ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনিয়র বৃত্তি পাচ্ছে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১০:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ– এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।

এরমধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জেএস (ভোকেশনাল) ও জেডিসি (ভোকেশনাল) থেকে ২০৮ জন বৃত্তি পেয়েছে। ট্যালেন্টপুলে ৮৯ জন ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১১৯ জনসহ মোট ২০৮ জন বৃত্তি পেয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃত্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার উন্নয়ন ও মেধাবীদের সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। শিক্ষার্থীরা দেশের গর্ব, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এ বৃত্তি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। আমি আশা করি, এ শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে, জ্ঞানচর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষক-অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-অভিভাবকদের উৎসাহ ও পরিশ্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য সম্ভব হতো না। সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ও মেধাবি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যা শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

গত বছরের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলও। গত বছরের বৃত্তি পরীক্ষাটি এ বছর নিয়ে নেয়া হবে। সে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য থাকবে ৮০ শতাংশ এবং কিন্ডারগার্ডেনের জন্য ২০ শতাংশ। এপ্রিলে কোরবানি ঈদের আগে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী বছর জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ভেবে দেখবো। আমরা মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত দিনে আপনাদের সাহযোগিতা নিয়েই নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। এবারো আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমরা সন্ধ্যার পরে পড়ার টেবিলে বসতাম- সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বলেছি, সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে সারা দেশে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। এ বৃত্তির টাকা দুই বছর (নবম-দশম) পর্যন্ত দেওয়া হবে। এছাড়া, তাদের বছরে এককালীন অর্থও দেওয়া হবে।

ফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।

জনপ্রিয়

জুনিয়র বৃত্তি পাচ্ছে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১০:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ– এই দুই গ্রেডে মোট ৪৫ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।

এরমধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জেএস (ভোকেশনাল) ও জেডিসি (ভোকেশনাল) থেকে ২০৮ জন বৃত্তি পেয়েছে। ট্যালেন্টপুলে ৮৯ জন ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১১৯ জনসহ মোট ২০৮ জন বৃত্তি পেয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৃত্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার উন্নয়ন ও মেধাবীদের সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় যারা বৃত্তি অর্জন করেছে, তাদের সবাইকে অভিনন্দন। শিক্ষার্থীরা দেশের গর্ব, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। এ বৃত্তি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। আমি আশা করি, এ শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে, জ্ঞানচর্চা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষক-অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-অভিভাবকদের উৎসাহ ও পরিশ্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য সম্ভব হতো না। সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ও মেধাবি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যা শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।

গত বছরের স্থগিত থাকা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে কিন্ডারগার্টেন স্কুলও। গত বছরের বৃত্তি পরীক্ষাটি এ বছর নিয়ে নেয়া হবে। সে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য থাকবে ৮০ শতাংশ এবং কিন্ডারগার্ডেনের জন্য ২০ শতাংশ। এপ্রিলে কোরবানি ঈদের আগে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী বছর জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা ভেবে দেখবো। আমরা মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিগত দিনে আপনাদের সাহযোগিতা নিয়েই নকল প্রতিরোধ করেছিলাম। এবারো আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমরা সন্ধ্যার পরে পড়ার টেবিলে বসতাম- সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বলেছি, সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে সারা দেশে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন।

শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল জানতে পারবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। এ বৃত্তির টাকা দুই বছর (নবম-দশম) পর্যন্ত দেওয়া হবে। এছাড়া, তাদের বছরে এককালীন অর্থও দেওয়া হবে।

ফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।