শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রোববার দেশের সব বিভাগীয় শহরে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শনিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজেও এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাত ১১টার দিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শাহবাগে আসেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আন্দোলনরতদের উদ্দেশে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরেন। ৭ জানুয়ারির মধ্যে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করারও অঙ্গীকার করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন,শহীদ ওসমান হাদিকে যারা খুন করেছে, এর পেছনে যারা কাজ করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। মনে রাখতে হবে একটা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাজটা করতে হচ্ছে। যে তথ্যটা বলা হবে, সেটি যেন শত্রুকে কোনোভাবে সাহায্য না করে।
উপদেষ্টার বক্তব্যের আগে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, এই ঘটনার পেছনে কারা আছে তা উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়োগ করেছে সরকার। ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ২১৮ কোটি সই করা চেক উদ্ধার করা হয়েছে। যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। আগামী দশ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যে এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার দুপুর থেকে শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
দেশ প্রতিবেদক 
















