জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা যে রাজনৈতিক সমঝোতায় এসেছি, সেটার বাস্তবায়ন এখন থেকে শুরু করতে চাই। আমরা একমত হয়েছি যে দুটি ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি করা হবে। এর একটি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবে। স্পিকারের সঙ্গে একই দিন ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন। আমরা এখন সেই প্রস্তাব দিচ্ছি।
সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঠেকাতে রিট আবেদন করা হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের কোনো রিট সম্পর্কে তার জানা নেই।
তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো রিট হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। রিট হতে পারে। যে কেউ চিঠি দিতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান, প্রচলিত রীতি ও প্রথা অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি সংসদীয় বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান এখনো বহাল রয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধানে সেই বিধান রয়েছে। এটি আমাদের প্রচলিত রীতি ও প্রথাও। সুতরাং সে অনুযায়ীই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ বিধান পরিবর্তন হলে তখন তা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তারাই সংসদে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন।
তিনি বলেন, “সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’ নামে কোনো বিধান নেই।”
তার ভাষ্য, “যারা ওই কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তারা নিজেদের উদ্যোগে নিয়েছেন। কিন্তু সে পরিচয়ে তারা জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারবেন না। সংসদে অংশগ্রহণের অধিকার কেবল সংসদ সদস্যদের।”
তবে সেমিনার বা জনসভায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অধিকারের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কেউ দাবি তুলতে পারেন। কিন্তু অসাংবিধানিক কোনো বিষয় আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে পারি না।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণভোটের ভিত্তিতে যদি সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল গঠন করা হয়, তাহলে বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী এনে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তখন সবকিছু নির্ধারণ করতে হবে—কারা সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন, কে শপথ পড়াবেন এবং কীভাবে শপথ হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আলোচনার বিষয়।
জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক ‘কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অর্ডার ২০২৫’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়েছে—এমন তথ্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি জেনেছেন যে ওই আদেশটি সংবিধানবিরোধী ও আল্ট্রা ভাইরেস দাবি করে একটি রিট দায়ের হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালত কী মতামত দেন, তা দেখা যাক। এরপর বিষয়টি সংসদে আলোচনায় নেওয়া যেতে পারে। সবকিছু আইনসম্মত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়, সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম দিনেই উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। কোনগুলো গ্রহণ করা হবে আর কোনগুলো হবে না—তা সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হবে।
দেশ প্রতিবেদক 









