঙে সাজানো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বিশেষ নিরাপত্তা-বেষ্টিত বাসে চড়ে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যান। গত বৃহস্পতিবার এই বাসেই তিনি বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে যান। তারেক রহমান বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী লক্ষ করা গেছে। কারো হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কেউ ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে এসে একসঙ্গে জড়ো হন। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন- ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে; আজকের এই দিনে, জিয়া তোমায় মনে পড়ে; তারেক রহমান বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে।’
তারেক রহমানের বাবার কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগও দেখা গেছে। তারা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে জিয়াউর রহমান, যা বাস্তবায়ন করেছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের হাত ধরে তা এখন প্রস্ফুটিত হবে। নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতাসহ দেশের সব ধোঁয়াশা তারেক রহমানের আগমনে তা কেটে গেছে।
নেতাকর্মীরা জানান, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মুহূর্ত।
গতকাল বেলা ২টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তাই বহন করে।’ তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ উপলক্ষে শেরেবাংলা নগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জিয়ার সমাধি ও আশপাশের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপালন করেছেন।
দেখা যায়, দুপুরের আগেই জিয়া উদ্যান সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে জনসমাগম বাড়তে থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতাকর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
মাজার জিয়ারতের পর ৫টা ৫ মিনিটে তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
তারেক রহমানের পক্ষে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের নেতারা।
শুক্রবার বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে স্মৃতিসৌধের বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতারা। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে পারেননি।
বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্মৃতিসৌধের মূল ফটকে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে তিনি (তারেক রহমান) ওখান থেকে স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। যেহেতু পুষ্পস্তবক অর্পণ করার একটি নিয়মনীতি রয়েছে, সেটি সূর্যাস্তের আগে, তাই আমরা তাঁর পক্ষ থেকে ৫টা ৬ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলাম। তিনি কিছুক্ষণ পরেই আসবেন।’
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় ও আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও লুৎফুজ্জামান বাবর, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে দলের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস প্রমুখ।
গত বৃহস্পতিবার তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে এদিন বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে যেতে যানজট না থাকলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। এদিন তারেক রহমানের সেই পথে যেতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। কারণ রাস্তার দুই ধারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সারি, মানুষের ঢল। কেবল নেতা-কর্মী নন, অনেকেই এসেছেন ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একপলক দেখার কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাবর্তনের একটি স্মরণীয় দিনের সাক্ষী হতে। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ যেন লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব বিরাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রেকিং নিউজ
স্মৃতিসৌধে ফুল নিয়ে গেলেন বিএনপি নেতারা
১৮ বছর পর বাবার কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
-
দেশ প্রতিবেদক - প্রকাশ : ০৩:১১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- ১৬৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জনপ্রিয়










