অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আশিক চৌধুরী জানান, রোববার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দর–কষাকষির অগ্রগতির প্রশংসা করেছে এবং এটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এই নেগোসিয়েশন ভবিষ্যতে আরও এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। যেহেতু তারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) সময় চেয়েছে, সে কারণে বিষয়টি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে নেগোসিয়েশনটি আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকারের সময়ে চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না, আমার মনে হয়, এটা নিশ্চয়তার মাত্রা বিবেচনায় বলা যায়। কারণ আর দুই কার্যদিবস আছে। এর মধ্যে ওনারা (ডিপি ওয়ার্ল্ড) ফেরত আসবে, তারপর আমরা আমাদের ক্যাবিনেটে নিয়ে এটাকে অনুমোদন করিয়ে স্বাক্ষর করব, সময়ের বিবেচনায় এই প্রক্রিয়াটা খুব কঠিন হবে।’
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালে এই প্রজেক্টটা শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে শুরু হওয়া ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’
এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে সকালে জেটিতে কিছুক্ষণ পণ্য খালাসের কাজ চললেও এখন সেটিও বন্ধ আছে। বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এবারের ধর্মঘটে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটারে লাইটারিং) অপারেশনাল কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগের ধর্মঘটে বন্দরের বহির্নোঙরে কার্যক্রম সচল ছিল।
দেশ প্রতিবেদক 









