ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ তম গ্রেডে সর্বসাকুল্যে বেতন দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজারে

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৭:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল প্রতিবেদন চূড়ান্ত। আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে পে-কমিশন।

প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এজন্য সরকারের বাড়তি দরকার হবে, প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।

বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন প্রায় ১৫ লাখ। সবশেষ যাদের বেতন বাড়ানো হয় ২০১৫ সালে। এরপর, গত জুলাইয়ে এ সংক্রান্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমানো হচ্ছে না গ্রেডের সংখ্যা। দীর্ঘদিনের চড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আমলে নেয়া হয়েছে।

সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪৪ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ২০ তম গ্রেডে। ফলে সর্বসাকুল্যে যা দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজারে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল বেতন এখন সচিবদের ৭৮ হাজার টাকা। ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে যা প্রস্তাব করা হচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার। এর সাথে অন্যান্য ভাতা ও আনুতোষিক মিলিয়ে একজনের মোট বেতন ছাড়াতে পারে তিন লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের তাদের বেতন-ভাতাবাবদ বরাদ্দ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তুবায়ন হলে এই খাতে খরচ বাড়বে আরো প্রায় ১ লাখ কোটি।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এমন ব্যয়ের এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রভাবের জন্য জনগণ প্রস্তুত কিনা, তা যাচাই করতে হবে। এমন ব্যয়ের সক্ষমতা সরকারের আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের।

কমিশন গঠন করলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিধায় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

জনপ্রিয়

২০ তম গ্রেডে সর্বসাকুল্যে বেতন দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজারে

প্রকাশ : ০৭:২৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল প্রতিবেদন চূড়ান্ত। আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে পে-কমিশন।

প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এজন্য সরকারের বাড়তি দরকার হবে, প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।

বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন প্রায় ১৫ লাখ। সবশেষ যাদের বেতন বাড়ানো হয় ২০১৫ সালে। এরপর, গত জুলাইয়ে এ সংক্রান্ত কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশমালা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে।

এবারের পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমানো হচ্ছে না গ্রেডের সংখ্যা। দীর্ঘদিনের চড়া মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আমলে নেয়া হয়েছে।

সুপারিশমালা অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থাকলেও তা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪৪ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ২০ তম গ্রেডে। ফলে সর্বসাকুল্যে যা দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজারে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল বেতন এখন সচিবদের ৭৮ হাজার টাকা। ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে যা প্রস্তাব করা হচ্ছে এক লাখ ৬০ হাজার। এর সাথে অন্যান্য ভাতা ও আনুতোষিক মিলিয়ে একজনের মোট বেতন ছাড়াতে পারে তিন লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের তাদের বেতন-ভাতাবাবদ বরাদ্দ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তুবায়ন হলে এই খাতে খরচ বাড়বে আরো প্রায় ১ লাখ কোটি।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এমন ব্যয়ের এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রভাবের জন্য জনগণ প্রস্তুত কিনা, তা যাচাই করতে হবে। এমন ব্যয়ের সক্ষমতা সরকারের আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের।

কমিশন গঠন করলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিধায় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।