বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে বুধবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মো. আব্দুল মালেক জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিন বাহিনীর প্রধানগন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন
জানাজার আগে সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দোয়া করবেন। আল্লাহতায়ালা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘কারও কাছে খালেদা জিয়ার ঋণ থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। মা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় ওনার কোনো ব্যবহারে ও কাথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।’
বেগম জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
বিজয় সরণি, খামার বাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ, মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এ যেন এক জনসমুদ্র। অনেক এলাকা থেকে প্রতি মুহূর্তে জনতার ঢল আসতে দেখা গেছে। সবার একটাই উদ্দেশ্য- নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানানো। আবেগ আর শোকের মিছিল। বুকে কারো বা কালো ব্যাচ। কেউ বা দোয়া পড়তে পড়তে যাচ্ছেন। আশপাশের আবাসিক এলাকার ভেতরের অলি গলি থেকেও আসছে দলে দলে মানুষ।
মেট্রোরেলের একাধিক স্টেশনে দেখা গেছে, উঠার এবং নামার সিঁড়িগুলোতে মানুষের তীব্র ভিড়। মানুষের ঢলে বিজয় স্মরণী ও ফার্মগেট পুরো স্টেশন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ট্রেনের ভেতরেও দাঁড়ানোর জায়গা ছিলো না। মতিঝিল স্টেশনেও ট্রেন থেকে মানুষ নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ট্রেন থামার সঙ্গে সঙ্গেই হুড়মুড় করে মানুষ ট্রেনে উঠে যাচ্ছিলেন। ভিড়ের কারণে স্টেশনগুলোতে প্রবেশ ও বহির্গমন গেইট উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জানাজায় দাঁড়ানোর জন্য মানুষজন মেট্রোরেলের প্লাটফর্ম ও উন্মুক্ত জায়গাও ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এর আগে দুপুর ১২টার একটু পর কফিনবাহী জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়ি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আসে। সকাল ১১টার দিকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বরের তারেক রহমানের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যাত্রা করে। এদিন সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তারেক রহমানের বাসায় পৌঁছায়।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি ভারতের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের হাতে এই শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহমর্মিতা জানিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
দেশ প্রতিবেদক 









