ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়: প্রধানমন্ত্রী

  • দেশ প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ১১:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ২২৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়। জাতীয় সংসদকে ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন– সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজার প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা শহীদ হয়েছেন আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। যেসব পরিবার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তাদেরকেও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।q

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলা কিংবা তথাকথিত ‘আয়না ঘর’—কোনো কিছুই মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। যাদের সাহসিকতায় দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই শুভ মুহূর্ত দেখে যেতে পারেননি। খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোস করেননি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নন। এই মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার, আজ থেকে এই মহান সংসদের নির্বাচিত প্রত্যেক সদস্য আপনাদের চোখে সমান। আপনারা এই সংসদের অভিভাবক। আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।

দেশে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

জনপ্রিয়

ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়। জাতীয় সংসদকে ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্দোলন– সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজার প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান পর্যন্ত যারা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা শহীদ হয়েছেন আমি তাদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। যেসব পরিবার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তাদেরকেও গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।q

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলা কিংবা তথাকথিত ‘আয়না ঘর’—কোনো কিছুই মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। যাদের সাহসিকতায় দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই শুভ মুহূর্ত দেখে যেতে পারেননি। খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোস করেননি।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নন। এই মহান জাতীয় সংসদের স্পিকার, আজ থেকে এই মহান সংসদের নির্বাচিত প্রত্যেক সদস্য আপনাদের চোখে সমান। আপনারা এই সংসদের অভিভাবক। আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।

দেশে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই।